ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্রসফায়ার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, নতুন আইজিপি নিয়োগে আলোচনায় ৩ কর্মকর্তা কুমিল্লায় ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকার বাসমতি চাল ও ফুচকাসহ পিকআপ আটক ইউপি নির্বাচনে অনিয়ম ঠেকাতে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বাড়ি ফেরার পথে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা: ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট চলে গেলেন চিত্রনায়িকা পপির মা মরিয়ম বেগম ঊর্ধ্বমুখী সূচকে চলছে পুঁজিবাজারের লেনদেন রাবি শিক্ষকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছাত্রদল নেতা বুলবুলের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ জনকে কারাদণ্ড পেট্রোবাংলার পরিচালক মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ রোববার নতুন বেতনকাঠামোয় বেতন, অনিশ্চিত বর্ধিত অর্থ

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রত্যাহার এসআই আনছার আলী

বগুড়ার শিবগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ক্লোজড বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম আনছার আলী। তিনি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আলমাস আলী জানান, পুলিশ সুপারের আদেশের পর গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতেই এসআই আনছার আলী কর্মস্থল ত্যাগ করে বগুড়া পুলিশ লাইনসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ-সংক্রান্ত বিষয়ের প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রবিউল ইসলাম জানান, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে কার্যালয়ে ডেকে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে হওয়া ব্যক্তিগত কথোপকথনের মেসেজ, স্ক্রিনশট ও কিছু ভিডিও তথ্য-প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে চেয়েছেন। এ ছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই তরুণী একাধিকবার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যাতায়াত করেছিলেন—এমন তথ্যের সত্যতাও পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসে ওই তরুণীর স্বামীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত একটি সাধারণ অভিযোগ তদন্ত করতে তাঁদের বসতবাড়িতে যান এসআই আনছার আলী। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে পরিচয় ও একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তরুণীর দাবি, সম্পর্কের একপর্যায়ে তাঁকে বিয়ের সুনির্দিষ্ট প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন এসআই আনছার আলী। পরবর্তীতে তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে আনছার আলী তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং নিজেকে গুটিয়ে নেন।

কোনো উপায় না পেয়ে ন্যায়বিচারের আশায় গত ৮ অক্টোবর বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। পুলিশ সুপারের নির্দেশে বর্তমানে শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম অভিযোগটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্তে অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ মিললে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রসফায়ার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, নতুন আইজিপি নিয়োগে আলোচনায় ৩ কর্মকর্তা

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রত্যাহার এসআই আনছার আলী

আপডেট সময় ১১:৫৬:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ার শিবগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ক্লোজড বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম আনছার আলী। তিনি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আলমাস আলী জানান, পুলিশ সুপারের আদেশের পর গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতেই এসআই আনছার আলী কর্মস্থল ত্যাগ করে বগুড়া পুলিশ লাইনসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ-সংক্রান্ত বিষয়ের প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রবিউল ইসলাম জানান, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে কার্যালয়ে ডেকে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে হওয়া ব্যক্তিগত কথোপকথনের মেসেজ, স্ক্রিনশট ও কিছু ভিডিও তথ্য-প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে চেয়েছেন। এ ছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই তরুণী একাধিকবার মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে যাতায়াত করেছিলেন—এমন তথ্যের সত্যতাও পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী তরুণীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসে ওই তরুণীর স্বামীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত একটি সাধারণ অভিযোগ তদন্ত করতে তাঁদের বসতবাড়িতে যান এসআই আনছার আলী। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে পরিচয় ও একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তরুণীর দাবি, সম্পর্কের একপর্যায়ে তাঁকে বিয়ের সুনির্দিষ্ট প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন এসআই আনছার আলী। পরবর্তীতে তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে আনছার আলী তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং নিজেকে গুটিয়ে নেন।

কোনো উপায় না পেয়ে ন্যায়বিচারের আশায় গত ৮ অক্টোবর বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। পুলিশ সুপারের নির্দেশে বর্তমানে শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম অভিযোগটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্তে অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ মিললে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।