ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি দখল, লুটপাট ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৈতৃক জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ীর বসতবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের করা বিকাশ লেনদেনের ট্রানজ্যাকশন আইডিসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসায় ভৈরব থানা-পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ ও লেনদেনের তথ্যানুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর (০১৭১২৬৩৭৪১৮)-এ সরাসরি ৩০ হাজার টাকা ‘সেন্ড মানি’ করা হয়। প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে এই অর্থ পাঠানো হয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিকাশ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ নম্বর (Transaction ID) হলো ‘ডিজে৩২সিপিবি৪০০’ (DJ32CPB400)।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমানের দখলে থাকা মনির কন্ট্রাক্টরের বাড়ি ও দোকানের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালান প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়া ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী। এ সময় সন্ত্রাসীরা বসতঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায়। ঘটনার তাৎক্ষণিক মুহূর্তে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ভৈরব থানায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে দ্রুত পুলিশি সহায়তা চাওয়া হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয় পুলিশ। এমনকি পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর পরও কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে রহস্যজনকভাবে কেবল রাস্তার পশ্চিম পাশে দাঁড়িয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

পরবর্তীতে অনুসন্ধান ও লিখিত অভিযোগে প্রকাশ পায়, হামলা ও লুটপাটের সময় থানা-পুলিশ যেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বাধা না দেয় এবং ভুক্তভোগীদের কোনো প্রকার আইনি সহায়তা না করে, সে জন্য প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়া ও তাঁর লোকজন ওসির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেন। এরই বিনিময়ে ঘটনার দিন অপরাহ্ণে ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে মুর্শেদ মিয়ার ফোন নম্বর থেকে ওই ৩০ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিপক্ষ কর্তৃক বাড়িঘর ও দোকানপাটে তাণ্ডব চালিয়ে লুটপাট করার পর বিচার চাইতে ও লিখিত অভিযোগ দিতে তাঁরা একাধিকবার ভৈরব থানায় যান। তবে ওসি মাহবুবুর রহমান অভিযোগ গ্রহণ না করে তা ফিরিয়ে দেন। দীর্ঘ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে থানার দ্বারে দ্বারে ঘুরে মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে তাঁরা কিশোরগঞ্জ আদালতে গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ঘুষ গ্রহণ ও ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি এবং কোনো সাড়া দেননি।

তবে ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু মুছা শেখ মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনাটি আমি শুনেছি এবং ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে টাকা লেনদেনের একটি খবর সামনে এসেছে। এ বিষয়ে দাপ্তরিক অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা বিকাশ কল সেন্টার থেকে অফিশিয়াল কল ও লেনদেনের স্টেটমেন্ট এনে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করব। তদন্তে যদি ওসির নম্বরে অবৈধভাবে ঘুষের টাকা লেনদেনের সত্যতা মেলে, তবে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ কেজি এলপিজির দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি দখল, লুটপাট ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:১৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৈতৃক জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ীর বসতবাড়ি ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের করা বিকাশ লেনদেনের ট্রানজ্যাকশন আইডিসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসায় ভৈরব থানা-পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ ও লেনদেনের তথ্যানুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর (০১৭১২৬৩৭৪১৮)-এ সরাসরি ৩০ হাজার টাকা ‘সেন্ড মানি’ করা হয়। প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে এই অর্থ পাঠানো হয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিকাশ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ নম্বর (Transaction ID) হলো ‘ডিজে৩২সিপিবি৪০০’ (DJ32CPB400)।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমানের দখলে থাকা মনির কন্ট্রাক্টরের বাড়ি ও দোকানের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালান প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়া ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী। এ সময় সন্ত্রাসীরা বসতঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায়। ঘটনার তাৎক্ষণিক মুহূর্তে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ভৈরব থানায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে দ্রুত পুলিশি সহায়তা চাওয়া হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয় পুলিশ। এমনকি পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর পরও কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে রহস্যজনকভাবে কেবল রাস্তার পশ্চিম পাশে দাঁড়িয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে।

পরবর্তীতে অনুসন্ধান ও লিখিত অভিযোগে প্রকাশ পায়, হামলা ও লুটপাটের সময় থানা-পুলিশ যেন ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বাধা না দেয় এবং ভুক্তভোগীদের কোনো প্রকার আইনি সহায়তা না করে, সে জন্য প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়া ও তাঁর লোকজন ওসির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেন। এরই বিনিময়ে ঘটনার দিন অপরাহ্ণে ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে মুর্শেদ মিয়ার ফোন নম্বর থেকে ওই ৩০ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিপক্ষ কর্তৃক বাড়িঘর ও দোকানপাটে তাণ্ডব চালিয়ে লুটপাট করার পর বিচার চাইতে ও লিখিত অভিযোগ দিতে তাঁরা একাধিকবার ভৈরব থানায় যান। তবে ওসি মাহবুবুর রহমান অভিযোগ গ্রহণ না করে তা ফিরিয়ে দেন। দীর্ঘ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে থানার দ্বারে দ্বারে ঘুরে মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে তাঁরা কিশোরগঞ্জ আদালতে গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

ঘুষ গ্রহণ ও ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি এবং কোনো সাড়া দেননি।

তবে ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু মুছা শেখ মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ঘটনাটি আমি শুনেছি এবং ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে টাকা লেনদেনের একটি খবর সামনে এসেছে। এ বিষয়ে দাপ্তরিক অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আমরা বিকাশ কল সেন্টার থেকে অফিশিয়াল কল ও লেনদেনের স্টেটমেন্ট এনে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করব। তদন্তে যদি ওসির নম্বরে অবৈধভাবে ঘুষের টাকা লেনদেনের সত্যতা মেলে, তবে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”