ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজা ঘিরে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারিতে এসআরবি-৫ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার আ. লীগ ভোট চুরি করেছে, বিএনপি ফলাফল: হাসনাত দেশেই প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী মা ইলিশ শিকারের ভিডিও করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা গণভোটেই, সংবিধানে নয়: ফুয়াদ আত্মসমর্পণ করা ১৫৯ ইয়েমেনি সেনাকে মুক্তি দিল হুথিরা কোন কারণে বুকে পাথর চাপা দিয়ে জুলাই সনদে সই করেছিল জামায়াত, প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের পিস্তল হাতে ইশরাকের অভিযান, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা: ডিবি মাদকবিরোধী অভিযানে ‘অস্ত্র প্রদর্শনে’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

টেন্ডারে হস্তক্ষেপ ও দাপ্তরিক বিশৃঙ্খলা: বিএডিসি কর্মকর্তা আল-আমিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অডিট বিভাগের যুগ্মনিয়ন্ত্রক (অডিট) পদে চলতি দায়িত্বে থাকা মো. আল-আমিনের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লাঞ্ছনা, অননুমোদিত অনুপস্থিতি এবং সরকারি টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির কার্যক্রমে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকেস) দিয়েছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ।

বিএডিসির সচিব আবু জাফর রাশেদের স্বাক্ষরে গত ৫ অক্টোবর জারি করা ওই নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে একাধিক দাপ্তরিক ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সাত দিনের মধ্যে তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

টেন্ডার মূল্যায়নে হস্তক্ষেপ ও সরকারি ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা

প্রাপ্ত তথ্য ও কারণ দর্শানোর নোটিশ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আল-আমিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠে এসেছে MIEFP প্রকল্পের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) কার্যক্রম ঘিরে। গত ৪ অক্টোবর দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলাকালে আল-আমিন সংশ্লিষ্ট কক্ষে অনধিকার প্রবেশ করেন এবং তাকে টিইসির সভাপতি না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ড. মো. শাফায়েত হোসেনকে কমিটির সভাপতি পদে মনোনীত করায় তিনি তাকে পদত্যাগ করাতে হুমকি দেন।

ঘটনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি নিজ মোবাইল ফোন থেকে বহিরাগতদের ডেকে পাঠান। পরবর্তীতে সরকারি দরপত্র মূল্যায়নের অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই সাথে করে নিয়ে যান। সরকারি ক্রয়ের মতো গোপনীয় ও সংবেদনশীল কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ এভাবে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তথ্যের নিরাপত্তা ও পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

দাপ্তরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত: কার্যালয়ে বহিরাগতদের আনাগোনা

ঘটনার দিন কেবল দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভাঙাই নয়, অফিস চত্বরের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিবের কক্ষে বহিরাগতদের উপস্থিতি দেখা যায়। মূল্যায়ন সদস্যরা ভেতরে অবস্থানকালে এক বহিরাগত ব্যক্তি আচমকা দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে ‘শাফায়েত কে?’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরবর্তীতে অন্যান্য কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাকে রুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। কার নির্দেশে এবং কোন উদ্দেশ্যে একজন বহিরাগত ব্যক্তি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত সংবেদনশীল কক্ষে প্রবেশ করে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার সাহস পেলেন, তা নিয়ে পুরো সংস্থায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

 

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নথি নিক্ষেপ

আল-আমিনের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক অসদাচরণের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে বিএডিসির নোটিশে। গত ৩০ জুনের একটি ঘটনায় জানা যায়, অডিট সংক্রান্ত কর্মশালা ও ত্রিপক্ষীয় সভা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিয়ন্ত্রক (অডিট)-এর কক্ষে উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং সেখানে সভা করতে না দেওয়ার হুমকি দেন। এ সময় তিনি বিএডিসির সদস্য পরিচালক (অর্থ) ও চেয়ারম্যান সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেন বলেও উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে সদস্য পরিচালক (অর্থ)-এর দপ্তরে গিয়ে অডিট সংক্রান্ত একটি সরকারি নথি ছুঁড়ে মারেন তিনি। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণ দাপ্তরিক শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ।

 

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও কৈফিয়তপত্র ছেঁড়ার অভিযোগ

সরকারি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির অভিযোগও রয়েছে আল-আমিনের বিরুদ্ধে। গত ৩০ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন। পূর্বেও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠায় কর্তৃপক্ষ থেকে কৈফিয়ত তলব করা হলে, সে সংক্রান্ত দাপ্তরিক চিঠিটি তিনি ছিঁড়ে ফেলেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

শুধু তাই নয়, বিএডিসির চেয়ারম্যানের দপ্তরে কোনো প্রকল্পের তথ্য চাওয়া হলেও সেখানে গিয়ে হস্তক্ষেproc করেন আল-আমিন। তাকে না জানিয়ে কেন কর্মকর্তাদের ডাকা হয়েছে, তা নিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি, যা অত্যন্ত অপেশাদার ও গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

বদলি বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া

প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বিভিন্ন সূত্র জানায়, কেবল টেন্ডার বাণিজ্যই নয়, বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নেও তিনি জোরপূর্বক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন। কোন কর্মকর্তা কোথায় পদায়িত হবেন বা কার বদলি বাতিল হবে, তা নিয়ন্ত্রণে তিনি তৎপর ছিলেন। সংস্থায় আল-আমিন ‘জিয়া পরিষদ’-এর সভাপতি পরিচয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতেন বলেও জানা গেছে।

 

বিভাগীয় ব্যবস্থার মুখামুখি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

বিএডিসির কারণ দর্শানোর নোটিশে ‘বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিমালা উল্লেখ করে দায়িত্বে অবহেলা ও চরম অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে আল-আমিনের বিরুদ্ধে বরখাস্তসহ কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। তবে বিভাগীয় এই শোকজ নোটিশের বিপরীতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক জবাব এবং পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমেই পুরো ঘটনার চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজা ঘিরে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারিতে এসআরবি-৫

টেন্ডারে হস্তক্ষেপ ও দাপ্তরিক বিশৃঙ্খলা: বিএডিসি কর্মকর্তা আল-আমিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অডিট বিভাগের যুগ্মনিয়ন্ত্রক (অডিট) পদে চলতি দায়িত্বে থাকা মো. আল-আমিনের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লাঞ্ছনা, অননুমোদিত অনুপস্থিতি এবং সরকারি টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির কার্যক্রমে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকেস) দিয়েছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ।

বিএডিসির সচিব আবু জাফর রাশেদের স্বাক্ষরে গত ৫ অক্টোবর জারি করা ওই নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে একাধিক দাপ্তরিক ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সাত দিনের মধ্যে তার লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

টেন্ডার মূল্যায়নে হস্তক্ষেপ ও সরকারি ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার নজিরবিহীন ঘটনা

প্রাপ্ত তথ্য ও কারণ দর্শানোর নোটিশ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আল-আমিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠে এসেছে MIEFP প্রকল্পের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) কার্যক্রম ঘিরে। গত ৪ অক্টোবর দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলাকালে আল-আমিন সংশ্লিষ্ট কক্ষে অনধিকার প্রবেশ করেন এবং তাকে টিইসির সভাপতি না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ড. মো. শাফায়েত হোসেনকে কমিটির সভাপতি পদে মনোনীত করায় তিনি তাকে পদত্যাগ করাতে হুমকি দেন।

ঘটনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি নিজ মোবাইল ফোন থেকে বহিরাগতদের ডেকে পাঠান। পরবর্তীতে সরকারি দরপত্র মূল্যায়নের অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি ছাড়াই সাথে করে নিয়ে যান। সরকারি ক্রয়ের মতো গোপনীয় ও সংবেদনশীল কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ এভাবে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তথ্যের নিরাপত্তা ও পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

দাপ্তরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত: কার্যালয়ে বহিরাগতদের আনাগোনা

ঘটনার দিন কেবল দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভাঙাই নয়, অফিস চত্বরের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিবের কক্ষে বহিরাগতদের উপস্থিতি দেখা যায়। মূল্যায়ন সদস্যরা ভেতরে অবস্থানকালে এক বহিরাগত ব্যক্তি আচমকা দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে ‘শাফায়েত কে?’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরবর্তীতে অন্যান্য কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তাকে রুম থেকে বের করে দেওয়া হয়। কার নির্দেশে এবং কোন উদ্দেশ্যে একজন বহিরাগত ব্যক্তি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত সংবেদনশীল কক্ষে প্রবেশ করে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার সাহস পেলেন, তা নিয়ে পুরো সংস্থায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

 

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নথি নিক্ষেপ

আল-আমিনের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক অসদাচরণের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে বিএডিসির নোটিশে। গত ৩০ জুনের একটি ঘটনায় জানা যায়, অডিট সংক্রান্ত কর্মশালা ও ত্রিপক্ষীয় সভা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিয়ন্ত্রক (অডিট)-এর কক্ষে উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং সেখানে সভা করতে না দেওয়ার হুমকি দেন। এ সময় তিনি বিএডিসির সদস্য পরিচালক (অর্থ) ও চেয়ারম্যান সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেন বলেও উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে সদস্য পরিচালক (অর্থ)-এর দপ্তরে গিয়ে অডিট সংক্রান্ত একটি সরকারি নথি ছুঁড়ে মারেন তিনি। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণ দাপ্তরিক শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ।

 

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও কৈফিয়তপত্র ছেঁড়ার অভিযোগ

সরকারি বিধিমালার তোয়াক্কা না করে কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতির অভিযোগও রয়েছে আল-আমিনের বিরুদ্ধে। গত ৩০ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন। পূর্বেও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠায় কর্তৃপক্ষ থেকে কৈফিয়ত তলব করা হলে, সে সংক্রান্ত দাপ্তরিক চিঠিটি তিনি ছিঁড়ে ফেলেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

শুধু তাই নয়, বিএডিসির চেয়ারম্যানের দপ্তরে কোনো প্রকল্পের তথ্য চাওয়া হলেও সেখানে গিয়ে হস্তক্ষেproc করেন আল-আমিন। তাকে না জানিয়ে কেন কর্মকর্তাদের ডাকা হয়েছে, তা নিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি, যা অত্যন্ত অপেশাদার ও গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

বদলি বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া

প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বিভিন্ন সূত্র জানায়, কেবল টেন্ডার বাণিজ্যই নয়, বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নেও তিনি জোরপূর্বক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন। কোন কর্মকর্তা কোথায় পদায়িত হবেন বা কার বদলি বাতিল হবে, তা নিয়ন্ত্রণে তিনি তৎপর ছিলেন। সংস্থায় আল-আমিন ‘জিয়া পরিষদ’-এর সভাপতি পরিচয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতেন বলেও জানা গেছে।

 

বিভাগীয় ব্যবস্থার মুখামুখি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

বিএডিসির কারণ দর্শানোর নোটিশে ‘বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিমালা উল্লেখ করে দায়িত্বে অবহেলা ও চরম অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে আল-আমিনের বিরুদ্ধে বরখাস্তসহ কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। তবে বিভাগীয় এই শোকজ নোটিশের বিপরীতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক জবাব এবং পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমেই পুরো ঘটনার চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে।