ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজা ঘিরে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারিতে এসআরবি-৫ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার আ. লীগ ভোট চুরি করেছে, বিএনপি ফলাফল: হাসনাত দেশেই প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী মা ইলিশ শিকারের ভিডিও করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা রাজনৈতিক প্রশ্নের মীমাংসা গণভোটেই, সংবিধানে নয়: ফুয়াদ আত্মসমর্পণ করা ১৫৯ ইয়েমেনি সেনাকে মুক্তি দিল হুথিরা কোন কারণে বুকে পাথর চাপা দিয়ে জুলাই সনদে সই করেছিল জামায়াত, প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের পিস্তল হাতে ইশরাকের অভিযান, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা: ডিবি মাদকবিরোধী অভিযানে ‘অস্ত্র প্রদর্শনে’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

সরকারি পদ নেই, তবুও সাভার ভূমি সেটেলমেন্টে পেশকারের দায়িত্বে শাহজাহান কবির; ঘুষ আদায়ের অভিযোগ

সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে সরকারি কোনো পদে না থেকেও পেশকারের দায়িত্বে কাজ করছেন শাহজাহান কবির নামে এক ব্যক্তি, এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, তিনি শুনানির নামে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করেন এবং আলমনগর হাউজিং এলাকার একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে বসে জমির নথি সংশোধনের নামে অর্থ লেনদেন করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি সাভার উপজেলা সেটেলমেন্টের বড় বরদেশী আদালতের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। সেলিনা পারভীনের বক্তব্য এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহজাহান কবির সরকারি কোনো চাকরিজীবী নন এবং সেটেলমেন্ট অফিসের মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীও নন। তবু তিনি নিয়মিত ওই কার্যালয়ে পেশকারের ভূমিকায় কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা বলেন, কবির ঝকঝকে পোশাক ও আত্মবিশ্বাসী চালচলনের কারণে বাইরে থেকে তাঁকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেই মনে হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি আদালতের নথি পরিচালনা করেন এবং মামলার শুনানিতেও অংশ নেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ফাইল আটকে রাখা থেকে শুরু করে রায়ের গতিপথ প্রভাবিত করা পর্যন্ত বিষয়গুলো তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাঁদের ভাষায়, শুনানি কার্যত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, সেটেলমেন্ট অফিসে আসা জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে বা কৌশলে আলমনগর হাউজিং এলাকার ওই ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে দর-কষাকষির পর জমির নথি সংশোধনের নামে ঘুষের অর্থ লেনদেন হয় বলে তাঁরা দাবি করেন। অভিযোগগুলো এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, সাধারণ জমির মালিকদের আইনি জটিলতায় ফেলে প্রথমে কোণঠাসা করা হয়, তারপর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ডেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়। সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক নজরদারি সত্ত্বেও একজন বহিরাগত কীভাবে এমন কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তা নিয়ে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘুষ ও জালিয়াতির এই চক্র থেকে রেহাই পেতে তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীন, সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের কর্তৃপক্ষ কিংবা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।

সরকারি দপ্তরে নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়ে কারও সরকারি দায়িত্ব পালন করা সাধারণত প্রশাসনিক বিধিবহির্ভূত বলে বিবেচিত হয়। ঘুষ লেনদেন দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে বর্তমান অভিযোগগুলো ভুক্তভোগীদের বক্তব্যনির্ভর। কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় ও কার্যালয়ে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে সরকারি নথি রয়েছে কি না, সে-সংক্রান্ত তথ্য খসড়ায় নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। কত টাকা লেনদেন হয়েছে বা কতজন ভুক্তভোগী রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সরকারি দপ্তরের জবাবদিহি ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, কারণ সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে জমির নথি ও রেকর্ড সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর সেবা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা এখনো আসেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা স্পষ্ট হতে পারে। বর্তমানে অভিযোগগুলো অপ্রমাণিত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য অপেক্ষমাণ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গাপূজা ঘিরে ২৪ ঘণ্টা সাইবার নজরদারিতে এসআরবি-৫

সরকারি পদ নেই, তবুও সাভার ভূমি সেটেলমেন্টে পেশকারের দায়িত্বে শাহজাহান কবির; ঘুষ আদায়ের অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৪৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে সরকারি কোনো পদে না থেকেও পেশকারের দায়িত্বে কাজ করছেন শাহজাহান কবির নামে এক ব্যক্তি, এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, তিনি শুনানির নামে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করেন এবং আলমনগর হাউজিং এলাকার একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে বসে জমির নথি সংশোধনের নামে অর্থ লেনদেন করেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি সাভার উপজেলা সেটেলমেন্টের বড় বরদেশী আদালতের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অভিযোগের বিষয়ে শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। সেলিনা পারভীনের বক্তব্য এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহজাহান কবির সরকারি কোনো চাকরিজীবী নন এবং সেটেলমেন্ট অফিসের মাস্টাররোলভুক্ত কর্মচারীও নন। তবু তিনি নিয়মিত ওই কার্যালয়ে পেশকারের ভূমিকায় কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা বলেন, কবির ঝকঝকে পোশাক ও আত্মবিশ্বাসী চালচলনের কারণে বাইরে থেকে তাঁকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেই মনে হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি আদালতের নথি পরিচালনা করেন এবং মামলার শুনানিতেও অংশ নেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ফাইল আটকে রাখা থেকে শুরু করে রায়ের গতিপথ প্রভাবিত করা পর্যন্ত বিষয়গুলো তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাঁদের ভাষায়, শুনানি কার্যত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, সেটেলমেন্ট অফিসে আসা জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে বা কৌশলে আলমনগর হাউজিং এলাকার ওই ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে দর-কষাকষির পর জমির নথি সংশোধনের নামে ঘুষের অর্থ লেনদেন হয় বলে তাঁরা দাবি করেন। অভিযোগগুলো এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, সাধারণ জমির মালিকদের আইনি জটিলতায় ফেলে প্রথমে কোণঠাসা করা হয়, তারপর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ডেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়। সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক নজরদারি সত্ত্বেও একজন বহিরাগত কীভাবে এমন কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তা নিয়ে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘুষ ও জালিয়াতির এই চক্র থেকে রেহাই পেতে তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে শাহজাহান কবিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা সেলিনা পারভীন, সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের কর্তৃপক্ষ কিংবা ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।

সরকারি দপ্তরে নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়ে কারও সরকারি দায়িত্ব পালন করা সাধারণত প্রশাসনিক বিধিবহির্ভূত বলে বিবেচিত হয়। ঘুষ লেনদেন দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে বর্তমান অভিযোগগুলো ভুক্তভোগীদের বক্তব্যনির্ভর। কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় ও কার্যালয়ে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে সরকারি নথি রয়েছে কি না, সে-সংক্রান্ত তথ্য খসড়ায় নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। কত টাকা লেনদেন হয়েছে বা কতজন ভুক্তভোগী রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও পাওয়া যায়নি।

অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সরকারি দপ্তরের জবাবদিহি ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, কারণ সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে জমির নথি ও রেকর্ড সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর সেবা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা এখনো আসেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা স্পষ্ট হতে পারে। বর্তমানে অভিযোগগুলো অপ্রমাণিত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য অপেক্ষমাণ।