ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামের মাদকসদৃশ বস্তু সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জহিরুল ইসলামের বক্তব্য এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
জহিরুল ইসলাম গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের ধোপা জাঙ্গালিয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তাঁর মাদকসদৃশ বস্তু সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায় ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নেতাদের নজরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, কোথায় এবং কে ছড়িয়েছে, তা খসড়ায় উল্লেখ নেই। ভিডিওতে কী সেবন করা হচ্ছিল, তাও নিশ্চিত নয়; সংশ্লিষ্ট পক্ষ ‘মাদকসদৃশ বস্তু’ শব্দটি ব্যবহার করেছে।
শনিবার রাতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘জহিরুল ইসলামের মাদকসদৃশ বস্তু সেবনের একটি ভিডিও ক্লিপ আমাদের হাতে এসেছে। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বক্তব্য জানতে জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ভিডিওর সত্যতা বা ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনিই কি না, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিএনপি বা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কোনো প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
জেলা ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে ‘সাময়িক অব্যাহতি’ দেওয়া হয়েছে, যা স্থায়ী বহিষ্কার নয়। তদন্তের ফল অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। তদন্ত কারা করছেন, কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন আসবে, সে তথ্য জানানো হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশ বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কোনো পদক্ষেপ বা মামলার তথ্যও পাওয়া যায়নি। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল কি না, তা-ও জানা যায়নি। এ ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক সংগঠনের পদক্ষেপের কোনো তুলনামূলক পরিসংখ্যান খসড়ায় নেই।
তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর জহিরুল ইসলামের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তবে এ বিষয়ে সংগঠন কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ভিডিওর সত্যতা যাচাই হলে বিষয়টি আইনি পর্যায়ে গড়ায় কি না, তাও এখনো স্পষ্ট নয়। বর্তমানে তিনি সাময়িকভাবে পদবঞ্চিত এবং বিষয়টি দলীয় তদন্তাধীন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























