ক্যাম্পাসের গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা বিএনপি-ছাত্রদলের চিরায়ত ঐতিহ্য বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভোলা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ভোলা সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে একাদশ শ্রেণি ও অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এস এম ফরহাদ বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার সংসদে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের বিজয়ের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসার কথা বলেছে। গণতন্ত্র অটুট রাখার কথাও বলেছে। কিন্তু একই ধরনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি দেখা গিয়েছিল ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও, যখন বেগম খালেদা জিয়া সংসদে গিয়ে গণতন্ত্র অটুট রাখার কথা বলেছিলেন।
ডাকসুর জিএস বলেন, ১৯৯০ সালের পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল জয়ী হয়। এরপর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের দলের লোকজন ও উপাচার্য থাকার পরও ডাকসু নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসে গণরুম-গেস্টরুমসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করা হয়। অর্থাৎ, ক্যাম্পাসের গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা বিএনপি-ছাত্রদলের চিরায়ত ঐতিহ্য, যেমনটি ভোলা সরকারি কলেজেও দেখা গেছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের আজকের কর্মসূচি ভোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠান বানচাল করতে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানো হয়েছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এস এম ফরহাদ বলেন, ছাত্রদল এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের থেকে বিচ্ছিন্ন একটি সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ক্যাম্পাসে করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারকে অনুরোধ করব, সংসদে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের কথা বলার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রবিরোধী রাজনীতি বন্ধ করুন। তা না হলে তরুণেরা ভবিষ্যতে তাঁদের দ্বিচারিতার জন্য মুনাফিক হিসেবে বিবেচনা করবে। সংসদে শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্রের কথা বলা হলেও ক্যাম্পাসে তাঁদের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ধরনের দ্বিচারিতা তাঁরা চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এস এম ফরহাদ।
ভোলা সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক কামরুল হাসান প্রমুখ।
জেলা প্রতিনিধি 






















