যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণার তিন দিনের মাথায় রাশিয়ার দুটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। হামলায় একটি শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা থেকে ৭টার মধ্যে রাশিয়ার রিয়াজান ও সারাতোভ অঞ্চলের দুটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। সারাতোভে হামলা ব্যর্থ হলেও ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রিয়াজানের তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় এবং বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়।
রিয়াজানের গভর্নর পাভেল মালকভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় স্থানীয় আরেকটি প্রতিষ্ঠানের গুদাম ও বেশ কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে গভর্নর মালকভ জানান, বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১১ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন ভবিষ্যতে আর পরস্পরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাবে না।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এ চুক্তি হয়েছে। তিনি দুই পক্ষকে চুক্তি না ভাঙার আহ্বান জানান।
তবে গত বুধবার ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী হামলা বন্ধ রাখলেও রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। রুশ হামলার কারণে বর্তমানে ইউক্রেনের ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার অব্যাহত হামলায় জেলেনস্কি ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছিলেন। বুধবার তিনি জানান, রাশিয়ার হামলার ফলে ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া হামলা অব্যাহত রাখলে ইউক্রেনও চুপ থাকবে না।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের সামনে আর কোনো বাধা নেই; কারণ আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























