ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মঠবাড়িয়ায় জমি বিক্রি করেও দখল না দেওয়ার অভিযোগ, হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রায়পুর ভূমি অফিসে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, শেষ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে জমা দিলেন জাহাঙ্গীর-নকিব পাখি আমদানির আড়ালে শতকোটি টাকা বিদেশে পাচার: তদন্তের মুখে বন কর্মকর্তারা সীমান্তে ১৫ বিজিবির অভিযান, অনন্তপুর ও বনচৌকিতে ইস্কাফ সিরাপ জব্দ পোরশায় বিজিবির অভিযানে ৬৪০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক ১ গাছের হার ৫০%, অর্থ গায়েব ১০০%: সুফল প্রকল্পের হরিলুট ও দুদকের দ্বারস্থ আবেদনকারী স্কলারশিপে জাপান গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পালালেন রাজউক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, জাইকার কঠোর বার্তা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, বিপুল সম্পদের মালিক ময়মনসিংহের খাদ্য পরিদর্শক কামাল তাড়াইলে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে দুই যুবককে ছুরিকাঘাত, থানায় মামলা সীমিত বেতন সম্পদ শতকোটির: কদমতলীর সেই শিক্ষকের অঢেল সাম্রাজ্য নিয়ে তোলপাড়

ফুটবলই স্বপ্ন, ফুটবলই ভবিষ্যৎ, বড় খেলোয়াড় হতে চায় আখি

  • শাফায়েত হোসেন
  • আপডেট সময় ১১:২৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৪ বার পড়া হয়েছে

ফুটবলই তার স্বপ্ন, ফুটবলই তার ভবিষ্যৎ। দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে দেশের একজন বড় ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় নবম শ্রেণির ছাত্রী আখি আক্তার। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার পূর্ব মহারাজপুর গ্রামের এই কিশোরীর চোখে অনেক স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক সংকট।

ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত হয় আখি। নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রায় আটটি পুরস্কার অর্জন করেছে সে। খেলার জন্য পেয়েছে শিক্ষক ও এলাকাবাসীর প্রশংসাও।

আখি আক্তার জানায়, তার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। বাবা পেশায় একজন কৃষক ও জেলে। পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে বাবাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে একটি ভালো ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি।

আখি আবেগাপ্লুত হয়ে বলে, “আমি ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। আমার স্বপ্ন বাংলাদেশের একজন ভালো ফুটবলার হওয়া। আমি চাই, পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবল খেলা চালিয়ে যেতে এবং একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে। আমার মা-বাবা অনেক কষ্ট করেন। আমি চাই, একদিন ফুটবলার হয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে।”

সে আরও জানায়, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়ার পর তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। এলাকার অনেকেই তাকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, মন দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলে একদিন সে দেশের ভালো একজন ফুটবলার হতে পারবে। তাঁদের উৎসাহই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।

তবে আখির কণ্ঠে ফুটে ওঠে অসহায়ত্বের কথাও। আর্থিক সামর্থ্য থাকলে হয়তো অনেক আগেই কোনো ভালো ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেত সে। কিন্তু পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে সেই সুযোগ এখনো হয়ে ওঠেনি।

আখি বলে, “আমি প্রায়ই মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন আমার স্বপ্ন পূরণ হয়। আমি বাংলাদেশের মাটিতে খেলতে চাই, দেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশ-বিদেশে ফুটবল খেলার স্বপ্ন দেখি। আমি জানি, আমার পরিবার দরিদ্র; কিন্তু আমার স্বপ্ন অনেক বড়। আমি পরিশ্রম করে যেতে চাই। সবার কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন এবং সম্ভব হলে আমাকে সহযোগিতা করবেন।”

আখির বিশ্বাস, সুযোগ ও যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে সে নিজের প্রতিভা বিকশিত করতে পারবে। সে চায়, মুকসুদপুর উপজেলায় নিজের পরিচিতি গড়ে তুলে একদিন জাতীয় পর্যায়ে ফুটবলে অবদান রাখতে।

তার স্বপ্ন পূরণে একটি ভালো ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি হওয়া, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন ও সামর্থ্যবানদের সহযোগিতা কামনা করেছে আখি। একই সঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সে।

আখি আক্তারের গল্প শুধু একজন কিশোরীর ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নয়; এটি দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ের গল্প। যথাযথ সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রত্যন্ত গ্রামের কিশোরী একদিন দেশের ফুটবলে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারবে, এমন আশাই করছে তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

এখন দেখার বিষয়, আখির স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ক্রীড়া সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা এগিয়ে আসে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মঠবাড়িয়ায় জমি বিক্রি করেও দখল না দেওয়ার অভিযোগ, হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ফুটবলই স্বপ্ন, ফুটবলই ভবিষ্যৎ, বড় খেলোয়াড় হতে চায় আখি

আপডেট সময় ১১:২৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ফুটবলই তার স্বপ্ন, ফুটবলই তার ভবিষ্যৎ। দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে দেশের একজন বড় ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় নবম শ্রেণির ছাত্রী আখি আক্তার। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার পূর্ব মহারাজপুর গ্রামের এই কিশোরীর চোখে অনেক স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক সংকট।

ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত হয় আখি। নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্কুলের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রায় আটটি পুরস্কার অর্জন করেছে সে। খেলার জন্য পেয়েছে শিক্ষক ও এলাকাবাসীর প্রশংসাও।

আখি আক্তার জানায়, তার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। বাবা পেশায় একজন কৃষক ও জেলে। পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে বাবাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে একটি ভালো ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি।

আখি আবেগাপ্লুত হয়ে বলে, “আমি ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। আমার স্বপ্ন বাংলাদেশের একজন ভালো ফুটবলার হওয়া। আমি চাই, পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবল খেলা চালিয়ে যেতে এবং একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে। আমার মা-বাবা অনেক কষ্ট করেন। আমি চাই, একদিন ফুটবলার হয়ে তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে।”

সে আরও জানায়, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়ার পর তার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। এলাকার অনেকেই তাকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, মন দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলে একদিন সে দেশের ভালো একজন ফুটবলার হতে পারবে। তাঁদের উৎসাহই তাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।

তবে আখির কণ্ঠে ফুটে ওঠে অসহায়ত্বের কথাও। আর্থিক সামর্থ্য থাকলে হয়তো অনেক আগেই কোনো ভালো ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেত সে। কিন্তু পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে সেই সুযোগ এখনো হয়ে ওঠেনি।

আখি বলে, “আমি প্রায়ই মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন আমার স্বপ্ন পূরণ হয়। আমি বাংলাদেশের মাটিতে খেলতে চাই, দেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশ-বিদেশে ফুটবল খেলার স্বপ্ন দেখি। আমি জানি, আমার পরিবার দরিদ্র; কিন্তু আমার স্বপ্ন অনেক বড়। আমি পরিশ্রম করে যেতে চাই। সবার কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন এবং সম্ভব হলে আমাকে সহযোগিতা করবেন।”

আখির বিশ্বাস, সুযোগ ও যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে সে নিজের প্রতিভা বিকশিত করতে পারবে। সে চায়, মুকসুদপুর উপজেলায় নিজের পরিচিতি গড়ে তুলে একদিন জাতীয় পর্যায়ে ফুটবলে অবদান রাখতে।

তার স্বপ্ন পূরণে একটি ভালো ফুটবল একাডেমিতে ভর্তি হওয়া, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন ও সামর্থ্যবানদের সহযোগিতা কামনা করেছে আখি। একই সঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার প্রতিভা বিকাশে সহযোগিতার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সে।

আখি আক্তারের গল্প শুধু একজন কিশোরীর ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নয়; এটি দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ের গল্প। যথাযথ সুযোগ, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রত্যন্ত গ্রামের কিশোরী একদিন দেশের ফুটবলে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারবে, এমন আশাই করছে তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

এখন দেখার বিষয়, আখির স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ক্রীড়া সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা এগিয়ে আসে।