ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষি প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে হুমকির অভিযোগ ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার এখন স্পেন গাইবান্ধার খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্য নন্দের কুন্ডুর বিরুদ্ধে ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দ্বিতীয় দফায় চিকিৎসা শেষে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ঘুষ বাণিজ্যে ২০ কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ, কর কর্মকর্তা সাইফুলকে ঘিরে তোলপাড় উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ প্রত্যাহার, স্বাভাবিক যান চলাচল মঠবাড়িয়ায় জমি বিক্রি করেও দখল না দেওয়ার অভিযোগ, হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রায়পুর ভূমি অফিসে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, শেষ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে জমা দিলেন জাহাঙ্গীর-নকিব পাখি আমদানির আড়ালে শতকোটি টাকা বিদেশে পাচার: তদন্তের মুখে বন কর্মকর্তারা সীমান্তে ১৫ বিজিবির অভিযান, অনন্তপুর ও বনচৌকিতে ইস্কাফ সিরাপ জব্দ

রায়পুর ভূমি অফিসে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, শেষ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে জমা দিলেন জাহাঙ্গীর-নকিব

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০১:১২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৮ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের আত্মসাৎ করা ১২ লাখ ৭ হাজার ৯১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্ত এ টাকা জমা করেন।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়কের অডিটে তাঁদের আত্মসাতের ঘটনাটি বেরিয়ে আসে। দুজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দপ্তরগুলোতে আদান-প্রদান করা চিঠির কপি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের চান্দিনা ভিটির একসনা লিজমানি বাবদ ১ লাখ ৯ হাজার ১৩০ টাকা ও ভিপি লিজমানির নথি বাবদ ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ টাকা আদায় করে কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসককে টাকা উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুরের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর হাবিবুর রহমান গত ৪ অক্টোবর এক পত্রে রায়পুরের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করতে ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেন।

রায়পুরের সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা গত ৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম (বর্তমানে রামগতি উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত) ও সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্তকে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই চিঠিতে সরকারি টাকা যথাসময়ে কোষাগারে জমা না করার কারণে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮-এর ৩ ধারার উপধারা (ঘ) ও (ঙ) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মনজুরুল আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো পত্রে উল্লেখ করেন, দুটি ডিসিআর বইয়ের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম ওই টাকা আদায় করেন। এ টাকা আত্মসাতের সঙ্গে সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্তর যোগসাজশ রয়েছে। নকিব হোসেন অর্থ আদায় ও জমার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মিথ্যা বিবরণী দাখিল করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার গিয়েও জাহাঙ্গীর আলমকে তাঁর কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। বারবার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্ত বলেন, “জাহাঙ্গীর আলমকে বিশ্বাস করে আমি প্রতি মাসের টাকা প্রতি মাসে জমা হয়েছে মর্মে উপজেলা ও জেলা কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিই। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। আমি আমার নোটিশের জবাব দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ পরবর্তী বিষয়টি দেখবেন।”

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “টাকা ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে জানার জন্য লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসানকে ফোন ও মেসেজ দেওয়া হলেও তাঁরা কোনো উত্তর দেননি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষি প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে হুমকির অভিযোগ

রায়পুর ভূমি অফিসে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, শেষ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে জমা দিলেন জাহাঙ্গীর-নকিব

আপডেট সময় ০১:১২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা ভূমি অফিসের আত্মসাৎ করা ১২ লাখ ৭ হাজার ৯১০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্ত এ টাকা জমা করেন।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়কের অডিটে তাঁদের আত্মসাতের ঘটনাটি বেরিয়ে আসে। দুজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দপ্তরগুলোতে আদান-প্রদান করা চিঠির কপি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের চান্দিনা ভিটির একসনা লিজমানি বাবদ ১ লাখ ৯ হাজার ১৩০ টাকা ও ভিপি লিজমানির নথি বাবদ ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮০ টাকা আদায় করে কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসককে টাকা উদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুরের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর হাবিবুর রহমান গত ৪ অক্টোবর এক পত্রে রায়পুরের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করতে ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেন।

রায়পুরের সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা গত ৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত প্রধান সহকারী কাম-হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম (বর্তমানে রামগতি উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত) ও সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্তকে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই চিঠিতে সরকারি টাকা যথাসময়ে কোষাগারে জমা না করার কারণে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮-এর ৩ ধারার উপধারা (ঘ) ও (ঙ) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্মীপুরের হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মনজুরুল আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো পত্রে উল্লেখ করেন, দুটি ডিসিআর বইয়ের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম ওই টাকা আদায় করেন। এ টাকা আত্মসাতের সঙ্গে সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্তর যোগসাজশ রয়েছে। নকিব হোসেন অর্থ আদায় ও জমার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মিথ্যা বিবরণী দাখিল করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার গিয়েও জাহাঙ্গীর আলমকে তাঁর কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। বারবার মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

সার্টিফিকেট পেশকার (নাজির) নকিব হোসেন শান্ত বলেন, “জাহাঙ্গীর আলমকে বিশ্বাস করে আমি প্রতি মাসের টাকা প্রতি মাসে জমা হয়েছে মর্মে উপজেলা ও জেলা কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিই। আমি কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। আমি আমার নোটিশের জবাব দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ পরবর্তী বিষয়টি দেখবেন।”

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “টাকা ইতিমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে জানার জন্য লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসানকে ফোন ও মেসেজ দেওয়া হলেও তাঁরা কোনো উত্তর দেননি।