ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে ১,৩০৭ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ইরানে হামলায় ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে হুমকির অভিযোগ ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার এখন স্পেন গাইবান্ধার খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্য নন্দের কুন্ডুর বিরুদ্ধে ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দ্বিতীয় দফায় চিকিৎসা শেষে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ঘুষ বাণিজ্যে ২০ কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ, কর কর্মকর্তা সাইফুলকে ঘিরে তোলপাড় উত্তরায় শ্রমিকদের অবরোধ প্রত্যাহার, স্বাভাবিক যান চলাচল মঠবাড়িয়ায় জমি বিক্রি করেও দখল না দেওয়ার অভিযোগ, হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রায়পুর ভূমি অফিসে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ, শেষ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে জমা দিলেন জাহাঙ্গীর-নকিব

ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার এখন স্পেন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০১:৫০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৮ বার পড়া হয়েছে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জার্মানিকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে স্পেন। ফলে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার এখন স্পেন।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্পেনে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার ছিল জার্মানি। তখন দেশটিতে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। অন্যদিকে, স্পেনে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে স্পেনে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় বাজারের এই অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৭৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান স্পেনের। দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। স্পেনে রপ্তানি বৃদ্ধির পরিমাণ ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা ইইউর বাজারে বাংলাদেশের মোট নিট রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ, ইউরোপের এই বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে স্পেনের বড় ভূমিকা রয়েছে।

নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডেও প্রবৃদ্ধি

স্পেনের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রথম প্রান্তিকে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং পোল্যান্ডে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির হার ছিল ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ। আলোচিত পাঁচটি প্রধান বাজারের মধ্যে এটিই ছিল মাসভিত্তিক সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে ইউরোপের সব বড় বাজারে একই চিত্র দেখা যায়নি। প্রথম প্রান্তিকে জার্মানিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে। ফ্রান্সে কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ ছাড়া ইইউর অন্যান্য দেশ মিলিয়ে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ

প্রথম প্রান্তিকের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আরও গতি দেখা গেছে। ওই মাসে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ১ লাখ ১০ হাজার ডলারে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি।

প্রথম প্রান্তিকে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের বাজারে রপ্তানি বাড়লেও জার্মানি ও ফ্রান্সে রপ্তানি কমেছে বা প্রায় স্থির ছিল। ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি সব দেশে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি; বরং কয়েকটি নির্দিষ্ট বাজারের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

স্পেনের শীর্ষস্থানে উঠে আসা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। তবে একটি প্রান্তিকের তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বাজার প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। পরবর্তী মাসগুলোতেও স্পেনের বাজারে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকে কি না, পাশাপাশি জার্মানি ও ফ্রান্সের বাজারে রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ায় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ১,৩০৭ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার এখন স্পেন

আপডেট সময় ০১:৫০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জার্মানিকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে স্পেন। ফলে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার এখন স্পেন।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্পেনে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। একই সময়ে জার্মানিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার ছিল জার্মানি। তখন দেশটিতে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। অন্যদিকে, স্পেনে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে স্পেনে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় বাজারের এই অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৭৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান স্পেনের। দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। স্পেনে রপ্তানি বৃদ্ধির পরিমাণ ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা ইইউর বাজারে বাংলাদেশের মোট নিট রপ্তানি বৃদ্ধির প্রায় ৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ, ইউরোপের এই বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে স্পেনের বড় ভূমিকা রয়েছে।

নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডেও প্রবৃদ্ধি

স্পেনের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রথম প্রান্তিকে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং পোল্যান্ডে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির হার ছিল ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ। আলোচিত পাঁচটি প্রধান বাজারের মধ্যে এটিই ছিল মাসভিত্তিক সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে ইউরোপের সব বড় বাজারে একই চিত্র দেখা যায়নি। প্রথম প্রান্তিকে জার্মানিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে। ফ্রান্সে কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ ছাড়া ইইউর অন্যান্য দেশ মিলিয়ে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ

প্রথম প্রান্তিকের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আরও গতি দেখা গেছে। ওই মাসে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪১ কোটি ১ লাখ ১০ হাজার ডলারে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি।

প্রথম প্রান্তিকে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের বাজারে রপ্তানি বাড়লেও জার্মানি ও ফ্রান্সে রপ্তানি কমেছে বা প্রায় স্থির ছিল। ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি সব দেশে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি; বরং কয়েকটি নির্দিষ্ট বাজারের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

স্পেনের শীর্ষস্থানে উঠে আসা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। তবে একটি প্রান্তিকের তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বাজার প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। পরবর্তী মাসগুলোতেও স্পেনের বাজারে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকে কি না, পাশাপাশি জার্মানি ও ফ্রান্সের বাজারে রপ্তানি ঘুরে দাঁড়ায় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।