ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপন হিন্দুদের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের ধামইরহাটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দোকানমালিকদের হয়রানির অভিযোগ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশিরের বিরুদ্ধে ৩৭ দিনে ইয়েমেনের ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে করেছে হুথিরা বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ আ.লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার ড. ইউনূস: রিজভী কামারখন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওয়ার্ডবয় করিম সরকারের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়ায় অসহায় দুই শিশুর পাশে দাঁড়াল পুলিশ এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

ছিনতাইয়ের সতর্কসংকেতে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে জরুরি অবতরণ

ভারতের বৃহত্তম বিমান পরিষেবা সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে নয়াদিল্লিগামী একটি ফ্লাইটে বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কসংকেত পাওয়ার পর সেটিকে জয়পুরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

জয়পুর বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চরণ সিং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। উড়োজাহাজটিতে মোট ৩০৫ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা সবাই নিরাপদে আছেন।

চরণ সিং আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফ্লাইটটির একজন পাইলট বিমান চালানোর সময় ভুলবশত ওই সতর্কসংকেতটি সক্রিয় করে ফেলেছিলেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ।

জয়পুর বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবতরণের পর বিমানটিকে ‘আইসোলেশন বে’ বা বিচ্ছিন্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মীরা বিমান ও যাত্রীদের মালপত্র তল্লাশি শুরু করেন। পরে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে বিমানবন্দরের টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীরা নির্ধারিত কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখবেন।

কী কারণে ছিনতাইয়ের সতর্কসংকেত এসেছিল?

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটি থেকে ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ সংকেত পায়। এর ফলে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

‘স্কোয়াক ৭৫০০’ হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি এভিয়েশন ট্রান্সপন্ডার কোড, যা বিমান ছিনতাই বা বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।

এই সতর্কসংকেতের কারণেই কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটটিকে জয়পুরে অবতরণের নির্দেশ দেয়। সেখানে ভারতের আধাসামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ), স্থানীয় পুলিশ এবং বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়কারী দল নিরাপত্তা তল্লাশি শুরু করে।

ঘটনাটি বোমা হামলার হুমকি, নাকি সন্দেহভাজন বিমান ছিনতাইয়ের প্রচেষ্টা—তা নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

এর আগে বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমস-কে জানিয়েছিলেন, সতর্কবার্তাটি বোমা হামলার হুমকির পরিবর্তে সন্দেহভাজন বিমান ছিনতাই-সংক্রান্ত ছিল।

জয়পুর বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চরণ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সতর্কসংকেতটি হয়তো ভুলবশত সক্রিয় হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা এখনো এর কারণ নিশ্চিত করেননি।

সর্বশেষ প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। নিরাপত্তা তদন্তের ফলাফলও প্রকাশ করা হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপন

ছিনতাইয়ের সতর্কসংকেতে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে জরুরি অবতরণ

আপডেট সময় ০২:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের বৃহত্তম বিমান পরিষেবা সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে নয়াদিল্লিগামী একটি ফ্লাইটে বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কসংকেত পাওয়ার পর সেটিকে জয়পুরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

জয়পুর বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চরণ সিং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। উড়োজাহাজটিতে মোট ৩০৫ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা সবাই নিরাপদে আছেন।

চরণ সিং আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফ্লাইটটির একজন পাইলট বিমান চালানোর সময় ভুলবশত ওই সতর্কসংকেতটি সক্রিয় করে ফেলেছিলেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ।

জয়পুর বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবতরণের পর বিমানটিকে ‘আইসোলেশন বে’ বা বিচ্ছিন্ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মীরা বিমান ও যাত্রীদের মালপত্র তল্লাশি শুরু করেন। পরে যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে বিমানবন্দরের টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীরা নির্ধারিত কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখবেন।

কী কারণে ছিনতাইয়ের সতর্কসংকেত এসেছিল?

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আহমেদাবাদ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটি থেকে ‘স্কোয়াক ৭৫০০’ সংকেত পায়। এর ফলে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

‘স্কোয়াক ৭৫০০’ হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি এভিয়েশন ট্রান্সপন্ডার কোড, যা বিমান ছিনতাই বা বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপের আশঙ্কা নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।

এই সতর্কসংকেতের কারণেই কর্তৃপক্ষ ফ্লাইটটিকে জয়পুরে অবতরণের নির্দেশ দেয়। সেখানে ভারতের আধাসামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ), স্থানীয় পুলিশ এবং বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়কারী দল নিরাপত্তা তল্লাশি শুরু করে।

ঘটনাটি বোমা হামলার হুমকি, নাকি সন্দেহভাজন বিমান ছিনতাইয়ের প্রচেষ্টা—তা নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

এর আগে বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমস-কে জানিয়েছিলেন, সতর্কবার্তাটি বোমা হামলার হুমকির পরিবর্তে সন্দেহভাজন বিমান ছিনতাই-সংক্রান্ত ছিল।

জয়পুর বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চরণ সিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সতর্কসংকেতটি হয়তো ভুলবশত সক্রিয় হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা এখনো এর কারণ নিশ্চিত করেননি।

সর্বশেষ প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। নিরাপত্তা তদন্তের ফলাফলও প্রকাশ করা হয়নি।