ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপন হিন্দুদের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের ধামইরহাটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দোকানমালিকদের হয়রানির অভিযোগ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশিরের বিরুদ্ধে ৩৭ দিনে ইয়েমেনের ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে করেছে হুথিরা বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ আ.লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার ড. ইউনূস: রিজভী কামারখন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওয়ার্ডবয় করিম সরকারের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়ায় অসহায় দুই শিশুর পাশে দাঁড়াল পুলিশ এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

কীভাবে বিশ্বের জনপ্রিয় ইউটিউবার হলেন মিস্টার বিস্ট?

  • বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৪ বার পড়া হয়েছে

ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট ওরফে জিমি ডোনাল্ডসন

একটি ভিডিও, রাতারাতি তারকাখ্যাতি আর মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত—সামাজিক মাধ্যমে সাফল্যের গল্পগুলো অনেক সময় এমনই মনে হয়। কিন্তু পর্দার আড়ালে থাকে বছরের পর বছর চেষ্টা, অসংখ্য ব্যর্থতা আর নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার নিরন্তর লড়াই।

জনপ্রিয় ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট, যার আসল নাম জিমি ডোনাল্ডসন, এবার সেই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, পেশাগত জীবনে বড় সাফল্য পেতে হলে শুধু প্রতিভা বা ভালো ধারণা থাকলেই চলে না; নিজের কাজকে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করার মানসিকতা এবং বারবার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তাও প্রয়োজন।

ডোনাল্ডসনের মতে, সাফল্যের পথ কখনোই সরলরেখায় এগোয় না। কোনো কাজ দর্শকের মন জয় করার আগে একাধিক ভুল, ব্যর্থ প্রচেষ্টা ও সংশোধনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কী ভালো হচ্ছে, কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে—নিজের কাজের দিকে নির্মোহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই উন্নতির প্রথম ধাপ।

তাঁর এই দর্শনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় কিশোর বয়সে তিনি গেমিং ও বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্যধর্মী ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করতেন। প্ল্যাটফর্মটির কার্যপদ্ধতি বোঝার চেষ্টা করতে করতে ধীরে ধীরে নিজের কনটেন্টের ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। অর্থাৎ, শুরুতেই সেরা কাজটি করে ফেলার চাপ না নিয়ে প্রতিটি উদ্যোগকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধারাবাহিকতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ২০১৭ সালের একটি ভাইরাল ভিডিও, যেখানে তিনি টানা ৪০ ঘণ্টা ধরে ১ থেকে ১ লাখ পর্যন্ত গুনে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পরিচিতি নতুন মাত্রা পায়। তবে এই সাফল্যকে নিছক ভাগ্যের ফল হিসেবে দেখেন না ডোনাল্ডসন; বরং এর পেছনে ছিল দর্শক কী পছন্দ করেন, তা বোঝার জন্য বছরের পর বছর ধরে চালানো পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

সেই ধারাবাহিক উন্নতির পথ ধরেই তাঁর উদ্যোগের পরিসর বিস্তৃত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর দাতব্য কার্যক্রমভিত্তিক উদ্যোগ ‘বিস্ট ফিলানথ্রপি’, স্ন্যাকস ব্র্যান্ড ‘ফিস্টেবলস’ এবং প্রতিযোগিতামূলক সিরিজ ‘বিস্ট গেমস’।

তাঁর বক্তব্যের সারকথা, শুরুতেই বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে হবে, এমন নয়। বরং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিজের ভুল স্বীকার করে তা সংশোধনের সাহস আর ধারাবাহিক পরিশ্রমই একসময় প্রাথমিক প্রচেষ্টাকে বড় অর্জনে পরিণত করতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপন

কীভাবে বিশ্বের জনপ্রিয় ইউটিউবার হলেন মিস্টার বিস্ট?

আপডেট সময় ০১:৩৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট ওরফে জিমি ডোনাল্ডসন

একটি ভিডিও, রাতারাতি তারকাখ্যাতি আর মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত—সামাজিক মাধ্যমে সাফল্যের গল্পগুলো অনেক সময় এমনই মনে হয়। কিন্তু পর্দার আড়ালে থাকে বছরের পর বছর চেষ্টা, অসংখ্য ব্যর্থতা আর নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার নিরন্তর লড়াই।

জনপ্রিয় ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট, যার আসল নাম জিমি ডোনাল্ডসন, এবার সেই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, পেশাগত জীবনে বড় সাফল্য পেতে হলে শুধু প্রতিভা বা ভালো ধারণা থাকলেই চলে না; নিজের কাজকে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করার মানসিকতা এবং বারবার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তাও প্রয়োজন।

ডোনাল্ডসনের মতে, সাফল্যের পথ কখনোই সরলরেখায় এগোয় না। কোনো কাজ দর্শকের মন জয় করার আগে একাধিক ভুল, ব্যর্থ প্রচেষ্টা ও সংশোধনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কী ভালো হচ্ছে, কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে—নিজের কাজের দিকে নির্মোহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই উন্নতির প্রথম ধাপ।

তাঁর এই দর্শনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় কিশোর বয়সে তিনি গেমিং ও বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্যধর্মী ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করতেন। প্ল্যাটফর্মটির কার্যপদ্ধতি বোঝার চেষ্টা করতে করতে ধীরে ধীরে নিজের কনটেন্টের ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। অর্থাৎ, শুরুতেই সেরা কাজটি করে ফেলার চাপ না নিয়ে প্রতিটি উদ্যোগকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধারাবাহিকতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ২০১৭ সালের একটি ভাইরাল ভিডিও, যেখানে তিনি টানা ৪০ ঘণ্টা ধরে ১ থেকে ১ লাখ পর্যন্ত গুনে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর পরিচিতি নতুন মাত্রা পায়। তবে এই সাফল্যকে নিছক ভাগ্যের ফল হিসেবে দেখেন না ডোনাল্ডসন; বরং এর পেছনে ছিল দর্শক কী পছন্দ করেন, তা বোঝার জন্য বছরের পর বছর ধরে চালানো পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

সেই ধারাবাহিক উন্নতির পথ ধরেই তাঁর উদ্যোগের পরিসর বিস্তৃত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর দাতব্য কার্যক্রমভিত্তিক উদ্যোগ ‘বিস্ট ফিলানথ্রপি’, স্ন্যাকস ব্র্যান্ড ‘ফিস্টেবলস’ এবং প্রতিযোগিতামূলক সিরিজ ‘বিস্ট গেমস’।

তাঁর বক্তব্যের সারকথা, শুরুতেই বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে হবে, এমন নয়। বরং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিজের ভুল স্বীকার করে তা সংশোধনের সাহস আর ধারাবাহিক পরিশ্রমই একসময় প্রাথমিক প্রচেষ্টাকে বড় অর্জনে পরিণত করতে পারে।