সাংবাদিক দুলাল বিশ্বাসকে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে রাজধানীর মিরপুরের ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ, দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এবং চাঁদা আদায়ের ঘটনা বন্ধ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান দখল, উচ্ছেদ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের। মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো হলেও লোক দেখানো উচ্ছেদ ছাড়া কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, ফুটপাত থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিরপুরের ফুটপাত থেকে চাঁদা উত্তোলনের সঙ্গে সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফুল ইসলাম মামুন, তাজ, আব্বাস, শাহীনূর ইসলাম জীবন ও বিএনপির নজু মাদবরসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। এ চাঁদার অর্থের একটি অংশ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মিরপুর-১০, ফায়ার সার্ভিস, আইডিয়াল, হোপ ও ওয়াসার আশপাশের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা ও দখল-বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে। তাজ ও আব্বাসকে এর মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক ছাত্রদল নেতা আশরাফুল ইসলাম মামুন ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নজু মাদবরের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজিতে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৩ নম্বর পর্যন্ত ফুটপাত থেকে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এ অর্থের ভাগ থানা পুলিশসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সরকারি জায়গা ও সড়কের ফুটপাত দখল করে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ কাফরুল এলাকায় সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে চাঁদাবাজির মূল নিয়ন্ত্রকেরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ফুটপাতসহ সব ধরনের চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনা গেলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমানো সম্ভব হবে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ বছর ধরে যারা ফুটপাত থেকে চাঁদা উত্তোলন করত, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাদের অনেকে একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৩ পর্যন্ত ফুটপাতের দোকান বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা-বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারি জায়গায় দোকান বসিয়ে তা বরাদ্দ ও দখলের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং তার দোকান অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাজ ও আব্বাসের নামে চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে জীবন, সাবেক ছাত্রদল নেতা আশরাফুল ইসলাম মামুন ও বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নজু মাদবর সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাবেক কাউন্সিলর মানিকের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে শাহীনূর ইসলাম জবিন ও আবুল নামে দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের টাকা আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই স্থানীয় হকার ও দোকানদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও পরে আবার দোকান দখল, বিক্রি ও ফুটপাত ভাড়ার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আইডিয়াল স্কুল ও হোপের সামনে প্রায় ৪০০ দোকান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং মাসে ৪ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পজিশন ও জামানতের নামে সরকারি ফুটপাত বরাদ্দ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
চাঁদা উত্তোলনের কাজে সাদ্দাম শহদি, বাপ্পি, মুরসালনি, মুক্তার, রনি, জাপান, এরশাদ, পারভেজ ও সাকিবসহ কয়েকজন তরুণ জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আইডিয়াল স্কুলের সামনে ভুক্তভোগী দোকানদার বাবুল অভিযোগ করে বলেন, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় আবুল ও জীবন তার দোকান দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ করার পর তাকে ও তার পরিবারকে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া সাবেক ছাত্রদল নেতা আশরাফুল ইসলাম মামুনের ছত্রছায়ায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি বাহিনী মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৩ নম্বর পর্যন্ত ফুটপাতসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিরপুরের হোপ এলাকার ফুটপাতে প্রায় ৭০০ দোকান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে মাসে ৪ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হলে মোট ২৮ লাখ টাকা হয়। এই চাঁদা উত্তোলনে রাসের নামে এক বোরকা ব্যবসায়ী, কাউসার নামে কাপড় ব্যবসায়ী, আতাউর রহমান আতা নামে সিরামিক ব্যবসায়ী এবং হাসান নামে এক লাইটম্যান সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























