কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। দলবদ্ধভাবে চলাফেরা, বখাটেপনা, মারামারি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে একযোগে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয় জেলা পুলিশ।
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একই সময়ে অভিযান শুরু হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থান ছাড়াও প্রতিটি থানার আওতাধীন কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা রয়েছে—এমন স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো অপরাধের মামলা রয়েছে কি না কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সে লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জেলার অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
অভিযানকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা দেখা যায়। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত একযোগে অভিযান চলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই কিশোর অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেপনার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আব্দুর রহমান সাঈফ, কুমিল্লা 




















