মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নিজ ঘরবাড়ি ও পরিবার। অথচ সেই ঘরের ভেতরেই এখন জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে একটি পরিবার। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চকপুকুরিয়া গ্রামে এমনই এক অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে স্থানীয় লিটন মধুর স্ত্রী তৃপ্তি মল্লিক (২৫) পানি আনতে গেলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় তাকে হেনস্তা করা হয়, কোমর থেকে পানির কলসি ফেলে দেওয়া হয় এবং তার হাতের শাখা ভেঙে ফেলা হয়। পরে তৃপ্তি মল্লিক কান্নাকাটি করে বিষয়টি স্বামী লিটনকে জানালে লিটন তার ছোট কাকাতো ভাইদের এ বিষয়ে শাসন করেন। এরপর বাড়ির মুরুব্বিদের বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আপস-মীমাংসা হয়ে যায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার জের ধরে একই দিন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সৌরভ মধু (২৫, পিতা: তাপস মধু) বহিরাগত আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের নিয়ে লিটন মধুর বসতবাড়িতে হামলা চালান। হামলাকারীরা বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে লিটন মধুকে মারধর করেন এবং তার চোখে গুরুতর আঘাত করেন। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী তৃপ্তি মল্লিক এগিয়ে এলে সৌরভ মধু তার মাথায় লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করেন।
পরবর্তীতে রিপন বাড়ৈ (কলাবাড়ী), তৃপ্তি মল্লিকের তলপেটে লাথি মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অটল বালা (সাতপাড়), বিভূতি বাড়ৈ, মিহির বাড়ৈ ও শোভন মধু হামলায় সরাসরি অংশ নেন বলে স্থানীয়রা জানান। এ সময় টানাটানির একপর্যায়ে তৃপ্তির হাতে থাকা তার কাকিমার কানের দুল ছিঁড়ে যায়।
চিৎকার শুনে চারপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তৃপ্তি মল্লিককে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তৃপ্তি মল্লিকের আগে তিনটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। তার তলপেট ও মাথায় আঘাত লাগায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার দুই সন্তানও ঘটনায় অনেক ভয় পেয়েছে।
ঘটনার পর সাংবাদিকরা সৌরভ মধু ও তার বাবাকে বাড়িতে পাননি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কৌশিক মধু ও স্বপন মধু বলেন, সামান্য তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এভাবে বাইরে থেকে লোকজন ও আত্মীয়স্বজন এনে হামলা চালানো একেবারেই অনুচিত হয়েছে। কলাবাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) পরিতোষ মধু ঘটনাটি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন।
এই হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয় বিশ্বাস বলেন, ‘সামান্য একটা বিষয় নিয়ে এরকম হবে, কেউই অবগত ছিল না। আমি দুই পক্ষকে ডেকে সমাধান করে দেব।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী লিটন মধু বলেন, ‘আত্মীয়স্বজন মিলে কেন আমাদের ওপর এই হামলা চালাল? আমার স্ত্রীর কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হলে আমি আইনের আশ্রয় নেব। বিষয়টি আমি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তারা যে বিচার করবেন, আমি তা মেনে নেব।’
তবে ভাঙ্গার হাট ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনের আওতায় আনা হবে।’
পঙ্কজ বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ জেলা ক্রাইম রিপোর্টার 






















