ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নওগাঁর রানীনগর সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই ‘হাঁসুয়া বাহিনীর’ সদস্য গ্রেপ্তার বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নজরদারি জোরদার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী বস্ত্রখাতের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস রাষ্ট্রপতির নাশকতায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবহার হচ্ছে কি না দেখা দরকার: ইশরাক মিথ্যা অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত কবর থেকে তোলা হবে গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুরের সেলিম খান ও শান্ত খানের মরদেহ এলিফ্যান্ট রোডে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান হাইকোর্টে সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বরখাস্ত সহজে মিলবে বৈদেশিক মুদ্রা, বাড়বে বাণিজ্যে অর্থায়নের সুযোগ

মিথ্যা অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত

সম্প্রতি অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশের সাবেক সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি (সাবেক পুলিশ সুপার) মো. আপেল মাহমুদকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্ত হবেন। তবে এবার বের হয়ে এসেছে এর নেপথ্যের বিষয়। জানা গেছে, এর পেছনে রয়েছে একটি অজানা কাহিনি।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর আলোচিত পলাশ দাশ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে। বর্তমান সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোরে সংসদ সদস্য থাকাকালে গ্রেপ্তার হন।

তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সার্কেল এসপি হওয়ার কারণে আপেল মাহমুদ সেদিন শুধুমাত্র উপস্থিত ছিলেন। তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলা রুজু করে পলাশ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে তাঁকে রিমান্ডে নেন।

তৎকালীন পুলিশ সুপারের নির্দেশে হত্যা মামলায় বিষয়টি সংযোজন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এ আলোকে আপেল মাহমুদকে শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য, ব্যক্তিগত আক্রমণবশত হুইপ দুলুকে গ্রেপ্তারের কারণে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের পক্ষে প্রাসঙ্গিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে জনাব আপেল মাহমুদকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী ও দোসর বানিয়ে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু একতরফাভাবে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না থাকলেও কেবল হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদারকে খুশি করার জন্য রাজনৈতিক অপচেষ্টার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে এবং এর নমুনা হিসেবে আপেল মাহমুদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আপেল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পরবর্তীকালে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে রিমান্ডে নির্যাতন, অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়। তবে তাঁর পক্ষের বক্তব্য হলো, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রত্যক্ষ ও নথিভিত্তিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, কল রেকর্ড, সিসিটিভি বা আর্থিক লেনদেনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা বিভাগীয় তদন্ত ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে নির্ধারিত হওয়াই ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক দাবি বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে চৌকস ও দক্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তা পর্যটন নগরী কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে কর্মক্ষেত্রে প্রশংসা ও সুনাম কুড়িয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। আপেল মাহমুদকে ঘিরে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এ-সংক্রান্ত পোস্টে হাবিব আল হাসান নামের একজন মন্তব্যে বলেন, ‘আপেল স্যার একজন চৌকস ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে এসব ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

ফাহিম আরমান নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাঁর কর্মময় সাফল্য নিয়ে তাঁরা গর্বিত। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না করে একজন সৎ পুলিশ কর্মকর্তাকে তাঁর কর্তব্য পালন করতে দেওয়ার জন্য তিনি বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানান।

গোলাম সারোয়ার নামের এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘এ দেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যদি রাজনৈতিক রোষানলে পড়তে হয়, তার চেয়ে দুঃখের আর কিছুই নেই এ স্বাধীন দেশে।’ এতে পুলিশের কর্মকাণ্ডে মনোবল নষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে সচেতন মহলের দাবি, ‘আপেল মাহমুদের মতো একজন চৌকস ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে এভাবে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁর রানীনগর সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই ‘হাঁসুয়া বাহিনীর’ সদস্য গ্রেপ্তার

মিথ্যা অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট সময় ০৬:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশের সাবেক সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি (সাবেক পুলিশ সুপার) মো. আপেল মাহমুদকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্ত হবেন। তবে এবার বের হয়ে এসেছে এর নেপথ্যের বিষয়। জানা গেছে, এর পেছনে রয়েছে একটি অজানা কাহিনি।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর আলোচিত পলাশ দাশ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে। বর্তমান সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোরে সংসদ সদস্য থাকাকালে গ্রেপ্তার হন।

তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সার্কেল এসপি হওয়ার কারণে আপেল মাহমুদ সেদিন শুধুমাত্র উপস্থিত ছিলেন। তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলা রুজু করে পলাশ হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে তাঁকে রিমান্ডে নেন।

তৎকালীন পুলিশ সুপারের নির্দেশে হত্যা মামলায় বিষয়টি সংযোজন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এ আলোকে আপেল মাহমুদকে শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য, ব্যক্তিগত আক্রমণবশত হুইপ দুলুকে গ্রেপ্তারের কারণে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের পক্ষে প্রাসঙ্গিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে জনাব আপেল মাহমুদকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী ও দোসর বানিয়ে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু একতরফাভাবে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না থাকলেও কেবল হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদারকে খুশি করার জন্য রাজনৈতিক অপচেষ্টার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে এবং এর নমুনা হিসেবে আপেল মাহমুদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আপেল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পরবর্তীকালে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে রিমান্ডে নির্যাতন, অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়। তবে তাঁর পক্ষের বক্তব্য হলো, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রত্যক্ষ ও নথিভিত্তিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে কোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য, কল রেকর্ড, সিসিটিভি বা আর্থিক লেনদেনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলোর সত্যতা বিভাগীয় তদন্ত ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে নির্ধারিত হওয়াই ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক দাবি বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে চৌকস ও দক্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তা পর্যটন নগরী কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে কর্মক্ষেত্রে প্রশংসা ও সুনাম কুড়িয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। আপেল মাহমুদকে ঘিরে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এ-সংক্রান্ত পোস্টে হাবিব আল হাসান নামের একজন মন্তব্যে বলেন, ‘আপেল স্যার একজন চৌকস ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে এসব ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

ফাহিম আরমান নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাঁর কর্মময় সাফল্য নিয়ে তাঁরা গর্বিত। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না করে একজন সৎ পুলিশ কর্মকর্তাকে তাঁর কর্তব্য পালন করতে দেওয়ার জন্য তিনি বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানান।

গোলাম সারোয়ার নামের এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘এ দেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যদি রাজনৈতিক রোষানলে পড়তে হয়, তার চেয়ে দুঃখের আর কিছুই নেই এ স্বাধীন দেশে।’ এতে পুলিশের কর্মকাণ্ডে মনোবল নষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে সচেতন মহলের দাবি, ‘আপেল মাহমুদের মতো একজন চৌকস ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে এভাবে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়।