উম্মে রেহানা, যুগ্মসচিব, ২০তম ব্যাচ, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের চিহ্নিত দোসর, সকল সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। কোনো রকমের দক্ষতা নেই, তেলবাজিই তার একমাত্র পুঁজি। সব সময় প্রাইজ পোস্টিং বাগিয়ে নেওয়া এই কর্মকর্তা ছিলেন দীর্ঘদিন অর্থ বিভাগে, জনপ্রশাসনের এপিডি উইংয়ে দাপট দেখিয়েছেন ফ্যাসিস্ট আমলে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির দায়ে সংসদ সচিবালয়ে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়। লিয়েনেও কাজ করেছেন। এরপর তৎকালীন ফ্যাসিস্ট বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমান ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর আশীর্বাদ ও ডিও লেটারের বদৌলতে বিদ্যুৎ বিভাগে আগমন।
ফ্যাসিস্ট সরকারের মন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানের পিএস ছিলেন। সে সময় প্রচুর অর্থ কামিয়েছেন। মন্ত্রীর পিএস কাদের করা হয়? বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই ধরনের কর্মকর্তার কি বর্তমান সরকারের পারপাস সার্ভ করার কথা? অথচ তিনি দীর্ঘদিন বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি ও স্যাবোটাজ করতে গোপনে কোম্পানিগুলোতে ইন্ধন জুগিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যুতের সংকটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের মেয়েকে নিয়ে নেপাল ও অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছেন প্রমোদ ভ্রমণে। করেছেন অর্থ পাচার। প্রয়োজন ছাড়াই বিদেশ ভ্রমণ করে চলেছেন সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও। কী নিদারুণ দায়িত্ববোধ দেখিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কাজ করে চলেছেন এই কর্মকর্তা!
তার দুর্নীতি, আওয়ামী ঘনিষ্ঠতা আর বিতর্কিত ভূমিকার কারণেই সম্প্রতি পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। তারপরও তার দৌরাত্ম্য কমেনি। নিজেকে অপরিহার্য প্রমাণে প্রাণান্ত চেষ্টায় লিপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগে খুঁটি গেড়ে বসেছেন। হয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক। স্বামী শিক্ষকতার পাশাপাশি এখন তার কৃপায় আলাদিনের চেরাগ পেয়েছেন। তদবির ব্যবসায় লিপ্ত।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াতি সচিব ফারজানা মমতাজের খুব কাছের ছিলেন। এখনও তার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রয়েছে। ফ্যাসিস্টের দোসর হওয়ায় সকল গোপন তথ্য ফাঁস করে চলেছেন এই কর্মকর্তা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় তিনি গোপনে ফাঁস করে চলেছেন।
অত্যন্ত ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা এখন বিদ্যুৎ বিভাগের ডিসিশন মেকার। তার ক্ষমতার উৎস কোথায়? তিনি সকল ডিস্ট্রিবিউশন ও জেনারেশন কোম্পানির হর্তাকর্তা। তার ইশারায় কোম্পানিতে এমডি ও ইডি নিয়োগ হয়। তাকে ঘুষ না দিয়ে বা খুশি করতে না পারলে কেউ এমডি বা ইডি হতে পারে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে এই ফ্যাসিস্ট আজ কোম্পানিগুলোর শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে চলেছেন। কোম্পানিগুলো এখন যে যার মতো চলছে। সরকারকে বিপদে ফেলতে এই কর্মকর্তা অতিমাত্রায় তৎপর।
তার কারণেই ডিপিডিসিতে আজ পর্যন্ত এমডি নিয়োগ দেওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন বোর্ড মেম্বার থেকে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অঢেল অর্থ কামিয়েছেন। ডিপিডিসির জি টু জি প্রকল্পের ফ্যাসিস্ট আমলের দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছেন, করেছেন অঢেল সম্পত্তি, হয়েছেন একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাটের মালিক।
এই কর্মকর্তা ছিলেন পূর্বের জামায়াতি সচিব ফারজানা মমতাজের সকল অপকর্মের সঙ্গী। ডিপিডিসির সকল পদোন্নতিতে রয়েছে তার হাত। সে এবং তৎকালীন সচিব ফারজানা মমতাজ অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি ও নিয়োগ-বাণিজ্য করে গিয়েছেন। ওজোপাডিকোর এমডি নিয়োগে ৫০ লাখ টাকার লেনদেনের সঙ্গে এই কর্মকর্তা জড়িত বলে শোনা যায়। অযোগ্য এমডি নিয়োগের বিষয়টি যখন ফাঁস হওয়ার উপক্রম হয়েছে, তখনই তড়িঘড়ি করে এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করান। এসব বিষয়ে তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে।
এই উম্মে রেহানার কূটচালে বর্তমান সচিব রয়েছেন অন্ধকারে। সুকৌশলে বর্তমান সচিবকে পাশ কাটিয়ে তিনি এখন হয়েছেন আরও বেপরোয়া। এই কর্মকর্তার সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বিদ্যুতে বারোটা বাজতে আর বেশি দেরি নেই। কোন জাদুর ছোঁয়ায় এই অযোগ্য ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তা এখনও বিদ্যুৎ বিভাগে থাকেন, তাই আশ্চর্যের।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















