ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগে চীনের প্রতি আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম ও স্টেনোগ্রাফার শহীদুলকে ঘিরে বদলি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহিদ-আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে: জাহিদ হোসেন সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ বড়লেখায় অবৈধভাবে টিলা কাটার সময় এক্সকাভেটর আটক ইরানি হামলায় ৪১৭ মার্কিন সেনা আহত, বহু যুদ্ধবিমান ধ্বংস শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ঋণখেলাপি হওয়ায় পদ হারালেন রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল আসিফের অর্থপাচারের সত্যতা পেতে প্রয়োজনে বিদেশে চিঠি দেবে দুদক অসুস্থ হয়েও রোগীর সেবায় ডা. ইরফান, পেলেন সম্মাননা

হত্যাকাণ্ডের আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে বিআইডব্লিউটিএ’র শ্রমিক লীগ নেতা পান্না বিশ্বাস

শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম দোসর পান্না বিশ্বাস ফৌজদারি আইনে একাধিক ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়েও রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালে বিশেষ রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং দলীয় কোটায় বিআইডব্লিউটিএ-তে হিসাব বিভাগে সহকারী পদে নিয়োগ পান পান্না বিশ্বাস। বিআইডব্লিউটিএ-এর বিভিন্ন ঘাট ইজারা, টেন্ডার বাণিজ্য এবং নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মিলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি (সিবিএ নেতা), বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিআইডব্লিউটিএ বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন।

এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অর্থ যোগান দেওয়া এবং শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার সরাসরি অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

কোটি টাকার মালিক ও বহাল তবিয়তে পদায়ন:
২০১২ সালে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার সুপারিশে চাকরি পাওয়া পান্না বিশ্বাস বর্তমানে শিমুলিয়া ড্রেজার বেইজে কর্মরত। তাঁর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় এবং বাবা পঞ্চানন বিশ্বাস ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। ১৩ বছরের চাকরি জীবনে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গিয়েছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও এবং পান্না বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি সংস্থায় অঘোষিত নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করছেন। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পরিবর্তে উল্টো তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।

মামলাসমূহের বিবরণ:
খিলগাঁও থানা মামলা: হত্যার উদ্দেশ্যে সহায়তা, গুরুতর রক্তাক্ত জখম, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা।
পল্টন থানা (সিআর মামলা নং ৬৪/২০২৪): দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে পান্না বিশ্বাসকে ১১১ নম্বর আসামি করা হয়।

যাত্রাবাড়ী থানা (মামলা নং ৭০৪/২০২৪): শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসানুল হক ইনু ও আনিসুল হকের সাথে পান্না বিশ্বাস ১৫১ নম্বর আসামি।

মুগদা থানা (সিআর মামলা নং ২১৬/২০২৪): সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের সাথে পান্না বিশ্বাস ১৭৯ নম্বর আসামি।
পুরোনো ফৌজদারি মামলা: ২০১৭ সালে হিসাব বিভাগের কেরানী কৃপার সঞ্জীব কুমার দাসকে মারধরের অভিযোগে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় (মামলা নং ১৫৯/২০১৭), যাতে পিবিআই চার্জশিট দিয়েছিল।

পরিবারের নামে অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচার:
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পান্না বিশ্বাস তাঁর স্ত্রী দীপিকা দাস (উন্নয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক), শাশুড়ি, ভাই রাহুল দেব বিশ্বাস এবং ভাইয়ের স্ত্রী তাপসী বিশ্বাসের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন, ভারতে অর্থ পাচার ও বাড়ি তৈরি করেছেন। এসব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি নিজে কোনো মন্তব্য না করে বিআইডব্লিউটিএ’র অন্য এক কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষক নেতারা জানান, শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের সমঅধিকারের নীতির পরিপন্থী ও বৈষম্যমূলক।

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের সাথে বৈঠক করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে ড. আব্দুল মঈন খান বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং পিপল-টু-পিপল সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগে চীনের প্রতি আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

হত্যাকাণ্ডের আসামি হয়েও বহাল তবিয়তে বিআইডব্লিউটিএ’র শ্রমিক লীগ নেতা পান্না বিশ্বাস

আপডেট সময় ০৭:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম দোসর পান্না বিশ্বাস ফৌজদারি আইনে একাধিক ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়েও রয়েছেন বহাল তবিয়তে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালে বিশেষ রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং দলীয় কোটায় বিআইডব্লিউটিএ-তে হিসাব বিভাগে সহকারী পদে নিয়োগ পান পান্না বিশ্বাস। বিআইডব্লিউটিএ-এর বিভিন্ন ঘাট ইজারা, টেন্ডার বাণিজ্য এবং নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মিলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি (সিবিএ নেতা), বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিআইডব্লিউটিএ বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন।

এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে অর্থ যোগান দেওয়া এবং শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার সরাসরি অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

কোটি টাকার মালিক ও বহাল তবিয়তে পদায়ন:
২০১২ সালে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার সুপারিশে চাকরি পাওয়া পান্না বিশ্বাস বর্তমানে শিমুলিয়া ড্রেজার বেইজে কর্মরত। তাঁর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় এবং বাবা পঞ্চানন বিশ্বাস ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। ১৩ বছরের চাকরি জীবনে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গিয়েছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও এবং পান্না বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা থাকা সত্ত্বেও তিনি সংস্থায় অঘোষিত নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করছেন। বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পরিবর্তে উল্টো তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।

মামলাসমূহের বিবরণ:
খিলগাঁও থানা মামলা: হত্যার উদ্দেশ্যে সহায়তা, গুরুতর রক্তাক্ত জখম, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা।
পল্টন থানা (সিআর মামলা নং ৬৪/২০২৪): দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে পান্না বিশ্বাসকে ১১১ নম্বর আসামি করা হয়।

যাত্রাবাড়ী থানা (মামলা নং ৭০৪/২০২৪): শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসানুল হক ইনু ও আনিসুল হকের সাথে পান্না বিশ্বাস ১৫১ নম্বর আসামি।

মুগদা থানা (সিআর মামলা নং ২১৬/২০২৪): সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের সাথে পান্না বিশ্বাস ১৭৯ নম্বর আসামি।
পুরোনো ফৌজদারি মামলা: ২০১৭ সালে হিসাব বিভাগের কেরানী কৃপার সঞ্জীব কুমার দাসকে মারধরের অভিযোগে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় (মামলা নং ১৫৯/২০১৭), যাতে পিবিআই চার্জশিট দিয়েছিল।

পরিবারের নামে অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচার:
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পান্না বিশ্বাস তাঁর স্ত্রী দীপিকা দাস (উন্নয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক), শাশুড়ি, ভাই রাহুল দেব বিশ্বাস এবং ভাইয়ের স্ত্রী তাপসী বিশ্বাসের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন, ভারতে অর্থ পাচার ও বাড়ি তৈরি করেছেন। এসব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি নিজে কোনো মন্তব্য না করে বিআইডব্লিউটিএ’র অন্য এক কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষক নেতারা জানান, শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে সব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয় নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের সমঅধিকারের নীতির পরিপন্থী ও বৈষম্যমূলক।

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের সাথে বৈঠক করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে ড. আব্দুল মঈন খান বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং পিপল-টু-পিপল সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।