(সাবেক পদধারী ছাত্রলীগ নেতা) বর্তমানে হাই-টেক পার্কে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত মনির হোসেনকে চট্টগ্রামে বদলির আদেশ করা হয়, কিন্তু সেই বদলির আদেশ বাতিল করে একজন ভালো কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনকে চট্টগ্রাম বদলি করা হয়।
যশোর থেকে আরেক কর্মকর্তা মাহফুজুল কবীরকে (রাবির সাবেক পদধারী ছাত্রলীগ নেতা) ঢাকায় পোস্টিং করানো হয়। অদৃশ্য কারণে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী ছিল তাদেরকে টার্গেট করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঢাকার বাইরে। অনুসন্ধানে আমাদের হাতে এসেছে এই সকল আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ফিরিস্তি।
হাই-টেক পার্কের উপপরিচালক মাহফুজুল কবীর:
ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজুল কবীর- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০৩ সময়ে ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সাথে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ২০০৫ সালের দিকে সৌদি আরবে একটি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে দেশ ছাড়েন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সৌদি আরব হতে দেশে ফিরেন এবং ২০১১ সালে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) পদে যোগদান করেন, এ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ। উপর মহলের আশীর্বাদে দ্রুতই পদায়ন পেয়ে তিনি ডিডি (প্রকিউরমেন্ট) হন। এডি ও ডিডি হিসেবে আওয়ামী সরকারের পুরো সময়টা প্রকিউরমেন্ট শাখায় ছিলেন। এ সময় তিনি স্পেস ও প্লট বরাদ্দ এবং সামিট, ফাইবার এট হোম ও ডিজিকন টেকনোলজির সাথে পিপিপি চুক্তি করেন।
চাকরির শুরুতে আইসিটি বিভাগের তৎকালীন সচিব জনাব নজরুল ইসলাম খান (এন আই খান) সাহেবের ছত্রচ্ছায়ায় দায়বদ্ধতা ও সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রতিষ্ঠান ও নিজেকে দুর্নীতির আতুর ঘরে পরিণত করেন। মাহফুজুল কবীর (ক্রয় সংক্রান্ত কাজের) সহকারী পরিচালকের পাশাপাশি কালিয়াকৈর প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন এবং কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্টের দায়িত্ব পালন করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমেই আওয়ামীপন্থী স্থপতি ইকবাল হাবিবের কোম্পানিকে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কের একটি অস্বচ্ছ নিয়মনীতির বাইরে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে দেওয়া হয় এবং সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানা যায় উক্ত পার্কের প্রকল্পটি ত্রুটিপূর্ণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্প থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় অনেক টাকা।
মাহফুজ কবিরের হাত ধরেই আওয়ামী ঘনিষ্ঠ সামিট গ্রুপের সাথে পিপিপি মডেলে ডেভেলপার হিসেবে হাই-টেক পার্কের (৯১ একর জমি) ২০১৫ সালে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, সেই অসম চুক্তির ড্রাফট তৈরির মাস্টারমাইন্ড এই মাহফুজুল কবির। তারপর কিছু দিন পর ডেভেলপার হিসেবে বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড (ফাইবার হোমের) সাথে পিপিপি মডেলে হাই-টেক পার্কের (৪৩ একর জমি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সামিট ও ফাইবার হোম প্রতিষ্ঠান ২টি কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কের ডেভেলপারের দায়িত্ব পায়, কিন্তু দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই তাদের অভ্যন্তরের কোনো মৌলিক অবকাঠামো (রাস্তা, ড্রেন, বিদ্যুৎ লাইন, ভূমি উন্নয়ন ইত্যাদি) নির্মাণ করেনি। দুই ডেভেলপার শুধু ২টি ভবন নির্মাণ করেছে।
সামিট ও ফাইবার হোম তাদের অভ্যন্তরের মৌলিক অবকাঠামো (রাস্তা, ড্রেন, বিদ্যুৎ লাইন, ভূমি উন্নয়ন ইত্যাদি) হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের টাকায় করিয়ে নিয়েছে, আর তাতে সুবিধার বিনিময়ে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে অবৈধভাবে মাহফুজুল কবীর সহযোগিতা করেন।
এদিকে, যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের পরিচালন ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (পিএমসি) হিসেবে টেকসিটি (ডিজিকন লি:) লিমিটেডের সাথে পিপিপি মডেলে চুক্তি সম্পাদনের মাস্টারমাইন্ডও মাহফুজুল কবির। তার শাখা হতেই সকল ক্রয় ও পিপিপি মডেলের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ডিজিকনের মালিক ওয়াহিদ শরীফ। ওয়াহিদ শরীফ ও জয় পরস্পর বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার আর একারণেই যশোর STP-টিতে ডিজিকন লিঃ-কে পিএমসি হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন।
শক্তিশালী মাহফুজ গংদের কারণে সামিট ও ফাইবার হোমের চুক্তি বাতিল করা যায়নি, কারণ মাহফুজ কবিরের মাধ্যমে যেখানে প্রয়োজন সেখানে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে তারা। অনুসন্ধানে দেখা যায় ডিজিকন, সামিট ও ফাইবার হোমের চুক্তি বাতিলের জন্য যারা সক্রিয় ছিল তাদেরকেই এখন টার্গেট করা হচ্ছে তাদের-কেই সুকৌশলে ফ্যাসিস্ট বানানো হচ্ছে।
মাহফুজুল কবির সাবেক এমডি হোসনে আরা বেগম-কে ম্যানেজ করে ৩০-৪০ লক্ষ টাকা অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে ১২টি বেসরকারি হাই-টেক পার্ক ঘোষণা দিয়েছে। এই মেগা দুর্নীতির প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন সাবেক এমডি হোসনে আরা বেগমের স্বামীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি ও অবৈধ আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে। কালিয়াকৈরসহ অন্যান্য হাই-টেক পার্কে জমি ও স্পেস বরাদ্দ বাবদ প্রায় বেশিরভাগ কোম্পানির কাছ থেকে একরপ্রতি ৫-৭ লক্ষ টাকা করে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। যে কারণে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বরাদ্দপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলো কোনো কাজ না করলেও তাদের বিরুদ্ধে জোরালো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বছরের পর বছর বরাদ্দ নিয়ে বিনিয়োগ না করে ফেলে রাখলেও বরাদ্দ বাতিল করা হয়নি। ২-৩ বছর হয়ে গেলে তাদের প্রদেয় ভাড়া মওকুফের জন্য সুপারিশ করিয়ে নিতেন দুর্নীতির বরপুত্র মাহফুজুল কবির।
অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসে, ঢাকার মহম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান হাউজিংয়ের মধ্যে শাশুড়ির নামে ফ্ল্যাট কিনেন বর্তমানে সেই ফ্ল্যাটে নিজে বসবাস করছেন এবং প্রিমিয়ো প্রাইভেট কার কিনেছেন সহকারী পরিচালক থাকা অবস্থাতেই।
ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) বিকর্ণ কুমার ঘোষের সময় ২০২১-২০২৩ সময়ে জমি, স্পেস ও ওয়ানস্টপ সেবা প্রদান বাবদ বাটার ফ্লাই কোম্পানির কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন মাহফুজুল কবির। ওরিক্স বায়ো-টেক নামীয় চাইনিজ কোম্পানির কাছ থেকে ২৫ একর জমি বরাদ্দ দিয়ে নিয়েছিল ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। নাজ-ডাক নামক কোম্পানির কাছ হতেও ৩০ লাখ টাকা নিয়েছিল।
উক্ত বিষয়গুলো প্রকাশ পাওয়ায় পলক তাকে কিছুদিনের জন্য দূরে সরিয়ে রেখেছিল কিন্তু নিজের লোক তাই কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এগুলো প্রমাণিত সত্য, এছাড়াও অপ্রকাশিত অনেক দুর্নীতি আছে, অনেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করে বলেন কমিশন ছাড়া মাহফুজ কোনো কাজে আগ্রহী ছিলেন না।
১০ বছরে প্রায় ২৫ বার বিদেশ ট্যুর করেছেন সরকারি অর্থে (শুধু আমেরিকাতেই গেছেন ৫ বার)। উঁচু মহলের আশীর্বাদে উন্নত কোনো দেশের ট্যুর হলেই মাহফুজুল কবির অটো মনোনয়ন পেত।
জমি বরাদ্দপ্রাপ্ত কোম্পানির ভূমি উন্নয়নের জন্য মাটির প্রয়োজন হলে ৫-১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কোম্পানিগুলোকে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কের অভ্যন্তরের চলমান লেক খনন করে এবং টিলাগুলোকে সমান করে মাটি ভরাট করে দিতেন।
উপরে বর্ণিত সকল কাজে জুনাইদ আহমেদ পলকের এপিএস রঞ্জিত, পিও একরাম এবং এমডি বিকর্ণ কুমার ঘোষের পিএস কল্যাণ কুমার সরকারও কমিশন পেতো। পরবর্তীতে এপিএস রঞ্জিত এবং পিও একরামের বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানিতে চাকরি হলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্বাহী সদস্য ও পলকের ক্যাশিয়ার নাটোরের মাশরুর আলম মিলনের মাধ্যমে এসব কাজ করাতেন।
মাহফুজুল কবির, এমডি হোসনে আরার সময় ব্যাপক ক্ষমতার প্রভাব এবং আধিপত্য বিস্তার করেন, বিকর্ণ কুমার ঘোষের সাথে মাহফুজুল কবির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল কবীর প্রকিউরমেন্ট (প্রথমে এডি ছিল ও ৫ বছর পরে ডিডি হয়েছে) অফিসার হিসেবে জমি বরাদ্দ ও রাজস্ব বাজেটের কেনা-কাটায় একচেটিয়া কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কামিয়েছেন ব্যাপক অর্থ, নামে-বেনামে কিনেছেন জমি ও বাড়ি।
২০১৯ সালে জনাব হাসান মারুফ পারভেজ রাজশাহী হাই-টেক পার্কের নির্মাণ কাজের পরিদর্শন করে পাইলিংয়ের কাজে মারাত্মক ত্রুটি সংশোধনের জন্য পর্যবেক্ষণ দিলে তৎকালীন প্রভাবশালী এই (মাহফুজুল কবীর) কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট পরিবর্তন করে দিতে বাধ্য করেন হাসান মারুফ পারভেজকে, যেখানে বালি ভরাট, রডের কোয়ালিটি, ঢালাইয়ের উপকরণ ও ঢালাইয়ের পুরুত্ব নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল।
সকল অনিয়ম ধ্বংস করার জন্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মাহফুজুল কবীর ও পিডি ফজলুল হক ৭ তারিখে রাজশাহীতে গিয়ে এলাকার কিছু পূর্বপরিচিত শ্রমিক দিয়ে রাজশাহী হাই-টেক পার্কের অভ্যন্তরে ভাঙচুর করায় কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে তখনো ফ্যাসিস্টের লোকজন থাকায় তদন্ত না করে উল্টো মাহফুজুল কবীরকে দিয়ে কমিটি করে ক্ষয়-ক্ষতি নির্ধারণের জন্য! কমিটি ৩২ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি নির্ধারণ করে!
জানুয়ারি ২০২৫ সালের দিকে এই ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অস্বাভাবিক মনে হলে পুনরায় কমিটি গঠন করা হয় এবং উক্ত কমিটি প্রকৃত ক্ষয়-ক্ষতি ৩-৪ কোটি হয় মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে। এদিকে প্রকল্পটি তখনো হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় ২০২৪ সালের জুন মাসে। ব্যাক ডেটে প্রকল্প বুঝে নেওয়া কমিটি গঠন করা হয় সেখানেও মাহফুজুল কবীরকে রাখা হয়।
এই প্রকল্প কাজে দুর্নীতি হয়ে আচ পেয়ে বুঝে নেওয়া কমিটির ২ জন স্বাক্ষরই করেনি কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কোনো তদন্ত বা বিচার হয়নি।
এখনো নষ্ট হওয়া জিনিস রাজশাহী হাই-টেক পার্কের ১০ তলায় জমা করা আছে, যা সরিয়ে ফেলার/প্রমাণ নষ্ট করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।
রাজশাহী হাই-টেক পার্কে যে ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙচুর করা হয় তার সাক্ষী দিতে পারবে, উপসহকারী প্রকৌশলী ইমাম মেহদী এবং ঐসময় কিছু গার্ড। তাদেরকে এনে জিজ্ঞাসা করলে সকল সত্য বের হয়ে আসবে।
এছাড়াও রাজশাহী হাই-টেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের পিডি ও ডিপিডির রাত্রিযাপনের জন্য রাজশাহী শহরে অফিসের নামে বাসা ভাড়া নেয়া হয়, সেখানে প্রায় ৪ লাখ টাকার খাট, চেয়ার টেবিল, আলনা ইত্যাদি নতুন আসবাব ছিল, যা হাই-টেক পার্কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
এই প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নুরুল (পিডির আশীর্বাদপুষ্ট) কেবল একটি প্রকল্পে চাকরি করে ৭ কোটি টাকা দিয়ে জমি ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে কথিত রয়েছে, বলার অপেক্ষা রাখে না প্রকল্পে কি পরিমাণ দুর্নীতি করেছেন পিডি ও ডিপিডি মিলে।
মনির হোসেন: সাবেক পদধারী ছাত্রলীগ নেতা।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী পরিচালক (চ:দা:) ২০১৪ সালে সাবেক বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। হাই-টেক পার্কের পর পর ২টি নিয়োগে মনির হোসেনসহ মাদারীপুর জেলার ৫ জন নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে মন্ত্রীর কালকিনি উপজেলাতেই আছে ৩ জন, মনির মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের এলাকার। মনির হোসেন ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি তিতুমীর কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী আবুল হোসেনের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ২০১৪ সালে সাবেক মন্ত্রী আবুল হোসেনের ব্যক্তিগত সুপারিশে, প্রচলিত বিধিমালা সম্পূর্ণ তোয়াক্কা না করে তাকে রিসিপশনিস্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী শাহজাহান খান, মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর মতো লোকের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে তিনি হাই-টেক পার্কে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন (তার ফেসবুক পোস্টে তিনি মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীকে ভাই হিসেবে সম্বোধন করেছেন) এবং প্রশাসনিক নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব অনৈতিক ও আর্থিক দুর্নীতি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। রিসিপশনিস্ট পদে থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো তার নির্ধারিত ফ্রন্ট ডেস্কে না ইনভেস্টর লাউঞ্জে বসে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও ঠিকাদারের আর্থিক ফাইলের মধ্যস্থতা ও দালালি কার্যক্রমে লিপ্ত থাকতেন। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলোর অন্যতম হলো ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতি। ডান-হাত বাম হাতে অন্যের স্বাক্ষর নকল করে সম্মানী উত্তোলন করে নিতেন। মনির হোসেনের মাধ্যমে যে সকল বিল সমন্বয় করা হয়েছে সেগুলো তদন্ত করলে সত্যতা ভুয়া বা বিলের বিষয়টি বের হয়ে আসবে।
কর্তৃপক্ষের আয়োজিত বিভিন্ন সেমিনারের ক্ষেত্রে নামে-বেনামে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে সম্মানী ও ভুয়া বিল-ভাউচারে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গত ১০ বছর ধরে তিনি ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, ভুয়া ট্যুর বিল দাখিল, ট্যুরে না গিয়ে টিএ/ডিএ উত্তোলন এবং স্টোরের জন্য ভুয়া মালামাল ক্রয়ের নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন, স্টোরের মালামাল স্টোর থেকে নিজে ব্যবহারের জন্য বাসায় নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।
এমনকি স্টোরের দায়িত্বে থাকাকালীন মালামাল চুরির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাকে প্রশাসনিকভাবে স্টোরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয় একবার।
প্রশাসনিকভাবে মনির হোসেনকে চট্টগ্রাম সফটওয়্যার পার্কে বদলি করা হলেও আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের মদদপ্রাপ্ত হয়ে ২ দিনের ব্যবধানে সচিবের নির্দেশে কর্তৃপক্ষ মনিরের বদলি আদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয়, কি! এক অদৃশ্য ক্ষমতাবান একজন রিসেপশনিস্ট (মনির হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা) যার বদলির আদেশ বাতিল হয়ে যায় এবং মনির গংদের সাজানো মিথ্যা অভিযোগের কারণে ২ জন নিরীহ একটি মিডিয়ার
সুনির্দিষ্ট অনিয়ম, দুর্নীতি ও মালামাল চুরির অভিযোগ সত্ত্বেও সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও আদর্শকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ছাত্রলীগ নেতা মনির হোসেনকে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া ও অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। একজন বিতর্কিত ও অনিয়মে অভিযুক্ত কর্মচারীকে কীভাবে পদোন্নতি প্রদানের এই তোড়জোড় সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ কর্মচারীদের দাবি, পদোন্নতির প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করে তার ভুয়া স্বাক্ষর, জাল বিল-ভাউচার ও বিনিয়োগ শাখা, ওএসএস শাখায় দালালের ভূমিকায় অর্থের বিনিময়ে ফাইল পাস করানো, তদবির বাণিজ্যের সুষ্ঠু তদন্তে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং হাই-টেক পার্কের হেড অফিসকে ছাত্রলীগমুক্ত করতে হবে এবং মনির হোসেনকে হেড অফিসের বাইরে বদলির আদেশ কার্যকর করতে হবে মর্মে সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জোরালো দাবি।
কিন্তু তা না করে উল্টো বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের রিসেপশনিস্ট মনির হোসেনের পদোন্নতি প্রদানের জন্য আওয়ামীপন্থী একটি কর্মকর্তা গ্রুপ তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
যা বৈষম্যবিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কলঙ্কিত করা হচ্ছে বলে অনেক কর্মচারী কর্মকর্তা আক্ষেপ করেন। তাহলে কাদের কলকাঠির জোরে আর কারা এই সকল দুর্নীতিবাজ আওয়ামী সিন্ডিকেটকে পুনর্বাসন করছেন? প্রশ্ন সবার মাঝে!!
নিজস্ব প্রতিনিধি 



















