ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাইবার সুরক্ষা আইনে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের সুযোগ থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী নিয়ম ভেঙে পছন্দের কর্মকর্তাদের অডিটের দায়িত্ব, তদন্তের মুখে হিসাব নিয়ন্ত্রক মাশুক বিল্লাহ দেশের গণতন্ত্র অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ডিআরইউ : রিজভী ডনের আচরণে সালমান শাহ হত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলছে: সিআইডি সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ সদস্যের আত্মসমর্পণ উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা, সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনওর সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সৌজন্য সাক্ষাৎ ডেঙ্গু চিকিৎসায় সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক-সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচও থেকে পুতুলের পদত্যাগ ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

বরিশাল গণপূর্তে টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ, বহাল তবিয়তে প্রকৌশলী ফয়সাল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১১:৩০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২১ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে লাগাতার অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাাটের অভিযোগ। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লটারিতে প্রাপ্ত বৈধ কাজ কৌশলে আত্মসাৎ করা আর নিজস্ব বলয়ের আওয়ামী সিন্ডিকেটকে কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার এক চতুর প্রশাসনিক অরাজকতা চেপে বসেছে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশের প্রশাসনিক চালচিত্রে রদবদল হলেও বরিশালের ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। জুলাই গণহত্যা মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি এবং ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা হিসেবে চিহ্নিত নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বহালতবিয়তে নিজের দাপ্তরিক চেয়ার আঁকড়ে ধরে এক ধরণের তামাশায় হরিলুটের রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

আমীর হোসেন আমুর সাথে একান্ত আলপাচারিতায় মগ্ন প্রকৌশলী ফয়সাল আলম

ফয়সাল আলমের মুজিব কোট পরিহিত ও নৌকার ব্যাচ লাগানো ছবি ভাইরাল হওয়ার পরও এক রহস্যজনক চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে তার প্রশাসনিক সুরক্ষা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অর্থায়ন ও হামলায় মদদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা থাকলেও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে নজিরবিহীন নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। আন্দোলনের আহত লড়াকু যোদ্ধা ও মামলার বাদী মোঃ জহিরুল ইসলাম সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পুরো গণপূর্ত কার্যালয়কে আ’লীগের আস্তানা বানিয়ে রাখা এই আসামিরা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে।

আ’লীগের সময়ে নৌকার ব্যাজ পড়ে নিজ দপ্তরে প্রকৌশলী ফয়সাল আলম

বরিশাল গণপূর্তের ভেতরে অনুসন্ধানী চোখ রাখলেই মিলে যায় লাগাতার অনিয়ম দুর্নীতির আর লুটপাটের স্বর্গরাজ্য। সেখানে নেই কোনো নিয়মের তোয়াক্কা। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৫ লাখ টাকার কাজ মেসার্স মুস্তাকিম বিল্ডার্স কিংবা রিপেয়ারিংয়ের কাজ জেডআর এন্টারপ্রাইজ লটারিতে বৈধভাবে জিতলেও, নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল ও তার ডানহাত খ্যাত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (এসও) জাকারিয়া কৌশলে তাদের ডিসকোয়ালিফাই করে দেয়। পরবর্তীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সিফাত এবং এম এস খান এন্টারপ্রাইজকে কাজ পাইয়ে দিয়ে ব্যাকডেটে সন্তোষজনক কাজের ভূয়া সার্টিফিকেট লিখে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন জালিয়াতিও সম্পন্ন করে এই লুটেরা সিন্ডিকেট।
অপরদিকে পাঁচটি মডেল মসজিদ, নভোথিয়েটার, দুদক ভবন, আনসার অফিস, উজিরপুর থানা ও বিটেক ভবনের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর কোটি কোটি টাকার টেন্ডার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কেবল একটি বিশেষ গোষ্ঠীর পেটে পুরে দেওয়া হচ্ছে। এজন্য ওই সিন্ডিকেট দুর্নীবিাজ লুটেরা নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেশ-বিদেশে প্রমোদ ভ্রমনের ব্যবস্থা করে দেওয়াসহ মধুচন্দ্রিমার আয়োজন করেও বিশেষভাবে মনোরঞ্জন করে আসছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। নির্বাহী প্রকৌশলীর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী এসও জাকারিয়া ঠিকাদারদের রেট কোড মিলিয়ে দিয়ে লাইসেন্স কেনাবেচার হাট বসিয়েছেন বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে। সাবেক আওয়ামী রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালীদের আনুকূল্যে প্রকৌশলী ফয়সালের এই কোটি টাকার দরপত্র চুরির মূলে রয়েছে ‘ক্যাসিনো স¤্রাট’ জিকে শামীমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাসি মিজান। প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের সহায়তায় তার হাতের মুঠোয় রয়েছে অন্তত ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অলিখিত নিয়ন্ত্রণ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর কোণঠাসা ফয়সাল আলম এখন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কতিপয় সুবিধাবাদী নেতাকে শেল্টার বানিয়ে এবং এক প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এই জালিয়াতি ও তাবেদারির বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বরিশাল গণপূর্তের এমন লাগাতার লুণ্ঠনপ্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। যদিও সমস্ত দুর্নীতির দাগ এডিটেড ছবির অজুহাতে ধামাচাঁপা দিতে চান অভিযুক্ত ফয়সাল আলম।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার সুরক্ষা আইনে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের সুযোগ থাকবে না: তথ্যমন্ত্রী

বরিশাল গণপূর্তে টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ, বহাল তবিয়তে প্রকৌশলী ফয়সাল

আপডেট সময় ১১:৩০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে লাগাতার অনিয়ম দুর্নীতি আর লুটপাাটের অভিযোগ। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লটারিতে প্রাপ্ত বৈধ কাজ কৌশলে আত্মসাৎ করা আর নিজস্ব বলয়ের আওয়ামী সিন্ডিকেটকে কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার এক চতুর প্রশাসনিক অরাজকতা চেপে বসেছে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশের প্রশাসনিক চালচিত্রে রদবদল হলেও বরিশালের ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। জুলাই গণহত্যা মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি এবং ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা হিসেবে চিহ্নিত নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বহালতবিয়তে নিজের দাপ্তরিক চেয়ার আঁকড়ে ধরে এক ধরণের তামাশায় হরিলুটের রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

আমীর হোসেন আমুর সাথে একান্ত আলপাচারিতায় মগ্ন প্রকৌশলী ফয়সাল আলম

ফয়সাল আলমের মুজিব কোট পরিহিত ও নৌকার ব্যাচ লাগানো ছবি ভাইরাল হওয়ার পরও এক রহস্যজনক চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে তার প্রশাসনিক সুরক্ষা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অর্থায়ন ও হামলায় মদদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা থাকলেও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে নজিরবিহীন নিষ্ক্রিয়তা দেখাচ্ছে। আন্দোলনের আহত লড়াকু যোদ্ধা ও মামলার বাদী মোঃ জহিরুল ইসলাম সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পুরো গণপূর্ত কার্যালয়কে আ’লীগের আস্তানা বানিয়ে রাখা এই আসামিরা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে।

আ’লীগের সময়ে নৌকার ব্যাজ পড়ে নিজ দপ্তরে প্রকৌশলী ফয়সাল আলম

বরিশাল গণপূর্তের ভেতরে অনুসন্ধানী চোখ রাখলেই মিলে যায় লাগাতার অনিয়ম দুর্নীতির আর লুটপাটের স্বর্গরাজ্য। সেখানে নেই কোনো নিয়মের তোয়াক্কা। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৫ লাখ টাকার কাজ মেসার্স মুস্তাকিম বিল্ডার্স কিংবা রিপেয়ারিংয়ের কাজ জেডআর এন্টারপ্রাইজ লটারিতে বৈধভাবে জিতলেও, নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল ও তার ডানহাত খ্যাত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (এসও) জাকারিয়া কৌশলে তাদের ডিসকোয়ালিফাই করে দেয়। পরবর্তীতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সিফাত এবং এম এস খান এন্টারপ্রাইজকে কাজ পাইয়ে দিয়ে ব্যাকডেটে সন্তোষজনক কাজের ভূয়া সার্টিফিকেট লিখে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন জালিয়াতিও সম্পন্ন করে এই লুটেরা সিন্ডিকেট।
অপরদিকে পাঁচটি মডেল মসজিদ, নভোথিয়েটার, দুদক ভবন, আনসার অফিস, উজিরপুর থানা ও বিটেক ভবনের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর কোটি কোটি টাকার টেন্ডার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে কেবল একটি বিশেষ গোষ্ঠীর পেটে পুরে দেওয়া হচ্ছে। এজন্য ওই সিন্ডিকেট দুর্নীবিাজ লুটেরা নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেশ-বিদেশে প্রমোদ ভ্রমনের ব্যবস্থা করে দেওয়াসহ মধুচন্দ্রিমার আয়োজন করেও বিশেষভাবে মনোরঞ্জন করে আসছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। নির্বাহী প্রকৌশলীর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী এসও জাকারিয়া ঠিকাদারদের রেট কোড মিলিয়ে দিয়ে লাইসেন্স কেনাবেচার হাট বসিয়েছেন বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে। সাবেক আওয়ামী রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালীদের আনুকূল্যে প্রকৌশলী ফয়সালের এই কোটি টাকার দরপত্র চুরির মূলে রয়েছে ‘ক্যাসিনো স¤্রাট’ জিকে শামীমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাসি মিজান। প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের সহায়তায় তার হাতের মুঠোয় রয়েছে অন্তত ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অলিখিত নিয়ন্ত্রণ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর কোণঠাসা ফয়সাল আলম এখন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কতিপয় সুবিধাবাদী নেতাকে শেল্টার বানিয়ে এবং এক প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এই জালিয়াতি ও তাবেদারির বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বরিশাল গণপূর্তের এমন লাগাতার লুণ্ঠনপ্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। যদিও সমস্ত দুর্নীতির দাগ এডিটেড ছবির অজুহাতে ধামাচাঁপা দিতে চান অভিযুক্ত ফয়সাল আলম।