ইতিহাস, জানি নীরব সাক্ষী তুমি / আমরা চেয়েছি স্বাধীন স্বদেশভূমী’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁদপুরে সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়েছে গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ। আজ ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (২১ ভাদ্র ১৪৩৩) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য স্মরণ সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহম্মেদ জিয়াউর রহমান। এছাড়াও চাঁদপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় গুণীজনেরা এই স্মরণ সভায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন ও সাহিত্যকর্মের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
‘সুকান্ত ভট্টাচার্য কেন প্রাসঙ্গিক?!’ এই বিষয়ে আলোকপাত করে সাহিত্য একাডেমি, চাঁদপুরের পরিচালক মাইনুল ইসলাম মানিক বলেন, “সমাজে আজও ক্ষুধা বিরাজমান, চারদিকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ চলছে এবং শিশুদের জন্য এখনও একটি সম্পূর্ণ আভাসযোগ্য বাসভূমির অভাব রয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই সুকান্ত আজও আমাদের মাঝে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।”
কবির সমাজচেতনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরীফ মাহমুদ চিশতী। তিনি কবির কবিতায় ফুটে ওঠা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এবং সামাজিক বৈষম্যের চিত্রগুলো তুলে ধরেন।
একই কলেজের বাংলা বিভাগের আরেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান তাঁর আলোচনায় বাংলা সাহিত্যের দুই বিপ্লবী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের তুলনামূলক মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন। তিনি দেখান কীভাবে উভয় কবিই তাঁদের ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
আলোচনা পর্বে কবির বিখ্যাত পঙ্ক্তি ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় / পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’ স্মরণ করে বক্তারা সুকান্তের কালজয়ী ভাবনার প্রশংসা করেন।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে কবি সুকান্তের গণমুখী গান ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আনন্দ ধ্বনি সঙ্গীত নিকেতন’। বিপুল সংখ্যক সাহিত্যপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি মুখরিত হয়ে ওঠে।
দীন মোহাম্মদ-চাঁদপুর প্রতিনিধি 




















