ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচন কমিশনকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে : পাটওয়ারী নরসিংদী ভূয়া সিভিল কোর্ট কমিশনার গ্রেফতার আমদানি বাণিজ্য সহজ করতে এক ছাতার নিচে সব বিধিমালা গোপনে বিমান বদলালেন ট্রাম্প, ক্ষুব্ধ সফরসঙ্গী সাংবাদিকরা পাহারাদার ৫ কুকুরকে অচেতন করে কৃষকের গরু চুরি বিদ্যুৎ সংযোগের পরই ৩ মহল্লায় পুড়ে গেল টিভি-ফ্রিজসহ বিভিন্ন ডিভাইস রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল রংপুরের হাড়িয়ারকুঠিতে একদিনে হাজার গাছের চারা রোপণ ব্যাটারি রিকশা-ই-বাইক বিদ্যুতের বড় অংশ টেনে নিচ্ছে : জ্বালানিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করতে ইসিতে ১১ দলীয় জোট

আমদানি বাণিজ্য সহজ করতে এক ছাতার নিচে সব বিধিমালা

আমদানি বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জটিলতা কমিয়ে নিয়মকানুনকে আরও সহজ ও সময়োপযোগী করতে নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত এক বছরে জারি হওয়া বিভিন্ন নির্দেশনা একীভূত করে এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে আমদানি সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতি বাড়ার পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন এই সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জারি করা ‘এফই সার্কুলার নম্বর-৩৩’ হালনাগাদ করা হয়েছে। বিগত এক বছরে জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনাকে এতে একীভূত করে আমদানি সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান এক জায়গায় আনা হয়েছে।

নতুন এই সার্কুলার জারির সঙ্গে সঙ্গে আগের সব পুরোনো নির্দেশনামূলক সার্কুলার বাতিল করা হয়েছে। তবে আমদানি সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের নির্দেশনা আগের মতোই বহাল থাকবে। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই সমন্বিত নির্দেশনা আগামী এক বছর কার্যকর থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা এলে তা এর সঙ্গেই মিলিয়ে প্রয়োগ করা হবে।

নতুন কাঠামোতে আমদানি বাণিজ্যের সার্বিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন রিপোর্টিং, ঋণপত্র (এলসি), অনুমোদিত পরিশোধ পদ্ধতি, অগ্রিম অর্থ প্রেরণ, বিল অব এন্ট্রি দাখিল, সরবরাহকারী ও ক্রেতার ঋণ, আমদানি দায় পরিশোধ এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধান। এছাড়া বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা, আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি পরিশোধে রপ্তানি আয় সংরক্ষণ, বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ এলসি, বিশেষায়িত ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের নিয়মাবলি এবং স্বর্ণ, রুপা, গহনা ও বৈদেশিক মুদ্রার নোট আমদানির বিষয়টিও এই সার্কুলারে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হালনাগাদ নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ী মহল। তাদের মতে, ডিজিটাল ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার মতো আধুনিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে নতুন এই কাঠামোর সুফল পুরোপুরি পেতে হলে মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন, উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি এবং ব্যাংক ও আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন কমিশনকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে : পাটওয়ারী

আমদানি বাণিজ্য সহজ করতে এক ছাতার নিচে সব বিধিমালা

আপডেট সময় ০১:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

আমদানি বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জটিলতা কমিয়ে নিয়মকানুনকে আরও সহজ ও সময়োপযোগী করতে নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত এক বছরে জারি হওয়া বিভিন্ন নির্দেশনা একীভূত করে এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে আমদানি সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতি বাড়ার পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন এই সার্কুলারের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জারি করা ‘এফই সার্কুলার নম্বর-৩৩’ হালনাগাদ করা হয়েছে। বিগত এক বছরে জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনাকে এতে একীভূত করে আমদানি সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান এক জায়গায় আনা হয়েছে।

নতুন এই সার্কুলার জারির সঙ্গে সঙ্গে আগের সব পুরোনো নির্দেশনামূলক সার্কুলার বাতিল করা হয়েছে। তবে আমদানি সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের নির্দেশনা আগের মতোই বহাল থাকবে। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই সমন্বিত নির্দেশনা আগামী এক বছর কার্যকর থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা এলে তা এর সঙ্গেই মিলিয়ে প্রয়োগ করা হবে।

নতুন কাঠামোতে আমদানি বাণিজ্যের সার্বিক দিক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন রিপোর্টিং, ঋণপত্র (এলসি), অনুমোদিত পরিশোধ পদ্ধতি, অগ্রিম অর্থ প্রেরণ, বিল অব এন্ট্রি দাখিল, সরবরাহকারী ও ক্রেতার ঋণ, আমদানি দায় পরিশোধ এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধান। এছাড়া বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা, আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি পরিশোধে রপ্তানি আয় সংরক্ষণ, বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ এলসি, বিশেষায়িত ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের নিয়মাবলি এবং স্বর্ণ, রুপা, গহনা ও বৈদেশিক মুদ্রার নোট আমদানির বিষয়টিও এই সার্কুলারে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই হালনাগাদ নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ী মহল। তাদের মতে, ডিজিটাল ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার মতো আধুনিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে নতুন এই কাঠামোর সুফল পুরোপুরি পেতে হলে মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন, উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি এবং ব্যাংক ও আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।