ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সব ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদী সরকার, এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও ড্রপআউটমুক্ত রামপাল গঠনে সাংবাদিকদের অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর বড়লেখা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে ৯২টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতে হামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এসএসসিতে চমক রংপুরের জানপুর মুন্সির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুদক মামলার আসামিই এখন তদন্ত কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়ায় পুকুর প্রকল্পে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ বেসিক ব্যাংকের ১৭৩ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রাজউক জোন-৪ পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়াকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতি
তদন্ত শুরু দুদকের

বেসিক ব্যাংকের ১৭৩ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বেসিক ব্যাংকে এক হাজার ১৭৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং বেতন-ভাতার নামে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও রেকর্ডপত্র চেয়ে বেসিক ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে দুদক। গত ২৬ জুলাই কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া-২) মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন। অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট এক হাজার ১৭৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, পদবি, নিয়োগ বা পদোন্নতির তারিখ এবং কর্মস্থলের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, প্রার্থী তালিকা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল এবং মেধাতালিকাও চাওয়া হয়েছে।

নিয়োগ ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি, মানবসম্পদ বিভাগ, নিয়োগ কমিটি ও পদোন্নতি কমিটি অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সভার কার্যবিবরণীও চেয়েছে দুদক। একই সঙ্গে এসব সিদ্ধান্তের অনুমোদন ও সুপারিশ-সংক্রান্ত নথি দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রস্তুত করা নোটশিট, প্রস্তাবনা, মতামত, অনুমোদনপত্র এবং দায়িত্বের যোগাযোগপত্রের অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে। নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় অথবা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা অনাপত্তি থাকলে তার অনুলিপি দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এসব বিষয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত কোনো নিরীক্ষা, তদন্ত, পরিদর্শন কিংবা অনুসন্ধান প্রতিবেদন থাকলে সেগুলোর অনুলিপিও চেয়েছে দুদক।

অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, দায়িত্বকাল এবং দায়িত্বের ধরন-সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে দুদক। এ ছাড়া এসব বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত কোনো প্রশাসনিক, বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সময়কালে কার্যকর নিয়োগ নীতিমালা, জনবল কাঠামো, চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা এবং এসবের সংশ্লিষ্ট সব সংশোধনী বা পরিপত্রের অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রমের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য, দলিল বা রেকর্ডপত্র থাকলে সেগুলোও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লিখিত রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ছায়ালিপি আজ ৯ আগস্টের মধ্যে দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেসিক ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। বেসিক ব্যাংকে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগকৃত বলে অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা খান ইকবাল হাসান বর্তমানে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে এবং হাসান তানভীর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রূপালী ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন।

হাসান তানভীরের বিরুদ্ধে বেসিক ব্যাংকের পর রূপালী ব্যাংককেও ধ্বংসের পথে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আইটি খাতে অনিয়ম এবং ২০২৪ সালে টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে রূপালী ব্যাংকের যোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা কমে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পর থেকে রূপালী ব্যাংকও বেসিক ব্যাংকের মতো একই পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সব ধ্বংস করে গেছে ফ্যাসিবাদী সরকার, এখন পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

তদন্ত শুরু দুদকের

বেসিক ব্যাংকের ১৭৩ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:১৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বেসিক ব্যাংকে এক হাজার ১৭৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং বেতন-ভাতার নামে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও রেকর্ডপত্র চেয়ে বেসিক ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে দুদক। গত ২৬ জুলাই কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া-২) মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন। অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট এক হাজার ১৭৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম, পদবি, নিয়োগ বা পদোন্নতির তারিখ এবং কর্মস্থলের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, প্রার্থী তালিকা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল এবং মেধাতালিকাও চাওয়া হয়েছে।

নিয়োগ ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি, মানবসম্পদ বিভাগ, নিয়োগ কমিটি ও পদোন্নতি কমিটি অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সভার কার্যবিবরণীও চেয়েছে দুদক। একই সঙ্গে এসব সিদ্ধান্তের অনুমোদন ও সুপারিশ-সংক্রান্ত নথি দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রস্তুত করা নোটশিট, প্রস্তাবনা, মতামত, অনুমোদনপত্র এবং দায়িত্বের যোগাযোগপত্রের অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে। নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় অথবা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা অনাপত্তি থাকলে তার অনুলিপি দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এসব বিষয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত কোনো নিরীক্ষা, তদন্ত, পরিদর্শন কিংবা অনুসন্ধান প্রতিবেদন থাকলে সেগুলোর অনুলিপিও চেয়েছে দুদক।

অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, দায়িত্বকাল এবং দায়িত্বের ধরন-সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে দুদক। এ ছাড়া এসব বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত কোনো প্রশাসনিক, বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা থাকলে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সময়কালে কার্যকর নিয়োগ নীতিমালা, জনবল কাঠামো, চাকরি বিধিমালা ও পদোন্নতি নীতিমালা এবং এসবের সংশ্লিষ্ট সব সংশোধনী বা পরিপত্রের অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রমের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য, দলিল বা রেকর্ডপত্র থাকলে সেগুলোও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লিখিত রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ছায়ালিপি আজ ৯ আগস্টের মধ্যে দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেসিক ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। বেসিক ব্যাংকে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগকৃত বলে অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা খান ইকবাল হাসান বর্তমানে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে এবং হাসান তানভীর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রূপালী ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন।

হাসান তানভীরের বিরুদ্ধে বেসিক ব্যাংকের পর রূপালী ব্যাংককেও ধ্বংসের পথে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আইটি খাতে অনিয়ম এবং ২০২৪ সালে টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে রূপালী ব্যাংকের যোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা কমে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পর থেকে রূপালী ব্যাংকও বেসিক ব্যাংকের মতো একই পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ।