জয়নাল আবেদীন যশোরী॥ গণপূর্ত ই/এম উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার। লটারিতে তার বর্তমান কর্মস্থল ভোলা গণপূর্ত বিভাগ। সরকারি কর্মচারী হয়েও তিনি স্বঘোষিত একজন আলীগার। প্রায় ১০ বছর ফ্যাসিবাদের আতুরঘর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কাজের দায়িত্বে থেকে রাজধানীর জুরাইনে ৫ তলা বাড়ি, নিউ মার্কেটে স্বর্ণের দোকান, বরিশাল শহরে বাড়ি, বাকেরগঞ্জে বিশাল ইটভাটা ও কয়েকশ’ বিঘা জমিসহ নামে-বেনামে অর্ধ শতাধিক কোটি টাকার সহয়-সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। ৫ আগস্টের পরে তিনি গিরিগিটির ন্যায় রং পাল্টিয়ে আওয়ামী জার্সি হিমাগারে রেখে জাতীয়তাবাদী ইউনিফর্ম গায়ে লাগিয়ে বিএনপি’র বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অর্থায়ন করে সেলফি তুলে ফ্যাসিবাদের আমলে নিজের সকল অপকর্ম ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি এখন নব্য জাতীয়তাবাদী। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
আলীগ সরকারের হুইপ ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মূর্তজার সাথে খোশগল্পে আবুল বাশার
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আবুল বাশার ২০১৫ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেক হাসিনার বিশ^স্থ কর্মী হিসাবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল জাদুঘর ও সুদাসদনের দায়িত্বে ছিলেন। সে সুবাদে নিজ এলাকা বরিশালের বাকেরগঞ্জে আলীগের পরিচয়ে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি। আবুল বাশার বাকেরগঞ্জ ৭নং কবাই ইউনিয়ন আ’লীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
সে সময়ে আ’লীগের মিছিল মিটিং এবং জনসভায় লক্ষ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছিলেন। ওই এলাকায় তিনি আলীগের ডোনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এমনকি অফিস ফাঁকি দিয়ে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এলাকায় এসে আ’লীগের এমপি নৌকা মার্কার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক এর পক্ষে প্রভাব খাটিয়ে ভোট কারচুপিতে সহায়তা করেছিলেন তিনি। নির্বাচনে এলাকায় যাওয়ার বিষয়টি তিনি অফিসিয়ালভাবে সিগনেচার করে স্বীকার করেছেন। এর প্রমাণাদি আমাদের অনুসন্ধানী টিমের হাতে এসছে।
আবুল বাশারকে অফিসে অনুপুস্থিতির কারণে কারণ দর্শানো চিটি এবং সে প্রেক্ষাপটে তিনি আ’লীগের নির্বাচনী কার্যক্রমে উপস্থিত থেকেছেন বলে উল্লেখ করে অফিসকে জবাব দেওয়া নিজের স্বাক্ষর করা চিঠি
২০২৪ সালে জানুয়ারিতে বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগের বিষয়ে ই/এম ২নং গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব জাহাঙ্গীর আলম চিঠি দিয়ে আবুল বাশারের কাছে কৈফত তলব করেন। ওই প্রেক্ষাপটে উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার ১৫ জানুয়ারী ২০২৫ইং তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলীকে একখানা লিখিত জবাব দেন। চিঠিতে আবুল বাশার লিখেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতির নির্দেশনা মতে বাংলাদেশ আ’লীগের নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য নিজ এলাকাতে ছিলেন।
নির্বাচনের পরের দিন বিজয়ী হওয়ার পরে মাননীয় সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুল হাফিজ মল্লিকের বিজয় সংবর্ধনা ও বিজয় র্যালীসহ একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী নেতাকর্মীদের সাথে আমিও আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত ছিলাম। ওই চিঠির নীচে উপসহকারী প্রকৌশলী মো: আবুল বাশারের স্বাক্ষর আছে। জুলাই বিপ্লবে তিনি বাকেরগঞ্জে আ’লীগের পক্ষে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন আন্দোলন দমাতে। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে বদলাতে থাকে তার চেহারা। কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে ২০২৫ সালের প্রথম থেকেই বিএনপির বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়ে টাকার বিনিময়ে কিছু বিএনপি নেতাদের সাথে সেলফি তুলে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির বিভিন্ন সভায় ব্যয় করছে দুর্নীতি লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ। কথিত সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে নিজের পক্ষে প্রতিবেদন ছাপিয়েছেন। তা সত্ত্বেও দুদকের হাত থেকে রেহাই পাননি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আবুল বাশার। দুদক আাবূল বাশারের বিষয়ে তথ্য চেয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে ২০ এপ্রিল ২০২৫ইং তারিখে একটি চিঠি দেয়।
দুদকের ওই চিঠির প্রেক্ষাপটে ডিপার্টমেন্টের সংস্থাপণ শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জনাব মোঃ মাহাবুব হাসান জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি পাসপোর্ট টিআইএন চাকরির বেতনও অন্যান্য সুবিধাদি চাকরির বিবরণী ঝিগাতলা অফিসার্স কোয়ার্টার নির্মাণ প্রকল্পের তথ্যাদি সরবরাহ করে দুদককে। পরে কয়েক দফায় মোটা অংকের অর্থে দুদককের তদন্ত ধামাচাঁপা দিয়েং রেখেছেন ধরনকুবের উপসহকারী প্রকৌশলী আাবুল বাশার।
অপরদিকে ২০২৫ এর মার্চে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আবুল বাশারের অপকর্মের বিষয়ে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্যে ভূক্তভোগী কুদ্দুস মিয়া বলেন, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ির আয়না ঘরের বৈদ্যুতিক দায়িত্বে ছিলেন উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার। আলীগের প্রভাব বিস্তার করে এই আবুল বাশার আমার এবং আমার বোনের ৭০ শতাংশ ও অন্যান্য প্রতিবেশীদের জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে।
আবুল বাশারের বিষয়ে চাহিদাকৃত তথ্যাদি উপস্থাপন করে দুদককে দেওয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের চিটি
এ সকল বিষয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আবুল বাশারের মোবাইলে একাধিকবার ােপন দিলেও কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















