ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল

দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এক হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে।

উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে যথাসময়ে পরিশোধের ভিত্তিতে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ ও ৫০০ কোটি টাকা অনুদানের মাধ্যমে অন্তত ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।
নতুন উদ্যোগের বিষয়ে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে নতুন এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্সিং) ও অনুদান প্যাকেজ নিয়ে কাজ চলছে। যেসব তরুণ ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, কিন্তু প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাবে তা করতে পারছেন না, তাঁদের এই উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। এ ঋণের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।

ফলে প্রচলিত ব্যাংকঋণের ১১ থেকে ১৫ শতাংশ কিংবা এনজিও ঋণের তুলনায় উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের খরচ অনেক কম হবে।
মাসুরর আরেফিন বলেন, শুধু ঋণ দেওয়াই নয়, উদ্যোক্তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অনুদানের ব্যবস্থাও থাকছে। ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ ও ব্যবসার পারফরম্যান্স বিবেচনায় ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ, কোনো উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা ঋণ পেলে পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে আরো ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, এই ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানত নেওয়া হবে না।
ফলে সম্পদ বা জমি বন্ধক রাখার সক্ষমতা না থাকলেও যোগ্য তরুণদের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, উদ্যোক্তা নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বা নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তা বাছাই করা হবে। এর মাধ্যমে তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তির ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে।

এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে সম্ভাব্য উদ্যোক্তা চিহ্নিত ও যাচাই করবে। উদ্যোক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবসার সম্ভাবনা, দক্ষতা ও প্রকৃত উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি জানান, এই তহবিলের আওতায় শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসা নয়, উৎপাদন ও বাণিজ্য দুই ধরনের উদ্যোগই আসতে পারে। এর মধ্যে মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প, শতরঞ্জি তৈরি এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল

আপডেট সময় ০৭:২০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এক হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণ দেওয়া হবে।

উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে যথাসময়ে পরিশোধের ভিত্তিতে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ ও ৫০০ কোটি টাকা অনুদানের মাধ্যমে অন্তত ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে।
নতুন উদ্যোগের বিষয়ে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে নতুন এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্সিং) ও অনুদান প্যাকেজ নিয়ে কাজ চলছে। যেসব তরুণ ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, কিন্তু প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাবে তা করতে পারছেন না, তাঁদের এই উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। এ ঋণের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।

ফলে প্রচলিত ব্যাংকঋণের ১১ থেকে ১৫ শতাংশ কিংবা এনজিও ঋণের তুলনায় উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থের খরচ অনেক কম হবে।
মাসুরর আরেফিন বলেন, শুধু ঋণ দেওয়াই নয়, উদ্যোক্তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অনুদানের ব্যবস্থাও থাকছে। ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ ও ব্যবসার পারফরম্যান্স বিবেচনায় ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ, কোনো উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা ঋণ পেলে পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে আরো ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, এই ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানত নেওয়া হবে না।
ফলে সম্পদ বা জমি বন্ধক রাখার সক্ষমতা না থাকলেও যোগ্য তরুণদের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, উদ্যোক্তা নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বা নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তা বাছাই করা হবে। এর মাধ্যমে তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তির ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে।

এবিবির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে সম্ভাব্য উদ্যোক্তা চিহ্নিত ও যাচাই করবে। উদ্যোক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবসার সম্ভাবনা, দক্ষতা ও প্রকৃত উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি জানান, এই তহবিলের আওতায় শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসা নয়, উৎপাদন ও বাণিজ্য দুই ধরনের উদ্যোগই আসতে পারে। এর মধ্যে মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প, শতরঞ্জি তৈরি এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।