সংবাদ শিরোনাম ::
‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদযাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ‘নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দিন’, শিক্ষকদের কড়া বার্তা দিলেন মন্ত্রী গোয়াইনঘাটে ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে বিড়ম্বনা, সদর ইউনিয়নের ইজারাদারের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা কিয়েভে বিভীষিকার রাত, রাশিয়ার হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু থমকে আছে উত্তরবঙ্গের ভাগ্যবদলের মেগা প্রজেক্ট তিস্তা মহাপরিকল্পনা রাজধানীর কলাবাগানে সেপটিক ট্যাংকের গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩ ৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথ ছাড়েনি ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, টানা আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারত   মিলেমিশে থাকাই বাংলাদেশের মানুষের আবহমানকালের মূল্যবোধ : প্রধানমন্ত্রী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা ছাড়লেন স্পিকার পেনাল্টি নিয়ে ইংল্যান্ড-কঙ্গো ম্যাচে বিতর্ক কেন?

থমকে আছে উত্তরবঙ্গের ভাগ্যবদলের মেগা প্রজেক্ট তিস্তা মহাপরিকল্পনা

উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের ভাগ্যবদল, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খরা মোকাবিলায় বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বছরের পর বছর ধরে কেবল আলোচনার টেবিলেই ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশাল সম্ভাবনাময় এই মেগা প্রজেক্টটি এখনো আলোর মুখ না দেখায় উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা এখন চরম হতাশায় রূপ নিয়েছে।
কী আছে এই মহাপরিকল্পনায়?

প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (১ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে প্রস্তাবিত এই মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করা। এর মূল দিকগুলো হলো:
নদী শাসন ও ড্রেজিং: তিস্তা নদীর প্রস্থ কমিয়ে গভীরতা বাড়ানো, যাতে বর্ষায় বন্যা না হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখা যায়।
ভূমি পুনরুদ্ধার: নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার করে সেখানে আধুনিক শিল্পনগরী, ইপিজেড, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা।
কৃষি ও মৎস্য চাষ: পরিকল্পিত জলাধার তৈরির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং মৎস্য চাষের প্রসার ঘটানো।
স্যাটেলাইট টাউন: নদীর দুই ধারে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ে তোলা।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়, ব্যাহত হয় বিশাল অঞ্চলের সেচ কাজ।
“তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি নদী শাসন প্রকল্প নয়, এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ। এটি বাস্তবায়ন হলে রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার (রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা) মানুষের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যেত।

তিস্তাপাড়ের মানুষের কাছে এই মহাপরিকল্পনা কেবল কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি তাদের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়। বছরের পর বছর ধরে বর্ষায় ঘরবাড়ি হারানো আর শুষ্ক মৌসুমে ধু-ধু বালুচরের খরায় পুড়তে থাকা এই লাখো মানুষের একমাত্র দাবি—কাগজে-কলমে থাকা এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত আলোর মুখ দেখুক। এক বুক হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা তিস্তার স্থায়ী সমাধান চাই। প্রতি বছর নদী আমাদের সব কেড়ে নেয়। এই মহাপরিকল্পনা চালু হলে অন্তত আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পাবে।” দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সরকার দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবে রূপ দেবে—এমনটাই এখন চরাঞ্চলের কোটি মানুষের শেষ ভরসা ও আকুল আকুতি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উদযাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

থমকে আছে উত্তরবঙ্গের ভাগ্যবদলের মেগা প্রজেক্ট তিস্তা মহাপরিকল্পনা

আপডেট সময় ০১:১৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

উত্তরবঙ্গের কোটি মানুষের ভাগ্যবদল, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খরা মোকাবিলায় বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বছরের পর বছর ধরে কেবল আলোচনার টেবিলেই ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশাল সম্ভাবনাময় এই মেগা প্রজেক্টটি এখনো আলোর মুখ না দেখায় উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা এখন চরম হতাশায় রূপ নিয়েছে।
কী আছে এই মহাপরিকল্পনায়?

প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা (১ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে প্রস্তাবিত এই মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করা। এর মূল দিকগুলো হলো:
নদী শাসন ও ড্রেজিং: তিস্তা নদীর প্রস্থ কমিয়ে গভীরতা বাড়ানো, যাতে বর্ষায় বন্যা না হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখা যায়।
ভূমি পুনরুদ্ধার: নদীর দুই পাড়ে প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার করে সেখানে আধুনিক শিল্পনগরী, ইপিজেড, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা।
কৃষি ও মৎস্য চাষ: পরিকল্পিত জলাধার তৈরির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং মৎস্য চাষের প্রসার ঘটানো।
স্যাটেলাইট টাউন: নদীর দুই ধারে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ে তোলা।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারায়। আবার শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়, ব্যাহত হয় বিশাল অঞ্চলের সেচ কাজ।
“তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি নদী শাসন প্রকল্প নয়, এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ। এটি বাস্তবায়ন হলে রংপুর বিভাগের ৫টি জেলার (রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা) মানুষের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যেত।

তিস্তাপাড়ের মানুষের কাছে এই মহাপরিকল্পনা কেবল কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি তাদের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়। বছরের পর বছর ধরে বর্ষায় ঘরবাড়ি হারানো আর শুষ্ক মৌসুমে ধু-ধু বালুচরের খরায় পুড়তে থাকা এই লাখো মানুষের একমাত্র দাবি—কাগজে-কলমে থাকা এই মহাপরিকল্পনা দ্রুত আলোর মুখ দেখুক। এক বুক হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা তিস্তার স্থায়ী সমাধান চাই। প্রতি বছর নদী আমাদের সব কেড়ে নেয়। এই মহাপরিকল্পনা চালু হলে অন্তত আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু পাবে।” দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সরকার দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবে রূপ দেবে—এমনটাই এখন চরাঞ্চলের কোটি মানুষের শেষ ভরসা ও আকুল আকুতি।