সংবাদ শিরোনাম ::
ভুয়া আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট, এনআইডি জালিয়াতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছে বাবুল কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়েও আটকানো যায়নি অবৈধ সিগারেটের চালান মাদক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মিজানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ আদ্-দ্বীনের শিক্ষা কার্যক্রম অন্য হাসপাতালে চালাতে হবে দুবাইয়ে যেভাবে গ্রেফতার হলেন বেনজীর, সংসদে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাকৃবিতে বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ প্রত্যাখ্যানের দাবিতে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন নওগাঁয় সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় বৃদ্ধ মাকে নির্যাতন দুই ছেলে গ্রেফতার গোপালগঞ্জে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত  মুকসুদপুরে শহিদুলের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন  সারিকালিনগর (বালুরচর) গ্রামের বন্যা-দুর্ভোগ: ৩.২৫ কিমি আইডিভূক্ত রাস্তা পাকাকরণের দাবি
চট্টগ্রাম ​কাস্টমস হাউসে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়েও আটকানো যায়নি অবৈধ সিগারেটের চালান

কাস্টমস হাউসে দাখিলকৃত একটি আমদানিকৃত পণ্যের চালানের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ‘নাজমুল এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই জালিয়াতির সাথে জড়িত। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো— এই অবৈধ আমদানির বিষয়টি কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আগে থেকেই জানতেন। এমনকি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো ‘মোটা অঙ্কের’ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে পণ্য চালানটি খালাস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে সি-১৩৬৭৫৩২ (C-1367532) নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে কাস্টমস হাউসে একটি পণ্যের চালান সাবমিট করা হয়। কাগজপত্রে চালানটিতে ১০০২ কার্টন ম্যাসাজার, মিনি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, নাইফ, স্প্রেয়ার নজল, রেঞ্চ, হেয়ার স্ট্রেইটনার, নেইল কাটার, আইব্রো ক্লিপ, কাঁচি, কি-রিং, প্লাস্টিক ও গ্লাস বিডস আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই বৈধ পণ্যের আড়ালে কৌশলে নিয়ে আসা হয় আরও ৫০০ কার্টন অবৈধ সিগারেট।
​সূত্র জানায়, এই অবৈধ সিগারেট আমদানির তথ্য কাস্টমস হাউসের কমিশনার জাকির হোসেন এবং রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) আসাদুজ্জামান আগে থেকেই অবগত ছিলেন। ২০ জুলাই চালানটি কাস্টমস সিস্টেমে সাবমিট করার পরপরই রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে তথ্যপ্রমাণসহ একটি সতর্কবার্তা (মেসেজ) পাঠানো হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী, এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর পণ্য চালানটি ‘ইনস্পেকশন ট্র্যাক্ট’ বা কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক লক বা আটক করার কথা। কিন্তু কাস্টমসের এই কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
​অভিযোগ রয়েছে, পণ্যটি আটক না করার পেছনে পর্দার আড়ালে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে জালিয়াতির এই চালানটি বিনা বাধায় খালাস পাওয়ার সুযোগ করে দেন। এর ফলে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
​এ বিষয়ে জানতে কাস্টমস হাউসের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়ার পরও কেন চালানটি আটক করা হলো না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুয়া আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং পারমিট, এনআইডি জালিয়াতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছে বাবুল

চট্টগ্রাম ​কাস্টমস হাউসে কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি

কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়েও আটকানো যায়নি অবৈধ সিগারেটের চালান

আপডেট সময় ১০:১৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কাস্টমস হাউসে দাখিলকৃত একটি আমদানিকৃত পণ্যের চালানের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ‘নাজমুল এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই জালিয়াতির সাথে জড়িত। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো— এই অবৈধ আমদানির বিষয়টি কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আগে থেকেই জানতেন। এমনকি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো ‘মোটা অঙ্কের’ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে পণ্য চালানটি খালাস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে সি-১৩৬৭৫৩২ (C-1367532) নম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে কাস্টমস হাউসে একটি পণ্যের চালান সাবমিট করা হয়। কাগজপত্রে চালানটিতে ১০০২ কার্টন ম্যাসাজার, মিনি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, নাইফ, স্প্রেয়ার নজল, রেঞ্চ, হেয়ার স্ট্রেইটনার, নেইল কাটার, আইব্রো ক্লিপ, কাঁচি, কি-রিং, প্লাস্টিক ও গ্লাস বিডস আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই বৈধ পণ্যের আড়ালে কৌশলে নিয়ে আসা হয় আরও ৫০০ কার্টন অবৈধ সিগারেট।
​সূত্র জানায়, এই অবৈধ সিগারেট আমদানির তথ্য কাস্টমস হাউসের কমিশনার জাকির হোসেন এবং রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) আসাদুজ্জামান আগে থেকেই অবগত ছিলেন। ২০ জুলাই চালানটি কাস্টমস সিস্টেমে সাবমিট করার পরপরই রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে তথ্যপ্রমাণসহ একটি সতর্কবার্তা (মেসেজ) পাঠানো হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী, এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর পণ্য চালানটি ‘ইনস্পেকশন ট্র্যাক্ট’ বা কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক লক বা আটক করার কথা। কিন্তু কাস্টমসের এই কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
​অভিযোগ রয়েছে, পণ্যটি আটক না করার পেছনে পর্দার আড়ালে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। রাজস্ব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে জালিয়াতির এই চালানটি বিনা বাধায় খালাস পাওয়ার সুযোগ করে দেন। এর ফলে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
​এ বিষয়ে জানতে কাস্টমস হাউসের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়ার পরও কেন চালানটি আটক করা হলো না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে।