ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি রাজৈরে লিবিয়ায় নির্যাতনের পর নিহত সোহাগ মুন্সি পরিবারের থানায় অভিযোগ মোবাইল কোর্টের অভিযানে হেলমেট না পরায় ৫ মামলায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নিয়ে মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে: পবিপ্রবি উপাচার্য বর্তমানে পত্রিকার পাতায় গুম, খুন, ব্যাংক লুটের খবর নেই : পার্থ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মিলন রানীর পাশে উপজেলা প্রশাসন জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দেবেন না : ডা. শফিকুর রহমান

বিয়ানীবাজারে মইনুলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ,এলাকায় তীব্র ক্ষোভ

​বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দাসগ্রাম এলাকায় এক লন্ডন প্রবাসীর বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং ভবনের ভিতর বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মইনুল ইসলাম (মালিক, নেহার মনজিল,ওয়ার্ড নং-০৬, হোল্ডিং নং-৪৪৯, দাসগ্রাম,বিয়ানীবাজার, সিলেট)। তার আদি বাড়ি প্রতিবেশী মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চান্দ গ্রাম ও দাসগ্রামসহ পুরো বিয়ানীবাজারের সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ​​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার চান্দ গ্রামের বাসিন্দা ও লন্ডন প্রবাসী মইনুল ইসলাম বিয়ানীবাজারের দাসগ্রাম এলাকায় জায়গা কিনে ‘নেহার মনজিল’ নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেন।

ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ও পৌরসভার বিধিমালা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। সম্প্রতি নির্মাণাধীন নবনির্মিত বাড়িটি পূর্ব দিকে প্রায় ৩ ফুট হেলে (কাত হয়ে) পড়লে স্থানীয়দের মনে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। ​স্থানীয়দের অভিযোগ, বিল্ডিংটি যখন পূর্ব দিকে ৩ ফুট হেলে যায়, তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পৌর মেয়র আঃ শুক্কুরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেন মইনুল। প্রবাসী মইনুলের প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকিকে অনৈতিকভাবে ম্যানেজ করে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে প্রতিবেশীদের। ​ভবন নির্মাণে অনিয়ম ছাড়াও উক্ত প্রবাসীর ব্যক্তিগত জীবন ও চারিত্রিক স্খলন নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মইনুল এ পর্যন্ত পাঁচটি বিয়ে করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার নানা অনৈতিক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সহ্য করতে না পেরে এক স্ত্রী স্ট্রোক (হার্ট অ্যাটাক) করে মারা যান। ​এখানেই শেষ নয়, ওই বাড়িতে নিয়মিত কলেজপড়ুয়া তরুণীসহ বিভিন্ন মেয়েদের আনাগোনা থাকে এবং সেখানে সমাজবিরোধী ও অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বাড়ির এই কলুষিত পরিবেশ এবং বাড়ির মালিকের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ভাড়াটিয়ারা বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষ যখন পশুর মতো আচরণ করে, তখন বনের পশুও লজ্জায় পড়ে যায়। বিয়ানীবাজারের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্মানিত অঞ্চলের মান-সম্মান এভাবে কোনো বহিরাগত বা প্রবাসীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ধূলিসাৎ হতে দেওয়া যায় না। ​এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় রোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্তরে এখন জোর দাবি উঠছে।

এলাকাবাসী তাদের বোন, মেয়ে, ভাগনি ও ভাতিজিদের সম্মান রক্ষা এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখনই সবাইকে দলমত নির্বিশেষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
​একই সাথে, এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রশাসন ও বর্তমান পৌর মেয়রের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি

বিয়ানীবাজারে মইনুলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ,এলাকায় তীব্র ক্ষোভ

আপডেট সময় ০১:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

​বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দাসগ্রাম এলাকায় এক লন্ডন প্রবাসীর বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং ভবনের ভিতর বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মইনুল ইসলাম (মালিক, নেহার মনজিল,ওয়ার্ড নং-০৬, হোল্ডিং নং-৪৪৯, দাসগ্রাম,বিয়ানীবাজার, সিলেট)। তার আদি বাড়ি প্রতিবেশী মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চান্দ গ্রাম ও দাসগ্রামসহ পুরো বিয়ানীবাজারের সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ​​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার চান্দ গ্রামের বাসিন্দা ও লন্ডন প্রবাসী মইনুল ইসলাম বিয়ানীবাজারের দাসগ্রাম এলাকায় জায়গা কিনে ‘নেহার মনজিল’ নামে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেন।

ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ও পৌরসভার বিধিমালা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। সম্প্রতি নির্মাণাধীন নবনির্মিত বাড়িটি পূর্ব দিকে প্রায় ৩ ফুট হেলে (কাত হয়ে) পড়লে স্থানীয়দের মনে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। ​স্থানীয়দের অভিযোগ, বিল্ডিংটি যখন পূর্ব দিকে ৩ ফুট হেলে যায়, তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পৌর মেয়র আঃ শুক্কুরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেন মইনুল। প্রবাসী মইনুলের প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকিকে অনৈতিকভাবে ম্যানেজ করে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে প্রতিবেশীদের। ​ভবন নির্মাণে অনিয়ম ছাড়াও উক্ত প্রবাসীর ব্যক্তিগত জীবন ও চারিত্রিক স্খলন নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মইনুল এ পর্যন্ত পাঁচটি বিয়ে করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার নানা অনৈতিক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সহ্য করতে না পেরে এক স্ত্রী স্ট্রোক (হার্ট অ্যাটাক) করে মারা যান। ​এখানেই শেষ নয়, ওই বাড়িতে নিয়মিত কলেজপড়ুয়া তরুণীসহ বিভিন্ন মেয়েদের আনাগোনা থাকে এবং সেখানে সমাজবিরোধী ও অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বাড়ির এই কলুষিত পরিবেশ এবং বাড়ির মালিকের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ভাড়াটিয়ারা বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষ যখন পশুর মতো আচরণ করে, তখন বনের পশুও লজ্জায় পড়ে যায়। বিয়ানীবাজারের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্মানিত অঞ্চলের মান-সম্মান এভাবে কোনো বহিরাগত বা প্রবাসীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ধূলিসাৎ হতে দেওয়া যায় না। ​এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় রোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্তরে এখন জোর দাবি উঠছে।

এলাকাবাসী তাদের বোন, মেয়ে, ভাগনি ও ভাতিজিদের সম্মান রক্ষা এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখনই সবাইকে দলমত নির্বিশেষে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
​একই সাথে, এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রশাসন ও বর্তমান পৌর মেয়রের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।