সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদে বসতে গোলজারের ৪২ কোটি টাকার গোপন চুক্তির অভিযোগ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব কমিয়ে আনার উদ্যোগ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে তোলা নিয়ে মুখ খুললেন মা নীলা চৌধুরী ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সুপারি গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের বগুড়ার শেরপুরে পারিবারিক কলহের জেরে রাজমিস্ত্রির আত্মহত্যা ধামরাইয়ে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা মামলার আসামি হয়েও গুলশান সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে রাজস্ব ফাঁকি, জাল দলিল ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদে বসতে গোলজারের ৪২ কোটি টাকার গোপন চুক্তির অভিযোগ

দেশের মানুষের আমানত রক্ষা, মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ আর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সর্বোচ্চ অভিভাবক বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু খোদ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী চেয়ার কোটি কোটি টাকার গোপন চুক্তিতে কেনাবেচার এক নজিরবিহীন আর্থিক লেনদেনের গোপন চুক্তি ও জালিয়াতি সামনে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্বয়ং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. গোলজারে নবী। চুক্তিতে সই আর ব্ল্যাংক চেকের গ্যারান্টিতে পদ বাগিয়ে নেওয়ার এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি দেশের ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো অতি সংবেদনশীল ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে নিয়োগ ও পদোন্নতি সম্পন্ন হয় কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম, জ্যেষ্ঠতা এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে। কিন্তু ড. গোলজারে নবীর ক্ষেত্রে এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পর্দার আড়ালে বসেছিল এক সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদে বসার ঠিক আগেই একটি লিখিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ড. গোলজারে নবী। যেখানে স্পষ্টাক্ষরে উল্লেখ ছিল—পদে বসার পরবর্তী ২৪ মাস বা ২ বছরের মধ্যে সুদে-আসলে মোট ৪২ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে! কোনো একটি অদৃশ্য চক্রকে এই বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ার অঙ্গীকারনামায় সই করেই তিনি বাগিয়ে নেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের মতো প্রভাবশালী চেয়ার।

এই গোপন চুক্তিটি যাতে কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয় এবং টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে, সেজন্য সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কর্পোরেট স্টাইলের জামানত।

শুধুমাত্র কাগজের চুক্তিতেই ক্ষান্ত হয়নি এই চক্র। ৪২ কোটি টাকা আদায়ের ‘ফাইন্যান্সিয়াল গ্যারান্টি’ হিসেবে ড. গোলজারে নবীর পক্ষ থেকে দুটি স্বনামধন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্পূর্ণ ব্ল্যাংক (খালি) কিন্তু নিজস্ব স্বাক্ষরিত ছয়টি চেক অগ্রিম জমা দেওয়া হয়েছিল ওই গোপন সিন্ডিকেটের হাতে! পদের জন্য এমন ব্ল্যাংক চেক বন্ধক রাখার ঘটনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তার অফিশিয়াল বেতন ও সুযোগ-সুবিধা হিসাব করলে, কোনো অলৌকিক উপায়েও ২৪ মাসে ৪২ কোটি টাকা ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের অঙ্গীকার দুটি চরম বিপদের ইঙ্গিত দেয়—এটি ড. গোলজারে নবীর ব্যক্তিগত আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ এবং দৃশ্যত অবৈধ সম্পদের বহিঃপ্রকাশ। এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই কোনো শক্তিশালী এবং গোপন আর্থিক নেটওয়ার্ক বা সুবিধাভোগী বড় কোনো অর্থপাচারকারী ও ব্যাংক লুটেরা চক্র কাজ করছে। তবে কি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই শীর্ষ চেয়ারটি ব্যবহার করে পুরো ব্যাংকিং খাত লুটের এবং অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার এক ‘মহালিপ্সার লাইসেন্স’ দেওয়া হয়েছিল?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আর্থিক খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা এভাবে অর্থের বিনিময়ে পদ লাভ করেন, তবে তা শুধু এক ব্যক্তির নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; এটি পুরো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আন্তর্জাতিক মহলে ধূলিসাৎ করে দেয়। এর ফলে পুরো ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে চরম আস্থা সংকট তৈরি হতে পারে।

এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. গোলজারে নবীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি এবং পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

ড. মো. গোলজারে নবী ১৯৯৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি আইএফআইসি ব্যাংকে প্রবেশনারী অফিসার ও বাংলাদেশ ব্যাংকে জেনারেল সাইডে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। গোলজারে নবী গবেষণা বিভাগ ছাড়াও মনিটারি পলিসি বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি এবং চিফ ইকোনমিস্ট ইউনিটে কাজ করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদে বসতে গোলজারের ৪২ কোটি টাকার গোপন চুক্তির অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদে বসতে গোলজারের ৪২ কোটি টাকার গোপন চুক্তির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

দেশের মানুষের আমানত রক্ষা, মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ আর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সর্বোচ্চ অভিভাবক বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু খোদ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী চেয়ার কোটি কোটি টাকার গোপন চুক্তিতে কেনাবেচার এক নজিরবিহীন আর্থিক লেনদেনের গোপন চুক্তি ও জালিয়াতি সামনে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্বয়ং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. গোলজারে নবী। চুক্তিতে সই আর ব্ল্যাংক চেকের গ্যারান্টিতে পদ বাগিয়ে নেওয়ার এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি দেশের ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো অতি সংবেদনশীল ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে নিয়োগ ও পদোন্নতি সম্পন্ন হয় কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম, জ্যেষ্ঠতা এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে। কিন্তু ড. গোলজারে নবীর ক্ষেত্রে এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পর্দার আড়ালে বসেছিল এক সিন্ডিকেট।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদে বসার ঠিক আগেই একটি লিখিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ড. গোলজারে নবী। যেখানে স্পষ্টাক্ষরে উল্লেখ ছিল—পদে বসার পরবর্তী ২৪ মাস বা ২ বছরের মধ্যে সুদে-আসলে মোট ৪২ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে! কোনো একটি অদৃশ্য চক্রকে এই বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ার অঙ্গীকারনামায় সই করেই তিনি বাগিয়ে নেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের মতো প্রভাবশালী চেয়ার।

এই গোপন চুক্তিটি যাতে কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয় এবং টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে, সেজন্য সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কর্পোরেট স্টাইলের জামানত।

শুধুমাত্র কাগজের চুক্তিতেই ক্ষান্ত হয়নি এই চক্র। ৪২ কোটি টাকা আদায়ের ‘ফাইন্যান্সিয়াল গ্যারান্টি’ হিসেবে ড. গোলজারে নবীর পক্ষ থেকে দুটি স্বনামধন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্পূর্ণ ব্ল্যাংক (খালি) কিন্তু নিজস্ব স্বাক্ষরিত ছয়টি চেক অগ্রিম জমা দেওয়া হয়েছিল ওই গোপন সিন্ডিকেটের হাতে! পদের জন্য এমন ব্ল্যাংক চেক বন্ধক রাখার ঘটনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তার অফিশিয়াল বেতন ও সুযোগ-সুবিধা হিসাব করলে, কোনো অলৌকিক উপায়েও ২৪ মাসে ৪২ কোটি টাকা ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের অঙ্গীকার দুটি চরম বিপদের ইঙ্গিত দেয়—এটি ড. গোলজারে নবীর ব্যক্তিগত আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ এবং দৃশ্যত অবৈধ সম্পদের বহিঃপ্রকাশ। এর পেছনে নিশ্চিতভাবেই কোনো শক্তিশালী এবং গোপন আর্থিক নেটওয়ার্ক বা সুবিধাভোগী বড় কোনো অর্থপাচারকারী ও ব্যাংক লুটেরা চক্র কাজ করছে। তবে কি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই শীর্ষ চেয়ারটি ব্যবহার করে পুরো ব্যাংকিং খাত লুটের এবং অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার এক ‘মহালিপ্সার লাইসেন্স’ দেওয়া হয়েছিল?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আর্থিক খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা এভাবে অর্থের বিনিময়ে পদ লাভ করেন, তবে তা শুধু এক ব্যক্তির নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; এটি পুরো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে আন্তর্জাতিক মহলে ধূলিসাৎ করে দেয়। এর ফলে পুরো ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে চরম আস্থা সংকট তৈরি হতে পারে।

এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গবেষণা) ড. গোলজারে নবীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি এবং পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

ড. মো. গোলজারে নবী ১৯৯৪ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি আইএফআইসি ব্যাংকে প্রবেশনারী অফিসার ও বাংলাদেশ ব্যাংকে জেনারেল সাইডে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। গোলজারে নবী গবেষণা বিভাগ ছাড়াও মনিটারি পলিসি বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি এবং চিফ ইকোনমিস্ট ইউনিটে কাজ করেছেন।