জুলাই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম এখনো রাষ্ট্রায়ত্ব রুপালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থাকায় রুপালী ব্যাংক জাতীয়তাবাদী আদর্শের নেতৃবৃন্দ, ফ্যাসিজম বিরোধী কর্মকর্তাদের পক্ষে রূপালী ব্যাংক পিএলসি, জিয়া পরিষদ কর্তৃক এক লিখিত অভিযোগে গত ৪ জুন অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রূপালী ব্যাংকে কায়েম হয়েছে ফ্যাসিবাদের আরেক প্রতিচ্ছবি। শেখ হাসিনা পলায়নের পর অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় নিয়োগ প্রাপ্ত জুলাই হত্যা মামলার আসামি (মামলা নং-০৬, আসামী-৪৫, সিআর মামলা নং-৬৩/২৫, আসামী নং- ৪৭), বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম রূপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে এখনো কর্মরত। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে বিপুল পরিমাণ অর্থ যোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দায়িত্ব নিয়েই বিএনপি সহ সকল ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিকে দূর দূরান্তে বদলি ও প্রমোশন বঞ্চিত করণসহ নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে হয়রানির শিকার করছেন। দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রতিশ্রুতির বিপরীতে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যক্রম ব্যাংকটিকে স্বৈরতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট পরিবেশে ঠেলে দিচ্ছে।
ব্যাংকটি ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ৫৮৭ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে, যা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অদূরদর্শী, অদক্ষতা ও সীমাহীন দুর্নীতির ফলাফল। দীর্ঘদিন লাভজনক অবস্থায় থাকা ব্যাংকটিকে পরিকল্পিতভাবে লোকসানের মধ্যে নিমজ্জিত করে দেশের আর্থিক খাতে নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার নানা রকম অশুভ চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিগত ১৭ বছরের বর্তমান ফ্যাসিবাদী এমডি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ২৯/০৪/২০২৬ ইং তারিখের বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএসডি-৪(উইং-১)২০২৬-২৫৯ নং পত্রের মাধ্যমে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অত্র ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখার মাধ্যমে গ্রাহক মাসটেক্স লিমিটেড এর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা ও অডিট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও উক্ত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ অনুমোদন করেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রভাবশালী উপদেষ্টা ডিজিএম সাখাওয়াত হোসেন রুপালী সদন কর্পোরেট শাখা ঢাকার শাখা প্রধান হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন বিধি বহির্ভুতভাবে ২৪ টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ১.৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি ও এজিএম একেএম ফারুকুল ইসলাম দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশী সময় ধরে ব্যাংকের মানব সম্পদ নীতিমালা লংঘন করে এসএমই বিভাগে অদ্যাবধি কর্মরত থেকে বিভিন্ন ঋণ জালিয়াতী ও অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন।
বর্তমান এমডি যোগদানের পর হতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একমাত্র উৎসাহ প্রদানকারী অনুষ্ঠান বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হলেও তার সময়কাল ২০২৫ ও ২০২৬ সালে কোন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। উক্ত খাতসহ ব্যাংকের ক্রিকেট দল এর জন্য বরাদ্দকৃত অথের্র সকল খরচ হিসাব হওয়া উচিত। ফ্যাসিস্ট আমলে গঠিত ক্রীড়া পরিষদের সদস্য সচিব সাখাওয়াত হোসেনকে বহাল তবিয়তে রেখে তার মাধ্যমে তিনি ক্রীড়া পরিষদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। রুপালী ব্যাংকের ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এ বিভিন্ন ট্রেনিং প্রোগ্রাম উদ্বোধন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে ট্রেনিং একাডেমির জিএম এর মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ করছেন-যা নিরপেক্ষ তদন্ত করলে সঠিক তথ্য বেড়িয়ে আসবে। ট্রেনিং একাডেমিতেও চলছে চরম অব্যবস্থাপনা।
এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার নিজ এলাকার কর্মকর্তাদের প্রতি স্বজনপ্রীতি করে পূর্ববর্তী হাসিনার মদদ পুষ্ট সাবেক এমডি মাসুদের এপিএস শফিকুর রহমানকে করেছেন নিজের পিএস এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান টুটুলকে নিয়োগ দিয়েছেন এপিএস হিসেবে। পিএস শফিকুর রহমান ও এপিএস মাহমুদুল হাসান টুটুলের মাধ্যমে প্রমোশন ও বদলী বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছেন অবৈধ অর্থ। রূপালী ব্যাংকের জাতীয়তাবাদী আদর্শের এবং ফ্যাসিজম বিরোধী কর্মকর্তারা অভিযোগে জানান, ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুসারীদের পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন করা হয়েছে,অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের ত্যাগী কর্মকর্তাদের দূরবর্তী ও রিমোট শাখায় বদলি করা হয়েছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগের পরেই হিউম্যান রিসোর্স ডিভিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের ডিজিএম হিসেবে বসিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রভাবশালী উপদেষ্টা আব্দুল হালিম মিয়াকে। অবস্থা খারাপ দেখে নির্বাচনের আগের কর্ম দিবসে একই ডিভিশনে নিয়োগ দেন মনোয়ারা পারভীনকে, যার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির নানাবিধ অভিযোগ আছে। এ ডিভিশনের এজিএম হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ভাইয়ের ছেলে মুস্তাহিদুর রহমানকে। এদের মাধ্যমেই বিএনপিপন্থী ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনবরত হেনস্থা করে যাচ্ছেন তিনি। কোন প্রকার নীতিমালা ও নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই ২০২৪ সালে সকল অযোগ্য আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পদোন্নতি দিয়েছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন, মোক্তার হোসেন, এনএম আলী ইমাম, আবুল হাসানস অনেক উপ- মহাব্যবস্থাপককে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে শাখা ও বিভাগে পদায়ন করেছেন। মতিঝিল কর্পোরেট শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখার শাখা প্রধান করেছেন সাখাওয়াত হোসেনকে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল মোহাম্মদ আশরাফ আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নিজাম উদ্দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে কর্মরত- যাদের দ্বারা ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিদেশে পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিয়মান হয়। এদের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে পদোন্নতি নীতিমালা নামে তৈরি হয়েছে এক কালো আইন। ফ্যাসিবাদী আদর্শের সাথে জড়িত সারা দেশের এরকমের অসংখ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদান করেছেন। জুলাই হত্যা মামলার অন্যতম আসামী, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কাজী ওয়াহিদুল ইসলামকে রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সাথে সাথে তারা ১৫ বছরে পূর্ণ অবসর সুবিধাদি প্রদানের নীতিমালা গ্রহণপূর্বক সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদ প্রভাবমুক্ত করে ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো পূনর্গঠনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের পরিক্ষিত কর্মকর্তাদের যথোপযুক্ত স্থানে পদায়ন করে গণহত্যাকারী আওয়ামী প্রেতাত্মাদের অপসারণ ও বিচারের দাবী জানান।
গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে ব্যাংকে গণহত্যাকারী আওয়ামী প্রেতাত্মাদের নির্মূল ও বিচারের নিমিত্তে অনতিবিলম্বে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উল্লিখিত দাবীসমূহ বাস্তবায়নের জোর দাবীও জানিয়েছেন। রুপালী ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশ্ন এ ফ্যাসিস্ট ওয়াহিদুল ইসলামের খুটির জোর কোথায়?
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















