আওয়ামী লীগের দোসর বন অধিদপ্তরের বিতর্কিত ব্যক্তি, মহাদূর্নীতিবাজ খান জুলফিকার আলী, ডেপুটি রেঞ্জার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগ উঠেছে অনেক আগে থেকে কাকের মাংস নাকি কাকে খায় না
দেখুন ভদ্রবেশী কুলাঙ্গার খান জুলফিকার কার কার মাংস খেয়েছেন আর কার কার মাংস খাওয়ার পায়তারা করছেন। পতিত স্বৈরাচার সরকারের পেতাত্মা, দোসর, সুবিধাবাদী, দূর্নীতিবাজ, অবৈধ টাকার কুমির এখন সোস্যাল মিডিয়ায় সুন্দর সুন্দর বয়ান দিয়ে যাচ্ছে আর কিছু আবাল তা খুব মজা করে খাচ্ছে।
খান জুলফিকার আলীর অপরাধের শেষ নেই
১। রাঙ্গামাটি অঞ্চলে অবৈধ টাকা ইনকামের হাতে খড়ি। স্টেশন কর্মকর্তার আড়ালে অবৈধ গাড়ি পাচার করে আর স্টেশন কর্মকর্তার অসুস্থতার কারনে স্টেশনে না থাকায় তাকে ঠকিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া।
২। বদলী নীতিমালা বহির্ভূত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে চট্টগ্রাম অঞ্চলের চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে বদলী।
৩। ড. জগলুল হোসেনকে ৫,০০,০০০/- টাকা ঘুষ দিয়ে ও রাজনৈতিক প্রভাবে ধুমঘাট চেক স্টেশনে বদলী ও এক বছরের পোষ্টিং এ নিয়ম বহির্ভূতভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিন বছর থেকে অবৈধ বনজদ্রব্য পাচারে সহযোগিতা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া।
৪। করেরহাট রেঞ্জের হেয়াকো বিটে গাছ বিক্রি, পাহাড় কর্তন ও জবরদখলে সহায়তা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া।
৫। মোঃ আব্দুল আউয়াল সরকার, সিএফকে ১০,০০,০০০/- টাকা ও আব্দুর রহমান, ডিএফ’কে ৫,০০,০০০/- টাকা ঘুষ দিয়ে উপকূলীয় বন বিভাগ এর উড়িরচর রেঞ্জে রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়ে আব্দুর রহমানকে ১০,০০,০০০/- টাকা ঘুষ দিয়ে মহেশখালী রেঞ্জের দায়িত্ব নিয়ে সুফল প্রকল্পের নাম মাত্র বাগান করে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া।
৬। বিপুল কৃষ্ণ দাস, সিএফকে ১০,০০,০০০/- টাকা ঘুষ দিয়ে চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগ হতে লাম বন বিভাগে বদলী ও ডিএফও আরিফুল হক বেলালকে ১০,০০,০০০/- ঘুষ দিয়ে যোগদান সাপেক্ষে তৈন রেঞ্জে রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ।
৭। তৈণ রেঞ্জে কাঠ চোরদের সাথে আঁতাত করে অফিসের সন্নিকটে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি ও ১০০০ টি সেগুন ও গামার মাদার ট্টি বিক্রি করা। ধরা পড়ায় ডিএফও ও সিএফ এর প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে চাকুরি হতে সাময়িক কর্মচ্যুতি। বিভাগীয় মামলা প্রনয়ন এবং তার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।
৮। অবৈধ টাকার বলে ময়মনসিংহ বন বিভাগে বদলী এবং পরবর্তীতে সিএফকে চাপ প্রয়োগ করে টাংগাইল বন বিভাগে বদলী। বদলী নীতিমালা বহির্ভূত বদলি হওয়ায় এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি হওয়ায় ডিএফ তাকে যোগদান সাপেক্ষে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের সদর বিটে বদলী করে।
৯। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনার আগে সকল বদলীকৃত কর্মকর্তা কর্মচারীদের অব্যাহতি প্রদান করলেও সে এখনও ময়মনসিংহ বন বিভাগে রয়ে গেছে বহাল তবিয়তে। সে নির্বাচন পরবর্তী অবৈধ টাকার বলে আবার রাঙ্গামাটি অঞ্চলে বদলীর পায়তারা করছে। এ ব্যাপারে নাকি প্রধান বন সংরক্ষক, বন অধিদপ্তরের সদয় সম্মতি রয়েছে।
দন্ডপ্রাপ্ত হয়েও অবৈধ অর্থ জোরে দন্ত মওকুফ করিয়ে অবৈধভাবে ডেপুটি রেঞ্জারে পদোন্নতি পাওয়া।
চিহৃিত দূর্নীতিবাজ, গাছ চোর, সুফল প্রকল্পের টাকা আত্ত্বসাৎকারী একজন দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধী ডেপুটি রেঞ্জার এ পদোন্নতি পাইলে কেমনে? সময় এসেছে খতিয়ে দেখার। পুনঃ তদন্ত করতে হবে আর আসল রহস্য উম্মোচন করতে হবে এর পৃষ্ঠপোষক কারা।
আগে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে ভালো ভালো পোস্টিং নিয়েছে, তার অধীনে থাকা ভুক্তভোগী বিট কর্মকর্তাকে নিজে ও ডিএফও’কে দিয়ে মানসিক চর্চার করেছে। কোন কোন বিট কর্মকর্তাকে ঠিক মতো টাকা তো দেয়ই নাই উল্টো বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সাসপেন্ড করার ভয় দেখিয়েছে। ভুক্তভোগীরা কিছু বলতে পারে নাই কারন ডিএফও’রা ছিলো তার কেনা। পারসেন্ট বাড়িয়ে দিয়ে সবাইকে তার পক্ষে নিয়ে নিতো। স্বৈরাচার সরকারের বাগেরহাটের এমপি ডা: মোজাম্মেল ও মহিলা আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তার নানুর বদৌলতে বন অধিদপ্তরে এবং মহেশখালীর এমপি আশেকউল্লাহর বদৌলতে উড়িরচর ও মহেশখালী রেঞ্জে দূর্নীতির মহোৎসব চালিয়েছে। ১০/১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই দূর্নীতিবাজ বন অধিদপ্তরের কিট খান জুলফিকার আলী, ডেপুটি রেঞ্জার। ক্রাইম সেক্টর ফরেস্ট এ প্রাপ্ত তথ্য মতে এই খান জুলফিকার আলীর কারনেই বন অধিদপ্তরে যত বিশৃঙ্খলা ও পদোন্নতিতে কালক্ষেপণ। এই ২০০৫ সালে ডিপ্লোমা ফরেস্টার ২০০০ সালে নিয়োগপ্রাপ্তদের পদোন্নতির উদ্যোগ নিলে তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় জুলফিকার, জসিম, সুফিয়ান আর আখতারুজ্জামান গং। তাই পদোন্নতিতে এই দীর্ঘ কালক্ষেপন। আবার ২০১৬ সালে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতির উদ্যোগ নেয়া হলে তার বিভাগীয় মামলা থাকার কারনে ডিপ্লোমা স্কেল মামলা ও সরাসরি ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পাওয়ার মিথ্যা আইনী ব্যখ্যা দাড় করায় এবং পদোন্নতি ভেস্তে যায়। তৈন রেঞ্জে গাছ চুরি করে ধরা খেয়ে সাময়িক কর্মচ্যুতি ও বিভাগীয় মামলা হওয়ায় সরাসরি ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতির জন্য কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স এসোসিয়েশন এর ব্যানারে বন অধিদপ্তরকে বিক্ষোভের ভয় দেখিয়ে পদোন্নতি সমস্যা সৃষ্টি করে। তার উদ্দেশ্য কখনও মহৎ ছিলো না।
সবাইকে ওগুলো নিয়ে ব্যস্ত রেখে দ্রুততম সময়ে তার বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি করার পায়তারা করে। এমনকি তিনি তদন্ত কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা তাকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিবেদন দেয় এবং তাকে গুরুদন্ড প্রদান করা হয়। আর পরবর্তীতে মাননীয় উপদেষ্টার স্বামীকে মেনেজ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নিজেকে নির্দোষ প্রমান করে নেয়। ক্রাইম সেক্টর ফরেস্ট এ প্রাপ্ত তথ্য মতে ৫০,০০,০০০/- টাকার বিনিময়ে এই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে খালাস দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আর তা হয়েছে স্বয়ং বন উপদেষ্টার স্বামীর হস্তক্ষেপে। তাই তিনি এখন ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন। কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে প্রভাব খাটিয়ে টাংগাইল বন বিভাগে যোগদান না করে ময়মনসিংহ বন বিভাগে রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।
পরবর্তী পর্বে আসছে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির সচিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রথম পর্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















