সংবাদ শিরোনাম ::
গু’ণ্ডা ও ভ’ণ্ড’রা ধর্মের আবরণে রাজনীতি করে: আইনমন্ত্রী দেশের ১০ অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: সড়কমন্ত্রী বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের বঞ্চনাকারী ইআরডি সচিব শাহ্‌রিয়ার বহাল তবিয়তে পদত্যাগ করলেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিআরসি প্রতিনিধিদলের প্রধানের সাক্ষাৎ ঈদের ছুটিতে যেসব এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক কৃষকদের দোরগোড়ায় শেষ সেবাসাতক্ষীরা বিএডিসির নতুন সিটিজেন চার্টার প্রকাশ চীনে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক ভাতের মাড়ে’ দিন কাটানো পরিবারে মানবিক সহায়তা, পাশে প্রতিমন্ত্রী পুতুল

সফটওয়্যার ক্রয়ের নামে রবিউল করিমের কোটি টাকা দুর্নীতি

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিডি অ্যাডমিন পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন রবিউল করিম। গ্রামের বাড়ি বগুড়ায় হলেও বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও দাপুটে কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ সময় একই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে তিনি অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রবিউল করিমের অবস্থানেও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা গেছে। আগে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে বগুড়া বিএনপির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান রক্ষায় নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছেন—এমন মন্তব্যও করছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, পদায়ন ও বদলিতে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ এবং সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে সরকার পরিবর্তনের পরও একই পদে বহাল থাকায় অধিদপ্তরের ভেতরে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা সারাদেশ জুড়ে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত বিপুল অর্থ সম্পদের জোরে বিদেশ ভ্রমণ যেন তার নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে ব্যয় করা হয়েছে বিলাসবহুল জীবনযাপনে। দেশের ভেতরেও তার সম্পদের বিস্তার চোখে পড়ার মতো।রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরার মতো জায়গায় গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা ও সম্পদ সাম্রাজ্য। শুধু ঢাকাতেই নয়, নিজ গ্রাম বা এলাকায়ও তৈরি করছেন বিলাসবহুল আবাসন। ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি নিজ এলাকায় একটি আলিশান জমি ক্রয় করেছেন।

কাগজে সফটওয়্যার ও ভূয়া বিল ভাউচার : ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একাধিক “সফটওয়্যার ” তৈরী করার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে রবিউল করিমের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও তাদের ঘনিষ্ঠ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সফটওয়্যার তৈরির নামে কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর অস্তিত্ব ছিল না। সফটওয়্যার উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ এনে সেই অর্থ আত্মসাতের জন্য তৈরি করা হয় ভুয়া বিল-ভাউচার। একই সঙ্গে নিজেদের লোকজনকে দিয়ে কাগুজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গঠন করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয়।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বিল তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটটি পরিকল্পিতভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে নিজেদের অনুগত ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যে সফটওয়্যারের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, তা বাস্তবে কোনো অফিসেই ব্যবহার করা হচ্ছে না।

৫ আগস্টের পর নতুন কৌশলে সক্রিয় সিন্ডিকেট : অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যখন সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিগত সরকারের দোসর ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারের পথ উন্মুক্ত হতে শুরু করে, তখনই ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেদের রক্ষা করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে সামনে এসে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে সেই একই সুবিধাভোগী গোষ্ঠী। যারা একসময় আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার বলয়ে থেকে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছে, তারাই এখন নতুন পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষার জন্য মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। শুধু কেন্দ্রীয় কার্যালয়েই নয়, জেলা পর্যায়ের সমাজসেবা অফিসগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক আনুগত্যের অভিযোগ : সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই সিন্ডিকেটের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও ছবি দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, তারা প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, উপপরিচালক রবিউল করিম (প্রশাসন ও অর্থ) রবিউল করিম শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়। একই সঙ্গে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নূরুজ্জামানের বাসভবনেও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে।

মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের নেতৃত্বে দুর্নীতির বাণিজ্যের অভিযোগ : অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নূরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠজনদের নেতৃত্বেই সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন দুর্নীতি ও তদবির বাণিজ্য পরিচালিত হতো। বিশেষ করে মন্ত্রীর এপিএস এবং ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মিজানের নেতৃত্বে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বাণিজ্য পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের নামও এসেছে আলোচনায় তার অন্যতম উপপরিচালক রবিউল করিম। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সমাজসেবা অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গু’ণ্ডা ও ভ’ণ্ড’রা ধর্মের আবরণে রাজনীতি করে: আইনমন্ত্রী

সফটওয়্যার ক্রয়ের নামে রবিউল করিমের কোটি টাকা দুর্নীতি

আপডেট সময় ০১:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিডি অ্যাডমিন পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন রবিউল করিম। গ্রামের বাড়ি বগুড়ায় হলেও বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও দাপুটে কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ সময় একই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে তিনি অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রবিউল করিমের অবস্থানেও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা গেছে। আগে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে বগুড়া বিএনপির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান রক্ষায় নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছেন—এমন মন্তব্যও করছেন অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, পদায়ন ও বদলিতে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ এবং সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে সরকার পরিবর্তনের পরও একই পদে বহাল থাকায় অধিদপ্তরের ভেতরে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা সারাদেশ জুড়ে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত বিপুল অর্থ সম্পদের জোরে বিদেশ ভ্রমণ যেন তার নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে ব্যয় করা হয়েছে বিলাসবহুল জীবনযাপনে। দেশের ভেতরেও তার সম্পদের বিস্তার চোখে পড়ার মতো।রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরার মতো জায়গায় গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা ও সম্পদ সাম্রাজ্য। শুধু ঢাকাতেই নয়, নিজ গ্রাম বা এলাকায়ও তৈরি করছেন বিলাসবহুল আবাসন। ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি নিজ এলাকায় একটি আলিশান জমি ক্রয় করেছেন।

কাগজে সফটওয়্যার ও ভূয়া বিল ভাউচার : ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একাধিক “সফটওয়্যার ” তৈরী করার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে রবিউল করিমের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও তাদের ঘনিষ্ঠ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সফটওয়্যার তৈরির নামে কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর অস্তিত্ব ছিল না। সফটওয়্যার উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ এনে সেই অর্থ আত্মসাতের জন্য তৈরি করা হয় ভুয়া বিল-ভাউচার। একই সঙ্গে নিজেদের লোকজনকে দিয়ে কাগুজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গঠন করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয়।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বিল তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটটি পরিকল্পিতভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে নিজেদের অনুগত ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যে সফটওয়্যারের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, তা বাস্তবে কোনো অফিসেই ব্যবহার করা হচ্ছে না।

৫ আগস্টের পর নতুন কৌশলে সক্রিয় সিন্ডিকেট : অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যখন সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিগত সরকারের দোসর ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারের পথ উন্মুক্ত হতে শুরু করে, তখনই ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজেদের রক্ষা করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে সামনে এসে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে সেই একই সুবিধাভোগী গোষ্ঠী। যারা একসময় আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার বলয়ে থেকে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছে, তারাই এখন নতুন পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষার জন্য মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। শুধু কেন্দ্রীয় কার্যালয়েই নয়, জেলা পর্যায়ের সমাজসেবা অফিসগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক আনুগত্যের অভিযোগ : সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই সিন্ডিকেটের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও ছবি দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, তারা প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ নেতাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, উপপরিচালক রবিউল করিম (প্রশাসন ও অর্থ) রবিউল করিম শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়। একই সঙ্গে সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নূরুজ্জামানের বাসভবনেও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে।

মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের নেতৃত্বে দুর্নীতির বাণিজ্যের অভিযোগ : অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নূরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠজনদের নেতৃত্বেই সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন দুর্নীতি ও তদবির বাণিজ্য পরিচালিত হতো। বিশেষ করে মন্ত্রীর এপিএস এবং ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মিজানের নেতৃত্বে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব বাণিজ্য পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের নামও এসেছে আলোচনায় তার অন্যতম উপপরিচালক রবিউল করিম। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সমাজসেবা অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।