সংবাদ শিরোনাম ::
পরিচালক হাবিবুল্লাহ, সহিদুল আমিন ও ইকবাল হারুনের নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ লীগপন্থী ঠিকাদারদের অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত পরিচালক আব্দুর রহিম বদলি-নিয়োগ বাণিজ্য থেকে বনভূমি দখল: বন কর্মকর্তা হোসাইন নিশাতের ‘শত কোটির দুর্নীতি সাম্রাজ্য’ চাঁদা না পেয়ে অ’ন্তঃসত্ত্বা নারীকে মা’রধরের অভিযোগ, বিএনপি নেতা দোলনের বি’রুদ্ধে মা’মলা সরকারি জমিতে গড়ে উঠল বহুতল ভবন ‘সানভিউ বিধি ভেঙে আরএমও পদায়ন, ‘এম উদ্দিন’ ছদ্মনামে টেস্ট সিন্ডিকেটের অভিযোগ ইডকলে এনামুলের বিরুদ্ধে লুটপাটের রাজত্বের অভিযোগ সওজ কর্মকর্তা শাহনুর রশিদ এখন শতকোটি টাকার মালিক জালিয়াতি করে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ বাশার-মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের সিএন্ডএফ ক্লিয়ারিং বাণিজ্য

মির্জাপুর ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় ৫০০ একর জমির ধান নষ্ট হবার অভিযোগ।

মির্জাপুরে অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় ৫০০ একর জমির ধানক্ষেত পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মন্দিরাপাড়া, বধিরপাড়া, কুটবহুরিয়া, বহরিয়া ও চরপাড়া গ্রামের কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছরই ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের সময় একদিকে বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে আশপাশের ফসলের ক্ষতি হলেও এবার ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাদের দাবি, প্রায় ৫০০ একর জমির ধান পুড়ে গেছে, যা একজন কৃষকের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, বছরের একমাত্র মৌসুমি ফসলের ওপর নির্ভর করেই তাদের সংসার চলে। কিন্তু ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে সেই ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে অনেক কৃষকের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অবৈধ ইটভাটাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য উপজেলা চত্বরে সমবেত হন। এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের নবনিযুক্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি মূলত পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন। ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘটনাটি অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইটভাটা পরিচালনার বিভিন্ন নিয়ম-কানুন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধের বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কৃষকরা আগে থেকেই সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি জানার পরও ইটভাটা নির্মাণের সময় কেন বাধা দেওয়া হয়নি? আবার কেউ জানতে চাইছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এই বিপুল ক্ষতির দায়ভার কে নেবে এবং তাদের ক্ষতিপূরণ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
স্থানীয়দের মতে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের পরিবেশ ও কৃষি বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিচালক হাবিবুল্লাহ, সহিদুল আমিন ও ইকবাল হারুনের নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ

মির্জাপুর ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় ৫০০ একর জমির ধান নষ্ট হবার অভিযোগ।

আপডেট সময় ০৪:০৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
মির্জাপুরে অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে প্রায় ৫০০ একর জমির ধানক্ষেত পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মন্দিরাপাড়া, বধিরপাড়া, কুটবহুরিয়া, বহরিয়া ও চরপাড়া গ্রামের কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছরই ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের সময় একদিকে বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে আশপাশের ফসলের ক্ষতি হলেও এবার ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাদের দাবি, প্রায় ৫০০ একর জমির ধান পুড়ে গেছে, যা একজন কৃষকের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, বছরের একমাত্র মৌসুমি ফসলের ওপর নির্ভর করেই তাদের সংসার চলে। কিন্তু ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে সেই ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি যে অনেক কৃষকের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অবৈধ ইটভাটাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য উপজেলা চত্বরে সমবেত হন। এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের নবনিযুক্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি মূলত পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন। ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘটনাটি অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইটভাটা পরিচালনার বিভিন্ন নিয়ম-কানুন ও পরিবেশগত বিধিনিষেধের বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।
এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কৃষকরা আগে থেকেই সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি জানার পরও ইটভাটা নির্মাণের সময় কেন বাধা দেওয়া হয়নি? আবার কেউ জানতে চাইছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এই বিপুল ক্ষতির দায়ভার কে নেবে এবং তাদের ক্ষতিপূরণ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
স্থানীয়দের মতে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের পরিবেশ ও কৃষি বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।