সংবাদ শিরোনাম ::
এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের সিএন্ডএফ ক্লিয়ারিং বাণিজ্য তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দুই মাসে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা টিকে গ্রুপের দেশের ৯ অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কা ববিতে লাগামহীন লোডশেডিংয়ে তীব্র ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা- ব্যহত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম  বড়লেখার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা থেকে ভারতীয় দুটি এয়ারগান জব্দ বাঘায় বিদ্যুত স্পৃষ্টে যুবক নিহত নওগাঁয় চু’রির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্বর্ণালংকার উদ্ধারসহ আ’টক-১ সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দুই মাসে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা টিকে গ্রুপের

  • মুনাফা ৫০০ কোটি, জরিমানা মাত্র ৩২ কোটি—উঠছে প্রশ্ন
  • দুই মাসে ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা
  • আইন লঙ্ঘন করে সরবরাহ বিলম্বের অভিযোগ
  • তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট
  • ভোক্তার পকেট কেটে শত কোটি টাকার মুনাফা
  • কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশনের ব্যবস্থা

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত একটি সরবরাহ আদেশ বা সাপ্লাই অর্ডারের নথি থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশকদের কাছে তেল সরবরাহ করতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে। আইন অনুযায়ী একটি সাপ্লাই অর্ডারের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ, ২০১১-এর অনুচ্ছেদ ৯-এর (৩) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শবনম ভেজিটেবল অয়েলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে ২৫ দিন পার হয়ে গেলেও পরিবেশকরা তেল পাননি। এর ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যায় এবং খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি আইন লঙ্ঘন না করলেও পরিবেশকদের সঙ্গে এক ধরনের পরোক্ষ সমঝোতার মাধ্যমে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করেছে। প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ধারা ১৫-এর উপধারা (১) অনুযায়ী এ ধরনের সমঝোতা বা যোগসাজশ প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাজারে সরবরাহ সীমিত রাখার ফলে ভোজ্যতেলের চাহিদা ও মূল্য উভয়ই বেড়ে যায়। আর এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করে বলে অভিযোগ।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাজার পরিস্থিতির একটি চিত্র এই অভিযোগকে আরও জোরালো করে। সে সময় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে বাজারে ওই দামে তেল পাওয়া যায়নি। অনেক এলাকায় ভোক্তাদের ১৭৫ টাকা বা তারও বেশি দামে তেল কিনতে হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে তাদের উচ্চমূল্যে পণ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ওই সময় শবনম ভেজিটেবল অয়েল তাদের বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করেনি। বরং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বাজারে সংকটের পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করা হয়েছিল তার সবটুকুও বাজারে সরবরাহ করা হয়নি। একই সময়ে কোম্পানিটির কাছে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের উল্লেখযোগ্য মজুদ ছিল বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে রমজানকে কেন্দ্র করে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। সাধারণত এ সময় ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ঠিক এই সময়টিকেই বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে বেছে নেয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। বাজারে তেলের চাহিদা যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে, তখন সরবরাহ সীমিত রাখার মাধ্যমে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারির তুলনায় মে মাসে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও দ্রুত বাড়তে থাকে। ওই সময়ে ভোজ্যতেলের দাম ২২ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বাজারে ঘাটতির অজুহাতে দাম বাড়লেও অনুসন্ধানে দেখা যায়, পরিবেশকদের হাতে থাকা সাপ্লাই অর্ডার বিভিন্ন পর্যায়ে হাতবদল হয়েছে এবং এর ফলে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন হয়েছে। একই সময়ে শবনম ভেজিটেবল অয়েল তাদের কাছে থাকা অনেক আদেশ অনুযায়ীও সময়মতো তেল সরবরাহ করেনি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে সাধারণ ভোক্তার ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। কারণ ভোক্তা তখন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাধ্য হন উচ্চমূল্যে। ভোজ্যতেল এমন একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যার বিকল্প সাধারণ মানুষের হাতে খুব কম। ফলে বাজারে সামান্য ঘাটতির খবরও দাম বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের এই সময়টিতে তেলের দাম বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে শবনম ভেজিটেবল অয়েল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই অতিরিক্ত মুনাফার পুরো বোঝা বহন করতে হয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের। অর্থাৎ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের পণ্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট থেকেই এই লাভ এসেছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্তের অংশ হিসেবে কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চায়। পাশাপাশি একাধিক শুনানির আয়োজন করা হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত নথি, তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য এবং আইনি বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করে কমিশন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে বলে মত দেয়।
তদন্ত শেষে কমিশন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা করে। কমিশনের মতে, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড বাজারে প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করেছে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছে। তবে জরিমানার অঙ্ক প্রকাশ হওয়ার পরই নতুন বিতর্ক শুরু হয়। কারণ অভিযোগ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত মুনাফার পরিমাণ যেখানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা, সেখানে জরিমানার পরিমাণ মাত্র ৩২ কোটি টাকা।
প্রতিযোগিতা কমিশনের আইনে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বার্ষিক টার্নওভারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করার সুযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে শবনম ভেজিটেবল অয়েলের বার্ষিক টার্নওভার ছিল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সে হিসাবে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে জরিমানার অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৩২ কোটি টাকা, যা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সীমার তুলনায় অনেক কম।
জরিমানার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্নের মুখে প্রতিযোগিতা কমিশনের আইন শাখার সদস্য আফরোজা বিলকিস বলেন, এটি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কমিশনে প্রথম মামলা। সে কারণে সর্বোচ্চ জরিমানা না করে তুলনামূলক কম অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একাধিক প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল এবং অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে ভোক্তা অধিকারকর্মী এবং বাজার বিশ্লেষকদের একটি অংশ কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাদের মতে, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান শত শত কোটি টাকার অতিরিক্ত মুনাফা করে থাকে, তাহলে কয়েক কোটি টাকার জরিমানা কার্যত বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না। বরং এতে ভুল বার্তা যেতে পারে যে বাজার কারসাজি করেও শেষ পর্যন্ত খুব সামান্য আর্থিক ঝুঁকি নিতে হবে।
এদিকে অভিযোগ এবং জরিমানার বিষয়ে টিকে গ্রুপের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কোম্পানির পরিচালক মোস্তফা হায়দারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। টিকে গ্রুপের হেড অব ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিযোগিতা কমিশনের জরিমানার প্রসঙ্গ শুনেই তিনি বিষয়টি জানেন না বলে মন্তব্য করেন এবং ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর দেননি তিনি।
তবে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো দাবি করেছে, জরিমানার বিষয়টি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজানা নয়। বরং কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কমিশনের সিদ্ধান্তকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করতে চায়।
এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিযোগিতা কমিশনের রায়ে যদি কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ফলে বাজারে ভোক্তাদের ক্ষতির বিষয়ে অধিদপ্তরের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, শুধু জরিমানা ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। জরিমানার অর্থ আদায় এবং শাস্তি কার্যকর হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে বড় ধরনের আলোচনা হলেও পরে আপিল বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জরিমানার কার্যকারিতা কমে যায়। এ কারণেই আইন সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। যখন কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তখন তাদের আচরণের ওপর পুরো বাজার নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে উৎপাদন কমানো, সরবরাহ বিলম্বিত করা কিংবা মজুদ ধরে রাখার মতো সিদ্ধান্তের প্রভাব দ্রুত বাজারে পড়ে এবং ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয়।
২০২২ সালের তেল সংকটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওঠা এই অভিযোগগুলো তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নয়; বরং দেশের নিত্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রতিযোগিতা আইন প্রয়োগ এবং ভোক্তা সুরক্ষার সামগ্রিক সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলোর পূর্ণ সত্যতা এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে তদন্ত, জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের আলোকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভোজ্যতেলের বাজারে সংঘটিত ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং সেই ঘটনার প্রভাব এখনো আলোচনায় রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের সিএন্ডএফ ক্লিয়ারিং বাণিজ্য

তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দুই মাসে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা টিকে গ্রুপের

আপডেট সময় ১২:০২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • মুনাফা ৫০০ কোটি, জরিমানা মাত্র ৩২ কোটি—উঠছে প্রশ্ন
  • দুই মাসে ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা
  • আইন লঙ্ঘন করে সরবরাহ বিলম্বের অভিযোগ
  • তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট
  • ভোক্তার পকেট কেটে শত কোটি টাকার মুনাফা
  • কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে টিকে গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশনের ব্যবস্থা

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত একটি সরবরাহ আদেশ বা সাপ্লাই অর্ডারের নথি থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশকদের কাছে তেল সরবরাহ করতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে। আইন অনুযায়ী একটি সাপ্লাই অর্ডারের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ, ২০১১-এর অনুচ্ছেদ ৯-এর (৩) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শবনম ভেজিটেবল অয়েলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে ২৫ দিন পার হয়ে গেলেও পরিবেশকরা তেল পাননি। এর ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যায় এবং খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি আইন লঙ্ঘন না করলেও পরিবেশকদের সঙ্গে এক ধরনের পরোক্ষ সমঝোতার মাধ্যমে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করেছে। প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ধারা ১৫-এর উপধারা (১) অনুযায়ী এ ধরনের সমঝোতা বা যোগসাজশ প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাজারে সরবরাহ সীমিত রাখার ফলে ভোজ্যতেলের চাহিদা ও মূল্য উভয়ই বেড়ে যায়। আর এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করে বলে অভিযোগ।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাজার পরিস্থিতির একটি চিত্র এই অভিযোগকে আরও জোরালো করে। সে সময় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে বাজারে ওই দামে তেল পাওয়া যায়নি। অনেক এলাকায় ভোক্তাদের ১৭৫ টাকা বা তারও বেশি দামে তেল কিনতে হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে তাদের উচ্চমূল্যে পণ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ওই সময় শবনম ভেজিটেবল অয়েল তাদের বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করেনি। বরং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বাজারে সংকটের পরিবেশ তৈরি করার উদ্দেশ্যেই উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করা হয়েছিল তার সবটুকুও বাজারে সরবরাহ করা হয়নি। একই সময়ে কোম্পানিটির কাছে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের উল্লেখযোগ্য মজুদ ছিল বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে রমজানকে কেন্দ্র করে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। সাধারণত এ সময় ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ঠিক এই সময়টিকেই বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সুযোগ হিসেবে বেছে নেয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। বাজারে তেলের চাহিদা যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে, তখন সরবরাহ সীমিত রাখার মাধ্যমে দাম বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারির তুলনায় মে মাসে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও দ্রুত বাড়তে থাকে। ওই সময়ে ভোজ্যতেলের দাম ২২ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বাজারে ঘাটতির অজুহাতে দাম বাড়লেও অনুসন্ধানে দেখা যায়, পরিবেশকদের হাতে থাকা সাপ্লাই অর্ডার বিভিন্ন পর্যায়ে হাতবদল হয়েছে এবং এর ফলে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন হয়েছে। একই সময়ে শবনম ভেজিটেবল অয়েল তাদের কাছে থাকা অনেক আদেশ অনুযায়ীও সময়মতো তেল সরবরাহ করেনি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে সাধারণ ভোক্তার ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। কারণ ভোক্তা তখন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাধ্য হন উচ্চমূল্যে। ভোজ্যতেল এমন একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যার বিকল্প সাধারণ মানুষের হাতে খুব কম। ফলে বাজারে সামান্য ঘাটতির খবরও দাম বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের এই সময়টিতে তেলের দাম বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে শবনম ভেজিটেবল অয়েল প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই অতিরিক্ত মুনাফার পুরো বোঝা বহন করতে হয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের। অর্থাৎ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের পণ্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট থেকেই এই লাভ এসেছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন একটি অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্তের অংশ হিসেবে কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চায়। পাশাপাশি একাধিক শুনানির আয়োজন করা হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত নথি, তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্য এবং আইনি বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করে কমিশন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে বলে মত দেয়।
তদন্ত শেষে কমিশন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা করে। কমিশনের মতে, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড বাজারে প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করেছে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছে। তবে জরিমানার অঙ্ক প্রকাশ হওয়ার পরই নতুন বিতর্ক শুরু হয়। কারণ অভিযোগ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত মুনাফার পরিমাণ যেখানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা, সেখানে জরিমানার পরিমাণ মাত্র ৩২ কোটি টাকা।
প্রতিযোগিতা কমিশনের আইনে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বার্ষিক টার্নওভারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করার সুযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে শবনম ভেজিটেবল অয়েলের বার্ষিক টার্নওভার ছিল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। সে হিসাবে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে জরিমানার অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৩২ কোটি টাকা, যা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সীমার তুলনায় অনেক কম।
জরিমানার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্নের মুখে প্রতিযোগিতা কমিশনের আইন শাখার সদস্য আফরোজা বিলকিস বলেন, এটি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কমিশনে প্রথম মামলা। সে কারণে সর্বোচ্চ জরিমানা না করে তুলনামূলক কম অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একাধিক প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল এবং অন্যদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে ভোক্তা অধিকারকর্মী এবং বাজার বিশ্লেষকদের একটি অংশ কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাদের মতে, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান শত শত কোটি টাকার অতিরিক্ত মুনাফা করে থাকে, তাহলে কয়েক কোটি টাকার জরিমানা কার্যত বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না। বরং এতে ভুল বার্তা যেতে পারে যে বাজার কারসাজি করেও শেষ পর্যন্ত খুব সামান্য আর্থিক ঝুঁকি নিতে হবে।
এদিকে অভিযোগ এবং জরিমানার বিষয়ে টিকে গ্রুপের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কোম্পানির পরিচালক মোস্তফা হায়দারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরেও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। টিকে গ্রুপের হেড অব ব্র্যান্ডের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিযোগিতা কমিশনের জরিমানার প্রসঙ্গ শুনেই তিনি বিষয়টি জানেন না বলে মন্তব্য করেন এবং ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর দেননি তিনি।
তবে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো দাবি করেছে, জরিমানার বিষয়টি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অজানা নয়। বরং কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কমিশনের সিদ্ধান্তকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করতে চায়।
এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিযোগিতা কমিশনের রায়ে যদি কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ফলে বাজারে ভোক্তাদের ক্ষতির বিষয়ে অধিদপ্তরের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, শুধু জরিমানা ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। জরিমানার অর্থ আদায় এবং শাস্তি কার্যকর হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে বড় ধরনের আলোচনা হলেও পরে আপিল বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জরিমানার কার্যকারিতা কমে যায়। এ কারণেই আইন সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। যখন কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, তখন তাদের আচরণের ওপর পুরো বাজার নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে উৎপাদন কমানো, সরবরাহ বিলম্বিত করা কিংবা মজুদ ধরে রাখার মতো সিদ্ধান্তের প্রভাব দ্রুত বাজারে পড়ে এবং ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয়।
২০২২ সালের তেল সংকটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওঠা এই অভিযোগগুলো তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নয়; বরং দেশের নিত্যপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রতিযোগিতা আইন প্রয়োগ এবং ভোক্তা সুরক্ষার সামগ্রিক সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলোর পূর্ণ সত্যতা এবং দায় নির্ধারণের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে তদন্ত, জরিমানা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের আলোকে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভোজ্যতেলের বাজারে সংঘটিত ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং সেই ঘটনার প্রভাব এখনো আলোচনায় রয়েছে।