ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভালোবাসি গাইবান্ধা’ সংগঠনের ২০২৬-২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন রেলের টেন্ডারে শত কোটি টাকার কারসাজির অভিযোগের কেন্দ্রে ‘আফসার সিন্ডিকেট আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব ট্রাস্টের নীলফামারী জেলা কমিটি গঠন পদ্মা রেলে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম, কার পকেটে গেল এত টাকা? কাস্টমস কর্মকর্তা কাজী সুলতানা দম্পতির ‘সম্পদের পাহাড়’, উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আতীকুজ্জামানের নামে-বেনামে ৫০ কোটি টাকার সম্পদ মাদারীপুর বিআরটিএর সামসুদ্দীনের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৮৫ গ্রেপ্তার, মামলা ৫০ স্টার্ক-আফ্রিদিকে ছাড়িয়ে নতুন কীর্তি রশিদ খানের বরগুনার উন্নয়নই আমাদের অঙ্গীকার: চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি

মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা ও অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মীর শাহে আলম। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভূমি দান, নিজস্ব অর্থায়নে জমি ক্রয় এবং নানামুখী পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে তিনি এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে দিয়েছেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ও মহতী অবদানের ফলে আজ দেশজুড়ে এক পরিচিত ও সমাদৃত নাম হয়ে উঠেছে ‘মীরবাড়ি’।

বিগত দুই দশকে মীর শাহে আলমের একক প্রচেষ্টায় ও অর্থায়নে এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আধুনিক খামার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও অবহেলিত শিশুদের জন্য এতিমখানা। সমাজের বিভিন্ন স্তরে সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ করার মধ্য দিয়ে তিনি স্থান করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ‘বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মীর শাহে আলমের প্রাতিষ্ঠানিক সমাজসেবামূলক যাত্রার সূচনা হয়। এরপর একে একে তিনি নারী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

২০০১ সালে নারী শিক্ষার উন্নয়নে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’। এরপর ২০১২ সালে ‘তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এবং ২০১৩ সালে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামকরণ করে প্রতিষ্ঠা ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করেন। শিবগঞ্জের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে ২০২৩ সালে তিনি একযোগে তিনটি বড় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এগুলো হলো—‘মোকামতলা মীর শাহে আলম–ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়’, ‘কিচক মীর শাহে আলম কলেজ’ এবং নারী শিক্ষার প্রসারে ‘বেতগাড়ি মীর মাহাতাব–শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা’।

যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে ২০০৪ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয়’। এছাড়া ২০১৩ সালে ‘বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট’ এবং অতি সম্প্রতি ২০২৫ সালে যাত্রা শুরু করেছে ‘বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট’।

সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মীরবাড়ি এতিমখানা’, যা পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ক্যাপিটেশন গ্রান্ট লাভ করে। এছাড়া, ২০২৪ সালে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভার্চুয়াল উদ্বোধনের মাধ্যমে সুদৃশ্য ও আধুনিক স্থাপত্যের ‘মীরবাড়ি জামে মসজিদ’ মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এছাড়াও তিনি সামাজিক উন্নয়ন কাজে ব্যপাক ভূমিকা রাখে চলেছেন।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও সমাজসেবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ি’ নামটি মোটেও নতুন কিছু নয়; বরং অন্তত শতবর্ষ ধরেই এ নাম এলাকার মানুষের কাছে সুপরিচিত ও সর্বজনস্বীকৃত। গত ২৫-৩০ বছর ধরে এলাকায় একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নাম হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে এই ‘মীর বাড়ি’। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এসব প্রমাণ করে যে ‘মীরবাড়ি’ নামটি কেবল একটি বাড়ির নাম নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, গৌরবময় ইতিহাস ও স্থানীয় আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এই ঐতিহ্যবাহী নামের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে মীর শাহে আলম তাঁর সুদীর্ঘ কর্মপ্রয়াসের মাধ্যমে একে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

শিবগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মীর শাহে আলমের এই দীর্ঘমেয়াদী অবদান শিবগঞ্জের শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামোকে উন্নত করেছে। নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে যেভাবে তিনি একের পর এক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তা বর্তমান সমাজে এক বিরল দৃষ্টান্ত। শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ‘মীরবাড়ি’ আজ মীর শাহে আলমের দূরদর্শী কল্যাণে এই অঞ্চলের আলো ছড়ানো এক আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভালোবাসি গাইবান্ধা’ সংগঠনের ২০২৬-২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র

আপডেট সময় ০৪:২৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা ও অবহেলিত জনপদের উন্নয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মীর শাহে আলম। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভূমি দান, নিজস্ব অর্থায়নে জমি ক্রয় এবং নানামুখী পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে তিনি এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে দিয়েছেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ও মহতী অবদানের ফলে আজ দেশজুড়ে এক পরিচিত ও সমাদৃত নাম হয়ে উঠেছে ‘মীরবাড়ি’।

বিগত দুই দশকে মীর শাহে আলমের একক প্রচেষ্টায় ও অর্থায়নে এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আধুনিক খামার, ধর্মীয় উপাসনালয় ও অবহেলিত শিশুদের জন্য এতিমখানা। সমাজের বিভিন্ন স্তরে সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ করার মধ্য দিয়ে তিনি স্থান করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ‘বেতগাড়ি মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মীর শাহে আলমের প্রাতিষ্ঠানিক সমাজসেবামূলক যাত্রার সূচনা হয়। এরপর একে একে তিনি নারী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

২০০১ সালে নারী শিক্ষার উন্নয়নে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’। এরপর ২০১২ সালে ‘তিয়াইল মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এবং ২০১৩ সালে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামকরণ করে প্রতিষ্ঠা ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত মজবুত করেন। শিবগঞ্জের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে ২০২৩ সালে তিনি একযোগে তিনটি বড় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এগুলো হলো—‘মোকামতলা মীর শাহে আলম–ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়’, ‘কিচক মীর শাহে আলম কলেজ’ এবং নারী শিক্ষার প্রসারে ‘বেতগাড়ি মীর মাহাতাব–শাহে আলম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা’।

যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে ২০০৪ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘বেতগাড়ি মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বিএম মহাবিদ্যালয়’। এছাড়া ২০১৩ সালে ‘বেতগাড়ি মীর শাহে আলম মৎস্য ও কৃষি প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট’ এবং অতি সম্প্রতি ২০২৫ সালে যাত্রা শুরু করেছে ‘বেতগাড়ি মীর শাহে আলম ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট’।

সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মীরবাড়ি এতিমখানা’, যা পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক ক্যাপিটেশন গ্রান্ট লাভ করে। এছাড়া, ২০২৪ সালে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভার্চুয়াল উদ্বোধনের মাধ্যমে সুদৃশ্য ও আধুনিক স্থাপত্যের ‘মীরবাড়ি জামে মসজিদ’ মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এছাড়াও তিনি সামাজিক উন্নয়ন কাজে ব্যপাক ভূমিকা রাখে চলেছেন।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও সমাজসেবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ি’ নামটি মোটেও নতুন কিছু নয়; বরং অন্তত শতবর্ষ ধরেই এ নাম এলাকার মানুষের কাছে সুপরিচিত ও সর্বজনস্বীকৃত। গত ২৫-৩০ বছর ধরে এলাকায় একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নাম হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে এই ‘মীর বাড়ি’। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এসব প্রমাণ করে যে ‘মীরবাড়ি’ নামটি কেবল একটি বাড়ির নাম নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, গৌরবময় ইতিহাস ও স্থানীয় আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এই ঐতিহ্যবাহী নামের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে মীর শাহে আলম তাঁর সুদীর্ঘ কর্মপ্রয়াসের মাধ্যমে একে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

শিবগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মীর শাহে আলমের এই দীর্ঘমেয়াদী অবদান শিবগঞ্জের শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামোকে উন্নত করেছে। নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে যেভাবে তিনি একের পর এক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তা বর্তমান সমাজে এক বিরল দৃষ্টান্ত। শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী ‘মীরবাড়ি’ আজ মীর শাহে আলমের দূরদর্শী কল্যাণে এই অঞ্চলের আলো ছড়ানো এক আলোকবর্তিকায় পরিণত হয়েছে।