সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ বড়লেখা-জুড়ীর নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাইলেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণ: কবরস্থান থেকে  বালতি ভর্তি ককটেল উদ্ধার ঢাকা ওয়াসার মিটার রিডার থেকে কোটিপতি: ওয়াসা কর্মকর্তা হারুনের অ’বৈধ সম্পদের পাহাড় ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামিল, প্রভাব খাটিয়ে আবারও চট্টগ্রাম ডিপোতে! খামারবাড়িতে কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্রে ‘ডিজি’ মাসুম বিল্লাহ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে শুভঙ্করের ফাঁকি ৪ বিঘা জমি কিনে ৬৫ বিঘার প্রকল্প বিক্রি করছে ছুটি রিসোর্ট বাংলাদেশের স্কুলে বিতরণের জন্য ১ হাজার ফুটবল উপহার দিল পাকিস্তান আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: র‌্যাব

পরিচালক হাবিবুল্লাহ, সহিদুল আমিন ও ইকবাল হারুনের নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ত্রি-রত্ন পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সহিদুল আমিন ও ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হারুনের নেতৃত্বে চলছে হরিলুট। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে রমরমা কমিশন, বদলি বাণিজ্য, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের বিপরীতে এবং নানা উপায়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (লিসাসা) সহিদুল আমিন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হারুন বাপ্পীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সহিদুল আমিন ও ইকবাল হারুনের দাপটে তছনছ হয়ে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়মনীতি। অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হরিলুট চালাচ্ছেন সহিদুল আমিন, ইকবাল হারুন ও মেকানিক আরিফুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, রূপপুর বালিশ কাণ্ডকেও হার মানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে (ডিএই) ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ নিয়ে কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছেন প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শহিদুল আমিন। তার সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে রয়েছেন পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পাওয়ার) ইকবাল হারুন বাপ্পী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী) এবং মেকানিক আরিফুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেট ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিল উত্তোলনের মাধ্যমে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, (ডিএই)-তে প্রায় ৩০০ জন বিএসসি নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মরত থাকলেও একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার তথা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পাওয়ার) ইকবাল হারুন বাপ্পীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে সহিদুল আমিন ও ইকবাল হারুন ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়াও সাবেক ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল হোসেন প্রায় এক বছর আগে পিআরএলে গেলেও এখনো পূর্বের কর্মস্থলে বহাল থেকে সরকারি কাজ করছেন। অবসরে যাওয়ার পরও কীভাবে অফিস করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অফিস করার মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন। বেতন কীভাবে হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ওই অফিসে বসেই ঠিকাদারি কাজ করছেন কামাল হোসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সকল প্রশ্নের উত্তর পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সহিদুল আমিন দিতে পারবেন।” পরে তিনি ফোন কেটে দেন।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, রিপেয়ারিং, মেইনটেন্যান্স, ভবন নির্মাণ, সংস্কার, লিফট মেরামত, সিঁড়িঘর সংস্কার, প্যারাফেট ওয়াল নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ঠিকাদারদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে টেন্ডার ছাড়াই কোটেশনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইকবাল হারুন ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সহিদুল আমিন। সরকারি অর্থ লুটপাটের মহোৎসব চলছে এই তিন কর্মকর্তার নেতৃত্বে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ যোগদানের পর থেকেই নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বদলি বাণিজ্যেও তিনি সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাপ্ত একাধিক বিল-ভাউচারের কপিতে দেখা যায়, উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের উপ-পরিচালক রপ্তানি শাখা থেকে অফিসের এসি কম ঠান্ডা হওয়া, ডান পাশের পেছনের দরজার ডেন্ট-পেইন্ট এবং ওয়াইপার ব্লেডের চাহিদাপত্র পাঠানো হয় প্রশাসন শাখায়। সেই চাহিদার বিপরীতে ডেন্ট অ্যান্ড পেইন্ট বাবদ ২৮ হাজার টাকা বিল করা হয়েছে। এছাড়াও এসি মেরামতের নামে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বাবদ বিপুল অঙ্কের বিল দেখানো হয়েছে। সর্বমোট বিল-ভাউচারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৭৪ হাজার ৭০৭ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, রূপপুর বালিশ কাণ্ডকেও হার মানিয়েছে প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের শহিদুল আমিন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হারুন এবং মেকানিক আরিফুল ইসলামের কর্মকাণ্ড।

পরিশোধিত বিলগুলোতে মেকানিক আরিফুল ইসলাম, সাবেক দুর্নীতিবাজ প্রটোকল অফিসার আমিনুর রহমান খান এবং অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সহিদুল আমিন ছাড়া অন্য কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এভাবেই দুই বা তিনজনের স্বাক্ষরে মেরামত, সংস্কার ও কেনাকাটার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য বিল-ভাউচারেও ব্যাপক অসংগতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাতকে দিন আর দিনকে রাত বানিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে আরও ভুয়া বিল-ভাউচারের তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হারুন বাপ্পীর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অফিসে এসে কথা বলেন।” একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীভাবে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে পরিচালক প্রশাসন ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সহিদুল আমিন ভালো বলতে পারবেন।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (লিসাসা) সহিদুল আমিন বলেন, “মহাপরিচালকের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল পরিশোধ হয় না।” যান্ত্রিক প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়া কীভাবে দর নির্ধারণ করা হয়—এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। পরে তিনি দাবি করেন, “সব বিল-ভাউচার পরিশোধের মালিক ডিজি। আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আমি একজন সৎ কর্মকর্তা, খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ

পরিচালক হাবিবুল্লাহ, সহিদুল আমিন ও ইকবাল হারুনের নেতৃত্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ত্রি-রত্ন পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সহিদুল আমিন ও ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হারুনের নেতৃত্বে চলছে হরিলুট। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে রমরমা কমিশন, বদলি বাণিজ্য, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের বিপরীতে এবং নানা উপায়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (লিসাসা) সহিদুল আমিন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হারুন বাপ্পীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সহিদুল আমিন ও ইকবাল হারুনের দাপটে তছনছ হয়ে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়মনীতি। অবৈধ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হরিলুট চালাচ্ছেন সহিদুল আমিন, ইকবাল হারুন ও মেকানিক আরিফুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, রূপপুর বালিশ কাণ্ডকেও হার মানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে (ডিএই) ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ নিয়ে কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছেন প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শহিদুল আমিন। তার সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে রয়েছেন পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পাওয়ার) ইকবাল হারুন বাপ্পী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী) এবং মেকানিক আরিফুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেট ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিল উত্তোলনের মাধ্যমে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, (ডিএই)-তে প্রায় ৩০০ জন বিএসসি নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মরত থাকলেও একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার তথা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পাওয়ার) ইকবাল হারুন বাপ্পীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে সহিদুল আমিন ও ইকবাল হারুন ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়াও সাবেক ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল হোসেন প্রায় এক বছর আগে পিআরএলে গেলেও এখনো পূর্বের কর্মস্থলে বহাল থেকে সরকারি কাজ করছেন। অবসরে যাওয়ার পরও কীভাবে অফিস করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অফিস করার মৌখিক অনুমোদন দিয়েছেন। বেতন কীভাবে হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, ওই অফিসে বসেই ঠিকাদারি কাজ করছেন কামাল হোসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সকল প্রশ্নের উত্তর পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সহিদুল আমিন দিতে পারবেন।” পরে তিনি ফোন কেটে দেন।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, রিপেয়ারিং, মেইনটেন্যান্স, ভবন নির্মাণ, সংস্কার, লিফট মেরামত, সিঁড়িঘর সংস্কার, প্যারাফেট ওয়াল নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ঠিকাদারদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে টেন্ডার ছাড়াই কোটেশনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইকবাল হারুন ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সহিদুল আমিন। সরকারি অর্থ লুটপাটের মহোৎসব চলছে এই তিন কর্মকর্তার নেতৃত্বে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পরিচালক প্রশাসন হাবিবুল্লাহ যোগদানের পর থেকেই নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বদলি বাণিজ্যেও তিনি সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাপ্ত একাধিক বিল-ভাউচারের কপিতে দেখা যায়, উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের উপ-পরিচালক রপ্তানি শাখা থেকে অফিসের এসি কম ঠান্ডা হওয়া, ডান পাশের পেছনের দরজার ডেন্ট-পেইন্ট এবং ওয়াইপার ব্লেডের চাহিদাপত্র পাঠানো হয় প্রশাসন শাখায়। সেই চাহিদার বিপরীতে ডেন্ট অ্যান্ড পেইন্ট বাবদ ২৮ হাজার টাকা বিল করা হয়েছে। এছাড়াও এসি মেরামতের নামে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বাবদ বিপুল অঙ্কের বিল দেখানো হয়েছে। সর্বমোট বিল-ভাউচারের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৭৪ হাজার ৭০৭ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, রূপপুর বালিশ কাণ্ডকেও হার মানিয়েছে প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের শহিদুল আমিন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হারুন এবং মেকানিক আরিফুল ইসলামের কর্মকাণ্ড।

পরিশোধিত বিলগুলোতে মেকানিক আরিফুল ইসলাম, সাবেক দুর্নীতিবাজ প্রটোকল অফিসার আমিনুর রহমান খান এবং অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সহিদুল আমিন ছাড়া অন্য কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, এভাবেই দুই বা তিনজনের স্বাক্ষরে মেরামত, সংস্কার ও কেনাকাটার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য বিল-ভাউচারেও ব্যাপক অসংগতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাতকে দিন আর দিনকে রাত বানিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে আরও ভুয়া বিল-ভাউচারের তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইকবাল হারুন বাপ্পীর মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অফিসে এসে কথা বলেন।” একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীভাবে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে পরিচালক প্রশাসন ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সহিদুল আমিন ভালো বলতে পারবেন।” এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (লিসাসা) সহিদুল আমিন বলেন, “মহাপরিচালকের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো বিল পরিশোধ হয় না।” যান্ত্রিক প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়া কীভাবে দর নির্ধারণ করা হয়—এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। পরে তিনি দাবি করেন, “সব বিল-ভাউচার পরিশোধের মালিক ডিজি। আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আমি একজন সৎ কর্মকর্তা, খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন।”