পটুয়াখালী শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে মো. বাদশা ফয়সাল (২২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে শহরের সবুজবাগ ১০ নম্বর লেন এলাকার একটি চারতলা ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফয়সাল বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি পটুয়াখালীর ‘সফট বাইট’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে সহকর্মীরা তার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। বিকেলে তাকে খুঁজতে বাসায় গেলে ফ্ল্যাটের দরজা চাপানো অবস্থায় দেখতে পান। এরপর ভেতরে ঢুকে খাটের পাশের মেঝেতে কাত হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান সহকর্মীরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।
এদিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে পটুয়াখালীতে ছুটে আসেন নিহত ফয়সালের মা-বাবা। কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। ফয়সালের মা কুইন আক্তার কান্না বিজরিত কণ্ঠে বলেন, ‘ওরে বাবা তুই কেন চলে গেলি, আমারে ছাড়ি তুই কেন চলে গেলি।’ গতকালকেও ওর সাথে কথা হয়েছিল। আমি জিজ্ঞেস করছি, তোর শরীর আছে ভালো? বলছে ভালো আছে। বলছি মেঘ মেঘ করছে আজ আর যাওয়া লাগবে না অফিসে। কিন্তু আজ কীভাবে এমন হলো বুঝতেছি না। ফয়সালের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক রহস্য ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, আবদ্ধ অবস্থায় একটি ঘরে মরদেহ পাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সিআইডি পিবিআইসহ সকলে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলামত জব্দ করেছি। বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি, আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আমরা জানতে পারব, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।
জেলা প্রতিনিধি 






















