ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় গত রাতে আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রবল দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, গাছপালা এবং ফসলি ক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক পরিবারের বসতঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে, গাছ উপড়ে পড়ে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে।
স্থানীয়রা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টি। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের চালা উড়ে যায়। কোথাও কোথাও ঘরের দেয়াল ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আম, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা ফলজ ও বনজ গাছ ভেঙে পড়ে। বিশেষ করে আম ও লিচুর বাগানগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে অনেক গাছের ডালপালা ভেঙে গেছে এবং কাঁচা ফল ঝরে পড়েছে। এতে বাগান মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৪ নং বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কুশলডাঙ্গী বাজার এলাকায় স্কুলের আশপাশের বেশ কয়েকটি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। স্থানীয়রা দ্রুত গাছ সরানোর উদ্যোগ নেন।
এছাড়া রাস্তার পাশে গাছ উপড়ে পড়ায় কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে গাছ সরিয়ে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের তার, ডিস লাইনের সংযোগ তার এবং ওয়াইফাই লাইনের তার ছিঁড়ে সড়ক ও বসতবাড়ির আশপাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
এদিকে ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। বোরো ধান, ভুট্টা, সবজি এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ক্ষেত ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। অনেক জমিতে পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করা কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, সার, বীজ ও সেচ খরচ করে ফসল আবাদ করেছিলেন তারা। কিন্তু এক রাতের ঝড়েই অনেকের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এখন সরকারি সহায়তা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলে তারা মনে করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা লাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি ডিস ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত লাইন সংস্কারে কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ফজলুর রহমান, ঠাকুরগাঁওঃ 
























