ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’ জামায়াত এমপির ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৯ যুদ্ধের ডামাডোল পেরিয়ে হজে যাচ্ছেন ৩০ হাজার ইরানি ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের ​বন বিভাগের ‘মাফিয়া’ সুমন মিয়ার ক্ষমতার দাপট: নির্বাচন কমিশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হরিলুট মিঠাপুকুরে দুই সাংবাদিক ও কয়েকটি পত্রিকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা স্বরলিপি পাবলিকেশনের কৃতী নারী সম্মাননা ফ্যাসিস্ট মন্ত্রীর প্রভাবে মহাজন, এরপর কোটি টাকার হরিলুট বালিজুড়ী রেঞ্জারের পৈশাচিকতায় ধ্বংস হচ্ছে বন বড়লেখায় পৃথক ২ রাস্তার উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন নাসির উদ্দিন এমপি দিনে ১০-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না শেরপুরে, বিপর্যস্ত জনজীবন

ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা

ঢাকার ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী
নাহিদা আক্তারকে (১৬) কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।  আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদা আক্তারের মা লিজা আক্তার একজন প্রবাসী আর বাবা নুর হোসেন বরিশালে থাকেন। তিনি নানীর সঙ্গে থাকেন। তিনি ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের বানিজ্য বিভাগ থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।
নিহত নাহিদার পরিবারের সদস্যরা জানান, আজ বিকেলে নাহিদা আক্তার নিজ ঘরে পড়াশোনা করছিলেন। একপর্যায়ে নানী দুধ আনার জন্য বাইরে যান। যাওয়ার আগে তিনি নাহিদাকে ভেতর থেকে ঘরের দড়জা বন্ধ রাখতে এবং তিনি না ফেরা পর্যন্ত অপরিচিত কেউ আসলে দড়জা না খোলার নির্দেশ দেন। এরপর বাইরে থেকে ফিরে এসে দেলোয়ারা বেগম ঘরের দড়জা খোলা এবং রান্না ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় নাহিদাকে পরে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে নাহিদাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর সেখান থেকে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের নানী দেলোয়ারা বেগম বলেন, দুধ আনতে গেছিলাম। যাওয়ার আগে দড়জার সামনে খারাইয়া (দাঁড়িয়ে) ছিলাম যাতে ভেতর থিকা ছিটকিনি দেয়। কইয়া গেছিলাম কেউ আইলে দড়জা খুলবা না, আমি আইলে আর মামারা আইলে খুলবা। তখন ও বলে নানু আমার গোসল করতে একঘন্টা দেড়ঘন্টা লাগবে তুমি একঘন্টা দেড়ঘন্টা পরে আইয়ো। ফিরা আইয়া দেখি দুয়ার মেলা (দড়জা খোলা)। চুলার পাড়ে দেখি লাম্বা হইয়া পইরা রইছে। দেহি কানেরতা নাইকা গলার চেইনও নাইকা।
নিহতের মামা মো. খোকন বলেন, আম্মা (নিহতের নানী) বাসার বাইরে দুধ আনতে যান। দুধ নিয়ে বাসায় এসে দেখেন ফ্লোরে নাহিদা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিলাম সেখান থেকে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজে নিলে ডাক্তার বলেন নাহিদা মারা গেছে।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, সন্ধ্যা ৭ টা ৫০ মিনিটের দিকে একজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারি। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোসহ এঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি দ্রুতই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’

ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ১২:০৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী
নাহিদা আক্তারকে (১৬) কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।  আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদা আক্তারের মা লিজা আক্তার একজন প্রবাসী আর বাবা নুর হোসেন বরিশালে থাকেন। তিনি নানীর সঙ্গে থাকেন। তিনি ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের বানিজ্য বিভাগ থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।
নিহত নাহিদার পরিবারের সদস্যরা জানান, আজ বিকেলে নাহিদা আক্তার নিজ ঘরে পড়াশোনা করছিলেন। একপর্যায়ে নানী দুধ আনার জন্য বাইরে যান। যাওয়ার আগে তিনি নাহিদাকে ভেতর থেকে ঘরের দড়জা বন্ধ রাখতে এবং তিনি না ফেরা পর্যন্ত অপরিচিত কেউ আসলে দড়জা না খোলার নির্দেশ দেন। এরপর বাইরে থেকে ফিরে এসে দেলোয়ারা বেগম ঘরের দড়জা খোলা এবং রান্না ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় নাহিদাকে পরে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে নাহিদাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর সেখান থেকে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের নানী দেলোয়ারা বেগম বলেন, দুধ আনতে গেছিলাম। যাওয়ার আগে দড়জার সামনে খারাইয়া (দাঁড়িয়ে) ছিলাম যাতে ভেতর থিকা ছিটকিনি দেয়। কইয়া গেছিলাম কেউ আইলে দড়জা খুলবা না, আমি আইলে আর মামারা আইলে খুলবা। তখন ও বলে নানু আমার গোসল করতে একঘন্টা দেড়ঘন্টা লাগবে তুমি একঘন্টা দেড়ঘন্টা পরে আইয়ো। ফিরা আইয়া দেখি দুয়ার মেলা (দড়জা খোলা)। চুলার পাড়ে দেখি লাম্বা হইয়া পইরা রইছে। দেহি কানেরতা নাইকা গলার চেইনও নাইকা।
নিহতের মামা মো. খোকন বলেন, আম্মা (নিহতের নানী) বাসার বাইরে দুধ আনতে যান। দুধ নিয়ে বাসায় এসে দেখেন ফ্লোরে নাহিদা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিলাম সেখান থেকে সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজে নিলে ডাক্তার বলেন নাহিদা মারা গেছে।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, সন্ধ্যা ৭ টা ৫০ মিনিটের দিকে একজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারি। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোসহ এঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি দ্রুতই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।