ঢাকা ০২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’ জামায়াত এমপির ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৯ যুদ্ধের ডামাডোল পেরিয়ে হজে যাচ্ছেন ৩০ হাজার ইরানি ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের ​বন বিভাগের ‘মাফিয়া’ সুমন মিয়ার ক্ষমতার দাপট: নির্বাচন কমিশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হরিলুট মিঠাপুকুরে দুই সাংবাদিক ও কয়েকটি পত্রিকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা স্বরলিপি পাবলিকেশনের কৃতী নারী সম্মাননা ফ্যাসিস্ট মন্ত্রীর প্রভাবে মহাজন, এরপর কোটি টাকার হরিলুট বালিজুড়ী রেঞ্জারের পৈশাচিকতায় ধ্বংস হচ্ছে বন বড়লেখায় পৃথক ২ রাস্তার উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন নাসির উদ্দিন এমপি দিনে ১০-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না শেরপুরে, বিপর্যস্ত জনজীবন
ইউএনও’র নির্দেশ অমান্য

পীরগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নেই অভিযান, আতঙ্কে গ্রামবাসী

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের টিওরমারী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) লিখিত নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল ইউএনও পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডকে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশের ১৩ দিন পার হলেও এখনো কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত বছর ধরে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ধুলাবালিতে বসতবাড়ি ও আবাদি জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা প্রভাব খাটিয়ে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অবৈধ বালু পরিবহনের প্রতিবাদ করায় রুবেল ও আনোয়ার নামে দুই যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলেও দাবি তাদের।
এছাড়া বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ট্রলিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেওয়া এবং প্রতিবাদকারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ২ মার্চ নিরাপত্তা চেয়ে ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসী ইউএনও ও এসিল্যান্ড বরাবর লিখিত আবেদন করেন। পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল ইউএনও’র লিখিত নির্দেশনার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশা আরও বেড়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, “প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। ইউএনও স্যার লিখে দেওয়ার পরও যদি ব্যবস্থা না হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাবো?”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বালু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অভিযান বিলম্বের কারণ সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’

ইউএনও’র নির্দেশ অমান্য

পীরগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নেই অভিযান, আতঙ্কে গ্রামবাসী

আপডেট সময় ১১:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের টিওরমারী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) লিখিত নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল ইউএনও পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডকে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশের ১৩ দিন পার হলেও এখনো কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় সাত বছর ধরে করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ট্রাক্টর ও ট্রলির মাধ্যমে গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। এতে রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ধুলাবালিতে বসতবাড়ি ও আবাদি জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা প্রভাব খাটিয়ে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অবৈধ বালু পরিবহনের প্রতিবাদ করায় রুবেল ও আনোয়ার নামে দুই যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলেও দাবি তাদের।
এছাড়া বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ট্রলিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেওয়া এবং প্রতিবাদকারীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ২ মার্চ নিরাপত্তা চেয়ে ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসী ইউএনও ও এসিল্যান্ড বরাবর লিখিত আবেদন করেন। পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল ইউএনও’র লিখিত নির্দেশনার পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশা আরও বেড়েছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, “প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। ইউএনও স্যার লিখে দেওয়ার পরও যদি ব্যবস্থা না হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাবো?”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বালু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অভিযান বিলম্বের কারণ সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।