ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ:‌ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন দাবি রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, ভোরে আত্মহত্যা করেন সম্রাট ​স্বপ্নজয়ের লক্ষে প্রস্তুত ৯৫ শিক্ষার্থী: রায়হান বায়োলজি ও মোরশেদ ম্যাথ একাডেমির রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা যশোরে বিনামূল্যে দোস্ত এইডের টিউবওয়েল বিতরণ জাতীয় সংসদের স্পিকারের সাথে পুলিশ সুপারের সৌজন্যে সাক্ষাৎ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরির অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক শ্রীপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় জামায়াতের উদ্বেগ ডিবি পরিচয়ে উঠিয়ে নেওয়া হাসান নাসিমের মুক্তির দাবি ডাকসুর ৬ জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১২ জনের ফরিদপুর মেডিকেলে হাম উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু

বোরহানউদ্দিনে ১০ বছরের দাম্পত্যজীবন, প্রবাসীর টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও স্ত্রী

১০ বছরের দাম্পত্যজীবন,
প্রবাসীর ৭০ লাখ টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাত! গোপনে তালাক দিয়ে তৃতীয় বিয়ে—বোরহানউদ্দিনে তাসলিমা কাণ্ডে তোলপাড়।
‎‎ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রবাসী স্বামীর পাঠানো প্রায় ৭০ লাখ টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে তাসলিমা বেগম নামে এক নারীকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে গোপনে তালাক দিয়ে তৃতীয়বার বিয়ে করার ঘটনাও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
‎‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ উদয়পুর গ্রামের মো: আলী হোসেনের মেয়ে তাসলিমা বেগমের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে টবগী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী সোলাইমানের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই জীবিকার তাগিদে সোলাইমান সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে অবস্থান করে তিনি নিয়মিতভাবে স্ত্রীর কাছে অর্থ পাঠাতে থাকেন। তার দাবি, দীর্ঘ প্রবাস জীবনে তিনি প্রায় ৭০ লাখ টাকা স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন।
‎‎সোলাইমানের অভিযোগ, ওই অর্থ দিয়ে তাসলিমা বেগম তার বাবার বাড়িতে নিজের নামে জমি ক্রয় ও একটি পাকা ভবন নির্মাণ করেন। এছাড়া প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণও তাকে দেওয়া হয়। কিন্তু চলতি বছরের ২৯ মার্চ তাকে গোপনে তালাক দিয়ে পরদিন ৩০ মার্চ মঞ্জুর হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেন।‎
‎সৌদি আরব থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় সোলাইমান বলেন, “আমার কষ্টের উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাত করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” তার পরিবারও একই অভিযোগ তুলে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
‎এদিকে সোলাইমানের মা দাবি করেন, তাসলিমা বেগম এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছেন এবং প্রতিবারই প্রবাসী স্বামীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাত করেছেন। তার ভাষ্য, “এটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”‎
‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাসলিমা একাধিক বিয়ে করে স্বামীদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে  বর্তমান স্বামী মঞ্জুর হোসেন জানান, তার প্রথম স্ত্রী কয়েক মাস আগে অসুস্থতায় মারা যান। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে গিয়ে তাসলিমার সঙ্গে পরিচিত হন এবং তালাকের পর তাকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তারা স্বাভাবিকভাবে সংসার করছেন বলে তিনি দাবি করেন।‎
‎তবে তাসলিমা বেগম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, “বিয়ের পর স্বামী বিদেশে গিয়ে আর খোঁজখবর নেননি। বাধ্য হয়ে আমি তালাক দিয়ে নতুন করে বিয়ে করেছি। অর্থ বা স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
‎ঘটনাটি নতুন মোড় নেয় যখন অভিযোগ ওঠে, তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের সামনেই মঞ্জুর হোসেন সোলাইমানের মাকে হুমকি দেন। আইনি ব্যবস্থা নিলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করা হয়।
‎এ বিষয়ে স্থানীয় কাজী মোসলেহউদ্দিন বলেন, মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী তালাকের পর নারীর জন্য তিন মাস ১০ দিন ‘ইদ্দত’ পালন বাধ্যতামূলক। এই সময়ের মধ্যে পুনরায় বিয়ে করলে তা শরিয়াহসম্মত নয় এবং আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
‎ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ:‌ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন দাবি

বোরহানউদ্দিনে ১০ বছরের দাম্পত্যজীবন, প্রবাসীর টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও স্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:০৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
১০ বছরের দাম্পত্যজীবন,
প্রবাসীর ৭০ লাখ টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাত! গোপনে তালাক দিয়ে তৃতীয় বিয়ে—বোরহানউদ্দিনে তাসলিমা কাণ্ডে তোলপাড়।
‎‎ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রবাসী স্বামীর পাঠানো প্রায় ৭০ লাখ টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে তাসলিমা বেগম নামে এক নারীকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে গোপনে তালাক দিয়ে তৃতীয়বার বিয়ে করার ঘটনাও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
‎‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ উদয়পুর গ্রামের মো: আলী হোসেনের মেয়ে তাসলিমা বেগমের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে টবগী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী সোলাইমানের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই জীবিকার তাগিদে সোলাইমান সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে অবস্থান করে তিনি নিয়মিতভাবে স্ত্রীর কাছে অর্থ পাঠাতে থাকেন। তার দাবি, দীর্ঘ প্রবাস জীবনে তিনি প্রায় ৭০ লাখ টাকা স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন।
‎‎সোলাইমানের অভিযোগ, ওই অর্থ দিয়ে তাসলিমা বেগম তার বাবার বাড়িতে নিজের নামে জমি ক্রয় ও একটি পাকা ভবন নির্মাণ করেন। এছাড়া প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণও তাকে দেওয়া হয়। কিন্তু চলতি বছরের ২৯ মার্চ তাকে গোপনে তালাক দিয়ে পরদিন ৩০ মার্চ মঞ্জুর হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেন।‎
‎সৌদি আরব থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় সোলাইমান বলেন, “আমার কষ্টের উপার্জিত অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাত করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” তার পরিবারও একই অভিযোগ তুলে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
‎এদিকে সোলাইমানের মা দাবি করেন, তাসলিমা বেগম এর আগেও একাধিক বিয়ে করেছেন এবং প্রতিবারই প্রবাসী স্বামীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাত করেছেন। তার ভাষ্য, “এটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”‎
‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাসলিমা একাধিক বিয়ে করে স্বামীদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে এলাকায় প্রচলিত রয়েছে  বর্তমান স্বামী মঞ্জুর হোসেন জানান, তার প্রথম স্ত্রী কয়েক মাস আগে অসুস্থতায় মারা যান। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে গিয়ে তাসলিমার সঙ্গে পরিচিত হন এবং তালাকের পর তাকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তারা স্বাভাবিকভাবে সংসার করছেন বলে তিনি দাবি করেন।‎
‎তবে তাসলিমা বেগম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, “বিয়ের পর স্বামী বিদেশে গিয়ে আর খোঁজখবর নেননি। বাধ্য হয়ে আমি তালাক দিয়ে নতুন করে বিয়ে করেছি। অর্থ বা স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
‎ঘটনাটি নতুন মোড় নেয় যখন অভিযোগ ওঠে, তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের সামনেই মঞ্জুর হোসেন সোলাইমানের মাকে হুমকি দেন। আইনি ব্যবস্থা নিলে পরিণতি ভালো হবে না বলেও সতর্ক করা হয়।
‎এ বিষয়ে স্থানীয় কাজী মোসলেহউদ্দিন বলেন, মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী তালাকের পর নারীর জন্য তিন মাস ১০ দিন ‘ইদ্দত’ পালন বাধ্যতামূলক। এই সময়ের মধ্যে পুনরায় বিয়ে করলে তা শরিয়াহসম্মত নয় এবং আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
‎ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী।