সংবাদ শিরোনাম ::
একাধিক দুর্নীতি মামলার আসামি তবুও সিডিএর ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হাসান! পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম মিশন প্রধানের বৈঠক দুই মাস পর আবারও শুরু চাল বিতরণ, সুবিধা পাচ্ছে ১৭ হাজার পরিবার বরগুনায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত পানি প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার লুট, কাজের আগেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন একটি ঘরের অপেক্ষায় অসহায় রাসেল মন্ডল পরিবার-প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেটার স্বাধীনতা ও আস্থা বাড়াতে হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে কে জিতবে, নির্ধারণ করবেন গ্যাব্রিয়েল-হালান্ড! শাওনের ফেসবুক আইডি উধাও

২৫ দিন পর দেশে ফিরল প্রবাসী শাফিউলের মরদেহ

  • জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৪:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৮৩ বার পড়া হয়েছে

২৫ দিন পর দেশে ফিরেছে সৌদি প্রবাসী শাফিউল ইসলামের (৩৫) মরদেহ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে কসবা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে, শুক্রবার রাতে একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে শনিবার ভোরে মরদেহ নিজ গ্রাম কসবায় নেওয়া হয়।

শাফিউল ইসলাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের আবুল ফজলের ছেলে। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে এবং দুই কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে মাত্র এক বছর আগে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু প্রবাস জীবনের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা তার জীবন কেড়ে নেয়।

জানা গেছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি বহুতল ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন শাফিউল ইসলাম। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কিং খালেদ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং সেখানে নিবিড় চিকিৎসা চলতে থাকে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গত ২৩ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে কসবা গ্রামে নেমে আসে গভীর শোক। স্ত্রী, দুই কন্যা, বাবা-মা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মৃত্যুর পর প্রশাসনিক নানা জটিলতা, দূতাবাসের অনুমতি ও ফ্লাইট ব্যবস্থার কারণে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ২৫ দিন পর অবশেষে শুক্রবার রাতে একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে আজ ভোরে মরদেহ নিজ গ্রাম কসবায় আনা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শেষবারের মতো শাফিউলকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি ও বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাফিউল দেশে থাকলে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ। পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য মাত্র এক বছর আগে তিনি প্রবাসে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিণতিতে তাকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো।

প্রতিবেশী আবু রাইহান বলেন, ওনাকে আমি মামা বলে ডাকতাম। উনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। ওনার দুইটা মেয়ে আছে, বড় মেয়ে ৮ম শ্রেণিতে আর ছোট মেয়ে ১ম শ্রেণিতে পড়ে। দেশে উনি ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতেন। প্রবাসে যাওয়াও বেশিদিন হয়নি। এভাবে এমন দুর্ঘটনা সত্যিই খুব কষ্টদায়ক। এ ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন এবং পরিবারকে ধৈর্য ধরার শক্তি দিন।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শাফিউলের বাবা আবুল ফজল বলেন, আমার ছেলে আমাদের পরিবারের স্বপ্ন ছিল। সে দেশে থেকে কষ্ট করে কাজ করতো, পরে আমাদের ভালো রাখার জন্য বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা ভাবিনি সে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে। এখন তার দুইটা ছোট মেয়ে নিয়ে আমরা কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে জান্নাত দান করেন।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় এমন একটি দুর্ঘটনায় একজন যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আসলে, সরকারি যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে, সেগুলো নিশ্চিত করতে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো।

শাফিউল ইসলামের এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং প্রবাস জীবনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একাধিক দুর্নীতি মামলার আসামি তবুও সিডিএর ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হাসান!

২৫ দিন পর দেশে ফিরল প্রবাসী শাফিউলের মরদেহ

আপডেট সময় ০৪:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

২৫ দিন পর দেশে ফিরেছে সৌদি প্রবাসী শাফিউল ইসলামের (৩৫) মরদেহ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে কসবা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে, শুক্রবার রাতে একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে শনিবার ভোরে মরদেহ নিজ গ্রাম কসবায় নেওয়া হয়।

শাফিউল ইসলাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের আবুল ফজলের ছেলে। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে এবং দুই কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে মাত্র এক বছর আগে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু প্রবাস জীবনের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা তার জীবন কেড়ে নেয়।

জানা গেছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি বহুতল ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন শাফিউল ইসলাম। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কিং খালেদ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং সেখানে নিবিড় চিকিৎসা চলতে থাকে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গত ২৩ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে কসবা গ্রামে নেমে আসে গভীর শোক। স্ত্রী, দুই কন্যা, বাবা-মা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মৃত্যুর পর প্রশাসনিক নানা জটিলতা, দূতাবাসের অনুমতি ও ফ্লাইট ব্যবস্থার কারণে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ২৫ দিন পর অবশেষে শুক্রবার রাতে একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে আজ ভোরে মরদেহ নিজ গ্রাম কসবায় আনা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শেষবারের মতো শাফিউলকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি ও বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাফিউল দেশে থাকলে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ। পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য মাত্র এক বছর আগে তিনি প্রবাসে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিণতিতে তাকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো।

প্রতিবেশী আবু রাইহান বলেন, ওনাকে আমি মামা বলে ডাকতাম। উনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। ওনার দুইটা মেয়ে আছে, বড় মেয়ে ৮ম শ্রেণিতে আর ছোট মেয়ে ১ম শ্রেণিতে পড়ে। দেশে উনি ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতেন। প্রবাসে যাওয়াও বেশিদিন হয়নি। এভাবে এমন দুর্ঘটনা সত্যিই খুব কষ্টদায়ক। এ ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন এবং পরিবারকে ধৈর্য ধরার শক্তি দিন।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শাফিউলের বাবা আবুল ফজল বলেন, আমার ছেলে আমাদের পরিবারের স্বপ্ন ছিল। সে দেশে থেকে কষ্ট করে কাজ করতো, পরে আমাদের ভালো রাখার জন্য বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা ভাবিনি সে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে। এখন তার দুইটা ছোট মেয়ে নিয়ে আমরা কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে জান্নাত দান করেন।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় এমন একটি দুর্ঘটনায় একজন যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আসলে, সরকারি যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে, সেগুলো নিশ্চিত করতে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো।

শাফিউল ইসলামের এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং প্রবাস জীবনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।