সংবাদ শিরোনাম ::
একাধিক দুর্নীতি মামলার আসামি তবুও সিডিএর ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হাসান! পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম মিশন প্রধানের বৈঠক দুই মাস পর আবারও শুরু চাল বিতরণ, সুবিধা পাচ্ছে ১৭ হাজার পরিবার বরগুনায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত পানি প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার লুট, কাজের আগেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন একটি ঘরের অপেক্ষায় অসহায় রাসেল মন্ডল পরিবার-প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেটার স্বাধীনতা ও আস্থা বাড়াতে হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে কে জিতবে, নির্ধারণ করবেন গ্যাব্রিয়েল-হালান্ড! শাওনের ফেসবুক আইডি উধাও

তিন দশকেও সমাধানহীন হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব, গারো পাহাড় সীমান্তে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত

শেরপুরের গারো পাহাড়সংলগ্ন সীমান্তজুড়ে বন্য হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে চলমান এই সংঘাতে প্রতিবছরই বাড়ছে প্রাণহানি। একদিকে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে মারা যাচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় এশীয় হাতি।

বিভিন্ন সময় বন বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আজও অধরাই রয়ে গেছে। ফলে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনের নামে সোলার ফেন্সিং, বেতবাগানসহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সেগুলোর অধিকাংশই ছিল কাগুজে উদ্যোগ। বন বিভাগের একাংশের অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ঠিকাদারদের যোগসাজশে এসব প্রকল্পের অর্থ অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, নির্বিচারে বন উজাড় ও পাহাড় দখলের কারণে হাতির প্রাকৃতিক আবাস ও খাদ্যের উৎস কমে গেছে। এতে বাধ্য হয়ে খাদ্যের সন্ধানে হাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাচ্ছে। ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গত কয়েক দশকে হাতির আক্রমণে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন আরও অনেকে।

অন্যদিকে ফসল রক্ষায় কৃষকেরা জমির চারপাশে জিআই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে যে ফাঁদ তৈরি করছেন, তাতে প্রাণ হারাচ্ছে হাতি। এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। সন্ধ্যা নামলেই পাহাড়ি গ্রামগুলোতে নেমে আসে আতঙ্ক। অনেক ক্ষেত্রে হাতির পাল ঘরের দেয়াল ভেঙে খাদ্য লুটে নিচ্ছে, এমনকি মানুষের ওপরও হামলা চালাচ্ছে। ফলে নির্ঘুম রাত কাটছে সীমান্তের বাসিন্দাদের।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন জানান, হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে বন উজাড় ও খাদ্যসংকটের কারণে হাতির লোকালয়ে প্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সীমান্তবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে হাতির চলাচলের করিডোর পুনরুদ্ধার এবং পাহাড়ে পর্যাপ্ত খাদ্য ও প্রাকৃতিক বনায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস ও অপরিকল্পিত বনায়নের ফলে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে তারা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। কিছু এলাকায় সোলার ফেন্সিং স্থাপন করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা কার্যকর থাকছে না।

স্থানীয়দের দাবি, এ সংকট মোকাবিলায় আর আশ্বাস নয়—প্রয়োজন কার্যকর, টেকসই ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ। পাশাপাশি বন বিভাগের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একাধিক দুর্নীতি মামলার আসামি তবুও সিডিএর ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হাসান!

তিন দশকেও সমাধানহীন হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব, গারো পাহাড় সীমান্তে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত

আপডেট সময় ০৩:৪১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

শেরপুরের গারো পাহাড়সংলগ্ন সীমান্তজুড়ে বন্য হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে চলমান এই সংঘাতে প্রতিবছরই বাড়ছে প্রাণহানি। একদিকে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে মারা যাচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় এশীয় হাতি।

বিভিন্ন সময় বন বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান আজও অধরাই রয়ে গেছে। ফলে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনের নামে সোলার ফেন্সিং, বেতবাগানসহ নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সেগুলোর অধিকাংশই ছিল কাগুজে উদ্যোগ। বন বিভাগের একাংশের অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ঠিকাদারদের যোগসাজশে এসব প্রকল্পের অর্থ অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, নির্বিচারে বন উজাড় ও পাহাড় দখলের কারণে হাতির প্রাকৃতিক আবাস ও খাদ্যের উৎস কমে গেছে। এতে বাধ্য হয়ে খাদ্যের সন্ধানে হাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাচ্ছে। ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গত কয়েক দশকে হাতির আক্রমণে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন আরও অনেকে।

অন্যদিকে ফসল রক্ষায় কৃষকেরা জমির চারপাশে জিআই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে যে ফাঁদ তৈরি করছেন, তাতে প্রাণ হারাচ্ছে হাতি। এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। সন্ধ্যা নামলেই পাহাড়ি গ্রামগুলোতে নেমে আসে আতঙ্ক। অনেক ক্ষেত্রে হাতির পাল ঘরের দেয়াল ভেঙে খাদ্য লুটে নিচ্ছে, এমনকি মানুষের ওপরও হামলা চালাচ্ছে। ফলে নির্ঘুম রাত কাটছে সীমান্তের বাসিন্দাদের।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন জানান, হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে বন উজাড় ও খাদ্যসংকটের কারণে হাতির লোকালয়ে প্রবেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, সীমান্তবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে হাতির চলাচলের করিডোর পুনরুদ্ধার এবং পাহাড়ে পর্যাপ্ত খাদ্য ও প্রাকৃতিক বনায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক বন ধ্বংস ও অপরিকল্পিত বনায়নের ফলে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে তারা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। কিছু এলাকায় সোলার ফেন্সিং স্থাপন করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা কার্যকর থাকছে না।

স্থানীয়দের দাবি, এ সংকট মোকাবিলায় আর আশ্বাস নয়—প্রয়োজন কার্যকর, টেকসই ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ। পাশাপাশি বন বিভাগের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।