সংবাদ শিরোনাম ::
স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করায় ইসরায়েলের তোপের মুখে ট্রাম্প বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক দুদকের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চার দিনের রিমান্ড বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন : বিমানমন্ত্রী জামিন পেলেন অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর সেই ২০ জনকে আবারও পুশ-ইনের চেষ্টা, এবার লাঠি নিয়ে পাহারায় জনগণ নাফরিজা শ্যামার সিদ্ধান্তে কাজ ছাড়াই ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় রিগান নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত রিগান মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ সকাল ১১টার দিকে শোলমারী গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী তার নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে তেরঘরিয়া গ্রামের একটি দোকানের পাশে খেলছিল। এ সময় রিগান তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এঘটনায় ভিকটিমের চাচা শাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। বিচার চলাকালে আসামি দোষ স্বীকার করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ প্রদান না করলে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে তা ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) মোস্তাফিজুর রহমান এবং আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহিম শাহীন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় ০৪:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় রিগান নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত রিগান মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ সকাল ১১টার দিকে শোলমারী গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী তার নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে তেরঘরিয়া গ্রামের একটি দোকানের পাশে খেলছিল। এ সময় রিগান তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এঘটনায় ভিকটিমের চাচা শাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। বিচার চলাকালে আসামি দোষ স্বীকার করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ প্রদান না করলে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে তা ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) মোস্তাফিজুর রহমান এবং আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহিম শাহীন।