ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গংগাচড়ায় ঝুকিপূর্ণ ব্রিজ: নিউ স্টার পাড়াবাসীর দুর্ভোগ চরমে, নতুন ব্রিজের দাবি বোরহানউদ্দিনে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক নোয়াখালীতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে চেক বিতরণ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আওয়ামীলীগ দোসর ২য় পর্ব ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গনে বিপুল পরিমাণ মাদক ধ্বংস করা হয়েছে। কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ-সোহেল সিন্ডিকেটের শত কোটি টাকা প্রতারণা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তালিকা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের। পাম্পে সিরিয়াল দেওয়া নিয়ে যুবদল-ছাত্রদলের সংঘর্ষ, আহত ৩ করোনার মতো নকলেরও ধরন বদলেছে : শিক্ষামন্ত্রী নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে পুলিশ হবে জনগণের আস্থার প্রতীক: নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম 

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় রিগান নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত রিগান মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ সকাল ১১টার দিকে শোলমারী গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী তার নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে তেরঘরিয়া গ্রামের একটি দোকানের পাশে খেলছিল। এ সময় রিগান তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এঘটনায় ভিকটিমের চাচা শাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। বিচার চলাকালে আসামি দোষ স্বীকার করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ প্রদান না করলে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে তা ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) মোস্তাফিজুর রহমান এবং আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহিম শাহীন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গংগাচড়ায় ঝুকিপূর্ণ ব্রিজ: নিউ স্টার পাড়াবাসীর দুর্ভোগ চরমে, নতুন ব্রিজের দাবি

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন, ২ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেট সময় ০৪:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় রিগান নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত রিগান মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ সকাল ১১টার দিকে শোলমারী গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী তার নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে তেরঘরিয়া গ্রামের একটি দোকানের পাশে খেলছিল। এ সময় রিগান তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এঘটনায় ভিকটিমের চাচা শাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। বিচার চলাকালে আসামি দোষ স্বীকার করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ প্রদান না করলে আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে তা ভিকটিমকে দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি পি) মোস্তাফিজুর রহমান এবং আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহিম শাহীন।