ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
করোনার মতো নকলেরও ধরন বদলেছে : শিক্ষামন্ত্রী নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে পুলিশ হবে জনগণের আস্থার প্রতীক: নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম  দুই কোটি টাকার রূপার তৈজস ও মদ জব্দ আলজেরিয়া‌কে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন, ২ লাখ টাকা জরিমানা বিসিবির অধীনে সেই লেভেল-থ্রি কোর্সে পাস করেছেন সবাই এবার গুমের মামলায় গ্রেপ্তার শেখ মামুন, জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পঞ্চগড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। ব্রাহ্মণপাড়ায় ৪২ কেজি গাঁজা জব্দ ইরানের বন্দর অবরোধের মার্কিন পরিকল্পনায় যোগ দিচ্ছে না যুক্তরাজ্য

বৈশাখী মেলা ঘিরে কর্মব্যস্ত ফুলবাড়ীর কুমোরপাড়া

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন কুমোরপাড়ায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। বৈশাখী মেলা উপলক্ষে মাটির তৈরি নানা ধরনের পণ্য প্রস্তুত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা। শেষ সময়ে ব্যস্ততা বেড়ে গেছে অনেকাংশে।

কুমোরপাড়ার কারিগররা মাটির হাঁড়ি-পাতিল, কলস, শো-পিস, খেলনা, বাঁশি, ঘটি, ফুলদানি, পাখি ও বিভিন্ন নকশার মাটির সামগ্রী তৈরি করছেন। এসব পণ্যের অনেকগুলোতে রঙের কাজও চলছে। বৈশাখী মেলায় এসব মাটির পণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় আগেভাগেই উৎপাদন বাড়িয়েছেন তারা।

সরেজমিনে উপজেলার পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী কুমোরপাড়া, শিবনগর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর পালপাড়া ও দাদপুর পালপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা। প্রতিটি পরিবার মিলে তৈরি করছেন মাটির তৈরি নানা সামগ্রী। কেউ এঁটেল মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ তৈরি করছেন পিঠা বানানোর খোলা, খেলনা কিংবা বিভিন্ন ছাঁচ। আবার কেউ তৈরি করা সামগ্রী শুকিয়ে রং-তুলির ছোঁয়ায় দিচ্ছেন বাহারি রূপ।

গ্রামটিতে তৈরি হচ্ছে খেলনা হাঁস, ঘোড়া, টিয়া, মাছ ও দোয়েল পাখির আকৃতির নানা পণ্য। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে মাটির ব্যাংক, মগ, প্লাস, প্লেট, চায়ের কাপসহ নানা ধরনের ঘরোয়া ব্যবহার্য সামগ্রী।

পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী কুমোরপাড়া গ্রামের গণেশ পাল বলেন, এটা আমাদের বাপ-দাদার পেশা। তাদের দেখাদেশি পেটের তাগিদে আমরাও এই করে যাচ্ছি। কিন্তু যে পরিমাণ খরচ ও পরিশ্রম হয়, তাতে এখন আর তেমন লাভ থাকে না।

স্থানীয় বাসিন্দা সাগর পাল জানান, মৃৎশিল্পের প্রধান উপকরণ এঁটেল মাটি এখন সহজে পাওয়া যায় না। অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকে মাটি আনতে হয়, এতে খরচও বেড়ে যায় এবং নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। এ ছাড়া প্লাস্টিকসহ আধুনিক বিভিন্ন পণ্যের কারণে মাটির জিনিসের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতি বছর বৈশাখী মেলা উপলক্ষে তাদের তৈরি মাটির পণ্যের বিক্রি বাড়ে। তাই এই সময়টাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই মিলে কাজ করেন। তবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং আধুনিক পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে আগের মতো লাভ হচ্ছে না বলেও জানান তারা। তবু শত প্রতিক‚লতার মধ্যেও শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে মৃৎশিল্পীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে তাদের এই কর্মব্যস্ততা গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, স্বল্পসুদে ঋণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সহায়তা দেওয়া হলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প আবারও নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, কুমারপাড়ার উন্নয়ন বা সহায়তা চেয়ে যোগদানের পর লিখিত কোনো আবেদন পাইনি। আবেদন পেলে এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে মাটির সংকটসহ বিরাজমান সমস্যাসমূহ নিরসনের জন্য চেষ্টা করব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

করোনার মতো নকলেরও ধরন বদলেছে : শিক্ষামন্ত্রী

বৈশাখী মেলা ঘিরে কর্মব্যস্ত ফুলবাড়ীর কুমোরপাড়া

আপডেট সময় ০৪:০০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন কুমোরপাড়ায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। বৈশাখী মেলা উপলক্ষে মাটির তৈরি নানা ধরনের পণ্য প্রস্তুত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা। শেষ সময়ে ব্যস্ততা বেড়ে গেছে অনেকাংশে।

কুমোরপাড়ার কারিগররা মাটির হাঁড়ি-পাতিল, কলস, শো-পিস, খেলনা, বাঁশি, ঘটি, ফুলদানি, পাখি ও বিভিন্ন নকশার মাটির সামগ্রী তৈরি করছেন। এসব পণ্যের অনেকগুলোতে রঙের কাজও চলছে। বৈশাখী মেলায় এসব মাটির পণ্যের চাহিদা বেশি থাকায় আগেভাগেই উৎপাদন বাড়িয়েছেন তারা।

সরেজমিনে উপজেলার পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী কুমোরপাড়া, শিবনগর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর পালপাড়া ও দাদপুর পালপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা। প্রতিটি পরিবার মিলে তৈরি করছেন মাটির তৈরি নানা সামগ্রী। কেউ এঁটেল মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ তৈরি করছেন পিঠা বানানোর খোলা, খেলনা কিংবা বিভিন্ন ছাঁচ। আবার কেউ তৈরি করা সামগ্রী শুকিয়ে রং-তুলির ছোঁয়ায় দিচ্ছেন বাহারি রূপ।

গ্রামটিতে তৈরি হচ্ছে খেলনা হাঁস, ঘোড়া, টিয়া, মাছ ও দোয়েল পাখির আকৃতির নানা পণ্য। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে মাটির ব্যাংক, মগ, প্লাস, প্লেট, চায়ের কাপসহ নানা ধরনের ঘরোয়া ব্যবহার্য সামগ্রী।

পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী কুমোরপাড়া গ্রামের গণেশ পাল বলেন, এটা আমাদের বাপ-দাদার পেশা। তাদের দেখাদেশি পেটের তাগিদে আমরাও এই করে যাচ্ছি। কিন্তু যে পরিমাণ খরচ ও পরিশ্রম হয়, তাতে এখন আর তেমন লাভ থাকে না।

স্থানীয় বাসিন্দা সাগর পাল জানান, মৃৎশিল্পের প্রধান উপকরণ এঁটেল মাটি এখন সহজে পাওয়া যায় না। অনেক সময় দূর-দূরান্ত থেকে মাটি আনতে হয়, এতে খরচও বেড়ে যায় এবং নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। এ ছাড়া প্লাস্টিকসহ আধুনিক বিভিন্ন পণ্যের কারণে মাটির জিনিসের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতি বছর বৈশাখী মেলা উপলক্ষে তাদের তৈরি মাটির পণ্যের বিক্রি বাড়ে। তাই এই সময়টাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই মিলে কাজ করেন। তবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং আধুনিক পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে আগের মতো লাভ হচ্ছে না বলেও জানান তারা। তবু শত প্রতিক‚লতার মধ্যেও শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে মৃৎশিল্পীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে তাদের এই কর্মব্যস্ততা গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, স্বল্পসুদে ঋণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সহায়তা দেওয়া হলে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প আবারও নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, কুমারপাড়ার উন্নয়ন বা সহায়তা চেয়ে যোগদানের পর লিখিত কোনো আবেদন পাইনি। আবেদন পেলে এবং আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে মাটির সংকটসহ বিরাজমান সমস্যাসমূহ নিরসনের জন্য চেষ্টা করব।