ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব কর্মকর্তা ইকরামের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নাই পিএসএল থেকে দুই আসরের জন্য নিষিদ্ধ জিম্বাবুয়ের পেসার মোস্তাক আহমেদ-রাহাত মুসলেমীনের কারসাজিতে ৩০ লাখের কাজ ২.১৬ কোটি ঢাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ, গরম উপেক্ষা করে মানুষের ঢল লোহাগড়ায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ৬০টি গরুর হদিস নেই, সুবিধাভোগীদের তালিকা দিলেন না মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম ‘মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রতিনিয়ত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রকৌশলীকে বাঁশ নিয়ে তাড়া করলেন ঠিকাদার বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে বোরহানউদ্দিনে বর্ণাঢ্য আয়োজন লিফট দেখতে গ্রিস গেলেন শাবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলী ৪১৫ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মে জড়িত সোনালী ব্যাংক এমডি শওকত আলী খান

বরগুনায় অঙ্কুরেই ঝড়ে গেলো ফুলের মতো শিশু আদিল। বাবা মায়ের স্বপ্ন  অধরাই রয়ে গেলো। 

ছোট্ট  ফুটফুটে শিশু আদিল । যেনো ফোটার আগেই অঙ্কুরে ঝড়ে যাওয়া নিষ্পাপ এক ফুল। ছোট্ট  বয়সেই তাঁকে স্তব্দ করে দিল।
প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ মায়া পিছনে ফেলে অনিন্দ্য সুন্দর আদিল  বাড়ির আঙিনায় অন্ধকার মাটির ঘরে আজ চিরঘুমে। বরগুনার বেতাগী উপজেলার  সরিষামুড়িতে  ইউনিয়নের ব্যাবসায়ী সোহাগ হাওলাদারের  ঘর আলোকিত করে জন্ম নিয়েছিল ছেলে আদিল ।
আদরের  ছেলেকে ঘিরে হাজারো স্বপ্নের জাল বুনতেন বাবা-মা। আদিল  বড় হয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে একদিন আলোকিত আদর্শ মানুষ হবেন। বৃদ্ধকালীণ বাবা-মায়ের অবলম্বন হবেন। পৈত্রিক ভিটায় জ্বালাবেন আলো।  আদরে-সোহাগে প্রিয় সন্তানটি দিন দিন বড় হয়ে উঠবে। তারা দুই  ভাই  এক সঙ্গে খেলবে,স্কুলে যাবে।
কিন্তু বাবা-মা’র  সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল।   মহান আল্লাহ  শিশু আদিলকে কেড়ে নিয়ে তাদের সব স্বপ্ন তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে তছনছ করে দিল।
উন্নত চিকিৎসার জন্য  তাঁকে  ঢাকার হাসপাতালে নেওয়া  হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে আদিল  মারা যায়। তার এ চলে যাওয়া অঙ্কুরে ঝড়ে পড়া ফুলের মত। আদিলকে হারিয়ে পরিবারে বইছে শোকের মাতম। বাবা-মায়ের  কান্না-আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
বরগুনা বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের  গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে বাড়ির আঙিনায় কবরস্থানে তাকে চির নিন্দ্রায় শায়িত করা হয়। দাফনের পর বার বার ছেলের কবরের কাছে ছুটে গিয়ে বাবা-মা কান্না-বিলাপ করছেন। তাদের ছেড়ে কিভাবে ছোট্ট শিশু পুত্র একা অন্ধকার কবরে থাকবে এ কথা বলে বিলাপ করেন। তাদের কান্না উপস্থিত সবাইকে অশ্রুসিক্ত করছে।
আদিলের  বাবা সোহাগ হাওলাদার  আক্ষেপ করে কান্নাভেজা কন্ঠে বলেন,  বাবার কাঁধে সন্তানের লাশের চেয়ে ভারী পৃথিবীতে আর কিছু নেই। তিনি ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। আদিলের মা ” আঁখি নূর ”  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা। তাঁর বড় ছেলেটাও মানষিক প্রতিবন্ধী। শিশু আদিলকে হারিয়ে শিক্ষিকা মায়ের কান্নায় আকাশ – বাতাস যেনো ভারি হয়ে গেছে। তাদের সান্ত্বনা দেবার ভাষা নেই।
এদিকে বরগুনা জেলার গ্লোবাল এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বরগুনা জেলা ওলামা দলের সংগ্রামী সদস্য সচিব এবং গৌরিচন্না বাজার কেন্দ্রীয় জামেমসজিদের সেক্রেটারি  জনাব মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব  শিশু আদিলের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা  জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব কর্মকর্তা ইকরামের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নাই

বরগুনায় অঙ্কুরেই ঝড়ে গেলো ফুলের মতো শিশু আদিল। বাবা মায়ের স্বপ্ন  অধরাই রয়ে গেলো। 

আপডেট সময় ০৬:২৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
ছোট্ট  ফুটফুটে শিশু আদিল । যেনো ফোটার আগেই অঙ্কুরে ঝড়ে যাওয়া নিষ্পাপ এক ফুল। ছোট্ট  বয়সেই তাঁকে স্তব্দ করে দিল।
প্রকৃতির রূপ, রস, গন্ধ মায়া পিছনে ফেলে অনিন্দ্য সুন্দর আদিল  বাড়ির আঙিনায় অন্ধকার মাটির ঘরে আজ চিরঘুমে। বরগুনার বেতাগী উপজেলার  সরিষামুড়িতে  ইউনিয়নের ব্যাবসায়ী সোহাগ হাওলাদারের  ঘর আলোকিত করে জন্ম নিয়েছিল ছেলে আদিল ।
আদরের  ছেলেকে ঘিরে হাজারো স্বপ্নের জাল বুনতেন বাবা-মা। আদিল  বড় হয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে একদিন আলোকিত আদর্শ মানুষ হবেন। বৃদ্ধকালীণ বাবা-মায়ের অবলম্বন হবেন। পৈত্রিক ভিটায় জ্বালাবেন আলো।  আদরে-সোহাগে প্রিয় সন্তানটি দিন দিন বড় হয়ে উঠবে। তারা দুই  ভাই  এক সঙ্গে খেলবে,স্কুলে যাবে।
কিন্তু বাবা-মা’র  সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল।   মহান আল্লাহ  শিশু আদিলকে কেড়ে নিয়ে তাদের সব স্বপ্ন তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে তছনছ করে দিল।
উন্নত চিকিৎসার জন্য  তাঁকে  ঢাকার হাসপাতালে নেওয়া  হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে আদিল  মারা যায়। তার এ চলে যাওয়া অঙ্কুরে ঝড়ে পড়া ফুলের মত। আদিলকে হারিয়ে পরিবারে বইছে শোকের মাতম। বাবা-মায়ের  কান্না-আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
বরগুনা বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের  গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে বাড়ির আঙিনায় কবরস্থানে তাকে চির নিন্দ্রায় শায়িত করা হয়। দাফনের পর বার বার ছেলের কবরের কাছে ছুটে গিয়ে বাবা-মা কান্না-বিলাপ করছেন। তাদের ছেড়ে কিভাবে ছোট্ট শিশু পুত্র একা অন্ধকার কবরে থাকবে এ কথা বলে বিলাপ করেন। তাদের কান্না উপস্থিত সবাইকে অশ্রুসিক্ত করছে।
আদিলের  বাবা সোহাগ হাওলাদার  আক্ষেপ করে কান্নাভেজা কন্ঠে বলেন,  বাবার কাঁধে সন্তানের লাশের চেয়ে ভারী পৃথিবীতে আর কিছু নেই। তিনি ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। আদিলের মা ” আঁখি নূর ”  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা। তাঁর বড় ছেলেটাও মানষিক প্রতিবন্ধী। শিশু আদিলকে হারিয়ে শিক্ষিকা মায়ের কান্নায় আকাশ – বাতাস যেনো ভারি হয়ে গেছে। তাদের সান্ত্বনা দেবার ভাষা নেই।
এদিকে বরগুনা জেলার গ্লোবাল এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বরগুনা জেলা ওলামা দলের সংগ্রামী সদস্য সচিব এবং গৌরিচন্না বাজার কেন্দ্রীয় জামেমসজিদের সেক্রেটারি  জনাব মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব  শিশু আদিলের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা  জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।