ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি সরকার জনগণের কল্যাণের সরকার- সেলিমুজ্জামান এম,পি দর্শক ফেরাতে আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন পিসিবি প্রধান রাজশাহীর মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, মানববন্ধনে ক্ষোভ হাম উপসর্গে বরিশালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার গুঞ্জন ঠাকুরগাঁওয়ে বিতর্কিত পিআইও নুরুন্নবী বদলি: এলাকায় স্বস্তি, তদন্তের দাবি পটুয়াখালীতে সংস্কার কাজে অনিয়ম, ঝুঁকিতে গ্রামীণ সড়কের স্থায়িত্ব বোদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ রেল টেন্ডারে কারসাজি: প্রকৌশলী শাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

লোহাগড়ায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ৬০টি গরুর হদিস নেই, সুবিধাভোগীদের তালিকা দিলেন না মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম

নড়াইলের লোহাগড়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জেলেদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ৬০টি গরুর কোনো হদিস মিলছে না।

সরকারের এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে চরম গোপনীয়তা অবলম্বন করছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান।

চলতি অর্থবছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নিবন্ধিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জেলেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ৬০টি গরু ও গোখাদ্য বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব গবাদিপশু প্রকৃত জেলেদের মধ্যে হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তবে কাদের মধ্যে গরুগুলো দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে স্থানীয় সাংবাদিকরা সুবিধাভোগীদের তালিকা ও বিতরণের বিস্তারিত জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খানের কার্যালয়ে গেলে তিনি অসহযোগিতা করেন। সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহায়তা না করে উল্টো ক্ষুব্ধ হয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান সাংবাদিকদের বলেন, ৬০টি গরু জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তবে আমার কাছে বর্তমানে সুবিধাভোগীদের কোনো তালিকা নেই। তালিকা আমি প্রকল্প অফিসে জমা দিয়ে দিয়েছি। আমি আপনাদের কোনো তালিকা দিতে পারব না।

একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছে নিজ দপ্তরের চলমান প্রকল্পের তালিকা না থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের গরু না দিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে অথবা অনিয়মের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের তালিকা অবশ্যই উপজেলা মৎস্য অফিসে থাকার কথা। কেন তিনি সাংবাদিকদের তালিকা দিচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং পরে আপনাদের জানানো হবে।

সরকারি প্রকল্পের ৬০টি গরু বিতরণে এমন অস্বচ্ছতা এবং কর্মকর্তার রহস্যজনক আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে সরকারের লক্ষ্য প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন, সেখানে প্রকল্পের তথ্য গোপন করার পেছনে মূল রহস্য কী? তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি সরকার জনগণের কল্যাণের সরকার- সেলিমুজ্জামান এম,পি

লোহাগড়ায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ৬০টি গরুর হদিস নেই, সুবিধাভোগীদের তালিকা দিলেন না মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম

আপডেট সময় ০৩:২৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

নড়াইলের লোহাগড়ায় দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জেলেদের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ৬০টি গরুর কোনো হদিস মিলছে না।

সরকারের এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে চরম গোপনীয়তা অবলম্বন করছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান।

চলতি অর্থবছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নিবন্ধিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জেলেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ৬০টি গরু ও গোখাদ্য বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব গবাদিপশু প্রকৃত জেলেদের মধ্যে হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তবে কাদের মধ্যে গরুগুলো দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে স্থানীয় সাংবাদিকরা সুবিধাভোগীদের তালিকা ও বিতরণের বিস্তারিত জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খানের কার্যালয়ে গেলে তিনি অসহযোগিতা করেন। সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহায়তা না করে উল্টো ক্ষুব্ধ হয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান সাংবাদিকদের বলেন, ৬০টি গরু জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তবে আমার কাছে বর্তমানে সুবিধাভোগীদের কোনো তালিকা নেই। তালিকা আমি প্রকল্প অফিসে জমা দিয়ে দিয়েছি। আমি আপনাদের কোনো তালিকা দিতে পারব না।

একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছে নিজ দপ্তরের চলমান প্রকল্পের তালিকা না থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের গরু না দিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে অথবা অনিয়মের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের তালিকা অবশ্যই উপজেলা মৎস্য অফিসে থাকার কথা। কেন তিনি সাংবাদিকদের তালিকা দিচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং পরে আপনাদের জানানো হবে।

সরকারি প্রকল্পের ৬০টি গরু বিতরণে এমন অস্বচ্ছতা এবং কর্মকর্তার রহস্যজনক আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে সরকারের লক্ষ্য প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন, সেখানে প্রকল্পের তথ্য গোপন করার পেছনে মূল রহস্য কী? তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।