ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবিধান পুরোপুরি বাতিল করার সুযোগ নেই, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে এবার পরীক্ষায় নকল হবে না : শিক্ষামন্ত্রী সোনারগাঁয়ে মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা এক হাজার অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ধ্বংসস্তূপ ভবন, নিহত ৪ কর্মজীবনের শেষ যাত্রায় ভালোবাসার বহর, ঘোড়ার গাড়িতে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে ব্যতিক্রমী বিদায় প্রাচীন ইতিহাসের রূপায়ণে বেরোবিতে দিনব্যাপী প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব মানবাধিকার কর্মী শুভ্রর নিরাপত্তা চেয়ে সরকার প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা জমি বিরোধে গৃহবধূকে মারধর, বসতবাড়ি ভাঙচুর: আতঙ্কে এলাকাবাসী পলাশে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির ৯টি প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের

দেবীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা; ১১ দিনে ২৩ জনের জেল

দেবীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা; ১১ দিনে ২৩ জনের জেল
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছিল। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে টানা অভিযান চালাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ।
গত ১১ দিনে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল মালিকের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে ২৩ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের তথ্যমতে, ২৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে ২৫ মার্চ দন্ডপাল ইউনিয়নে একজন, ২৮ মার্চ দেবীগঞ্জ পৌর এলাকায় একজন এবং ২৯ মার্চ পৃথক অভিযানে আরও তিনজন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়। একইদিনে পৌরসভার নতুন বন্দর এলাকা ও পামুলী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ৩০ মার্চ পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ১ এপ্রিল আরও একজনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৪ এপ্রিল চিলাহাটি ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে ১১ জনকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল দেবীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চিলাহাটি ইউনিয়নের নগর ভাউলাগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযানে এলাকায় মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দেবীগঞ্জে মাদকের উপদ্রব অনেকাংশে কমে আসবে।
স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী নাজমুস সাকিব মুন বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই উদ্যোগে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে। অভিযানটি ধারাবাহিকভাবে চললে সুফল পাওয়া যাবে। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল মালিক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক নির্মূলে পুলিশ এবং প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে গত ১১ দিনে ২৩ জন মাদকসেবীকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সামনে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান পুরোপুরি বাতিল করার সুযোগ নেই, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে

দেবীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা; ১১ দিনে ২৩ জনের জেল

আপডেট সময় ০৫:০৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
দেবীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা; ১১ দিনে ২৩ জনের জেল
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছিল। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে টানা অভিযান চালাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ।
গত ১১ দিনে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল মালিকের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে ২৩ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের তথ্যমতে, ২৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে ২৫ মার্চ দন্ডপাল ইউনিয়নে একজন, ২৮ মার্চ দেবীগঞ্জ পৌর এলাকায় একজন এবং ২৯ মার্চ পৃথক অভিযানে আরও তিনজন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়। একইদিনে পৌরসভার নতুন বন্দর এলাকা ও পামুলী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ৩০ মার্চ পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ১ এপ্রিল আরও একজনকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৪ এপ্রিল চিলাহাটি ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে ১১ জনকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল দেবীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চিলাহাটি ইউনিয়নের নগর ভাউলাগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে ৩০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযানে এলাকায় মাদক কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দেবীগঞ্জে মাদকের উপদ্রব অনেকাংশে কমে আসবে।
স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী নাজমুস সাকিব মুন বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই উদ্যোগে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিলছে। অভিযানটি ধারাবাহিকভাবে চললে সুফল পাওয়া যাবে। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল মালিক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক নির্মূলে পুলিশ এবং প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে গত ১১ দিনে ২৩ জন মাদকসেবীকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সামনে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে।