ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংসদে ‘ভোটার তালিকা সংশোধন বিল ২০২৬’ পাস সংবিধান পুরোপুরি বাতিল করার সুযোগ নেই, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে এবার পরীক্ষায় নকল হবে না : শিক্ষামন্ত্রী সোনারগাঁয়ে মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা এক হাজার অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ধ্বংসস্তূপ ভবন, নিহত ৪ কর্মজীবনের শেষ যাত্রায় ভালোবাসার বহর, ঘোড়ার গাড়িতে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে ব্যতিক্রমী বিদায় প্রাচীন ইতিহাসের রূপায়ণে বেরোবিতে দিনব্যাপী প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব মানবাধিকার কর্মী শুভ্রর নিরাপত্তা চেয়ে সরকার প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা জমি বিরোধে গৃহবধূকে মারধর, বসতবাড়ি ভাঙচুর: আতঙ্কে এলাকাবাসী পলাশে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

প্রাচীন ইতিহাসের রূপায়ণে বেরোবিতে দিনব্যাপী প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)-তে আয়োজিত প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে মধ্য ও প্রাচীন যুগের ইতিহাস এবং বিভিন্ন প্রত্নস্থানের চিত্র।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বর ও কবি হেয়াত মামুদ ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একদিনব্যাপী এই প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী। প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবটি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। প্রত্ন প্রদর্শনী উৎসবে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা দেখতে ভিড় করছে।
প্রত্ন প্রদর্শনী গুলোর মধ্যে ছিল সোমপুর বিহার, বন দূর্গ, শালবনবিহার, মহাস্থানগড়ের নগর, গৌড় নগরী, রামকেলি মন্দির ষাট গম্বুজ, কুসুম্বা মসজিদ,কান্তজি মন্দির, স্থল দূর্গ, জল দূর্গ, আনন্দবিহার, ভাসুবিহার, প্রাচীন আরব নগরী, লালকেল্লা, খাজা শাহবাজ মাজার, খলিফাবাদ নগরী ও মুগল আমলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূর্গসমূহ মতো প্রত্নস্থান প্রদর্শনীতে দেখানো হয়।
এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী খাবার এ উৎসব মেলায় প্রদর্শনীতে
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আশমীরা আলম প্রান্ত বলেন, আমরা প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থী আমরা চাই শুধু প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে আমরা কেন জানব। সকলে যেন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান সম্পর্কে সুন্দর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে সে উদ্দেশ্য আমার প্রত্ন প্রদর্শনীয় ও ঐতিহ্য উৎসব । আমরা চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন প্রত্নস্থান সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ সম্পর্কে জানতে পারে এবং এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে।
প্রত্ন প্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব দেখতে আসা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মোঃ হারুন – আল রশিদ বলেন, প্রদর্শনীতে ঢোকার পরে আমি খুব অভিভূত আসলে আমরা সাধারণত পত্রপত্রিকা ও বই-পুস্তক এসব ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেখতাম। সবার সব জায়গায় গিয়ে দেখার সুযোগ হয় না৷ এখানে এসে আমার মনে হচ্ছে আমি যেন ওই সময় ওই জায়গায় ফিরে গিয়েছি, এটা অন্যরকম অনুভূতি। তারা এটা সুন্দর ভাবে ঐতিহাসিক প্রত্ন স্থানগুলো তুলে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত এই বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে হাইলাইটস করা এবং এই ধারাটা অব্যাহত থাক।
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী বলেন, শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে যে বাস্তব জ্ঞান সেটা ছড়ায়ে দেওয়া। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষ্য নিয়ে আমাদের আজকের এই প্রদর্শনী উৎসবের আয়োজন। এখানে আমরা প্রত্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন সমূহ প্রদর্শনীর পাশাপাশি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পোশাক প্রেজেন্ট করছি, ফলে সামগ্রিক ভাবে পুরো দেশের ঐতিহ্য এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে ‘ভোটার তালিকা সংশোধন বিল ২০২৬’ পাস

প্রাচীন ইতিহাসের রূপায়ণে বেরোবিতে দিনব্যাপী প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব

আপডেট সময় ০৬:৩৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)-তে আয়োজিত প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবে জীবন্ত হয়ে উঠেছে মধ্য ও প্রাচীন যুগের ইতিহাস এবং বিভিন্ন প্রত্নস্থানের চিত্র।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বর ও কবি হেয়াত মামুদ ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে একদিনব্যাপী এই প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী। প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসবটি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। প্রত্ন প্রদর্শনী উৎসবে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা দেখতে ভিড় করছে।
প্রত্ন প্রদর্শনী গুলোর মধ্যে ছিল সোমপুর বিহার, বন দূর্গ, শালবনবিহার, মহাস্থানগড়ের নগর, গৌড় নগরী, রামকেলি মন্দির ষাট গম্বুজ, কুসুম্বা মসজিদ,কান্তজি মন্দির, স্থল দূর্গ, জল দূর্গ, আনন্দবিহার, ভাসুবিহার, প্রাচীন আরব নগরী, লালকেল্লা, খাজা শাহবাজ মাজার, খলিফাবাদ নগরী ও মুগল আমলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূর্গসমূহ মতো প্রত্নস্থান প্রদর্শনীতে দেখানো হয়।
এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী খাবার এ উৎসব মেলায় প্রদর্শনীতে
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আশমীরা আলম প্রান্ত বলেন, আমরা প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থী আমরা চাই শুধু প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে আমরা কেন জানব। সকলে যেন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান সম্পর্কে সুন্দর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে সে উদ্দেশ্য আমার প্রত্ন প্রদর্শনীয় ও ঐতিহ্য উৎসব । আমরা চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন প্রত্নস্থান সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ সম্পর্কে জানতে পারে এবং এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে।
প্রত্ন প্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব দেখতে আসা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. মোঃ হারুন – আল রশিদ বলেন, প্রদর্শনীতে ঢোকার পরে আমি খুব অভিভূত আসলে আমরা সাধারণত পত্রপত্রিকা ও বই-পুস্তক এসব ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেখতাম। সবার সব জায়গায় গিয়ে দেখার সুযোগ হয় না৷ এখানে এসে আমার মনে হচ্ছে আমি যেন ওই সময় ওই জায়গায় ফিরে গিয়েছি, এটা অন্যরকম অনুভূতি। তারা এটা সুন্দর ভাবে ঐতিহাসিক প্রত্ন স্থানগুলো তুলে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত এই বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে হাইলাইটস করা এবং এই ধারাটা অব্যাহত থাক।
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সোহাগ আলী বলেন, শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে যে বাস্তব জ্ঞান সেটা ছড়ায়ে দেওয়া। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষ্য নিয়ে আমাদের আজকের এই প্রদর্শনী উৎসবের আয়োজন। এখানে আমরা প্রত্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন সমূহ প্রদর্শনীর পাশাপাশি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পোশাক প্রেজেন্ট করছি, ফলে সামগ্রিক ভাবে পুরো দেশের ঐতিহ্য এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।