টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাকু্ল্লা শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। যুগের পর যুগ ধরে মন্দির টি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভক্তির মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে। স্হানীয় মানুষের কাছে মন্দির টি আধ্যাত্নিক কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
১১৯৫ বঙ্গাব্দে রাম মোহন সাহা ও গৌর মোহন সাহা দুই ভাই মিলে মন্দির টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৪২৩ বঙ্গাব্দে স্হানীয় মানুষেরা মিলে মন্দিরটির অবকাঠামো উন্নয়ন করেন। মন্দিরটির স্হাপত্যশৈলীতে রয়েছে প্রাচীনত্নের ছাপ। মন্দিরে নির্মাণ কৌশল ও শিল্পরুচির পরিচয়ে ঐতিহ্য বহন করে। সময়ের বিবর্তনে কিছু সংস্কার হলেও মূল কাঠামো ঐতিহ্য অটুট রাখা হয়েছে।
শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দিরে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গীতা পাঠ, শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী, দোলযাত্রা, মহানামযজ্ঞ ও অষ্টকালীন লীলা কীর্তন সহ সারা বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। মন্দির প্রাঙ্গণে একটি গ্রন্থাগার, অতিথিশালা, নাট মন্দির, শিব মন্দির ও রন্ধন শালা আছে। মন্দিরের মধ্যে বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিকৃতি নিপুণ ভাবে তৈরি করা হয়েছে। পুন্যার্থী ও দশনার্থীদের আকর্ষণ করার জন্য মন্দিরটিতে সোনালী রঙের প্রলেপ দেয়া হয়েছে। তাই স্হানীয়দের কাছে স্বর্ণ মন্দির নামে পরিচিত।
শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির শুধু একটি পূজা স্হল নয়। এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে আড়াই শত বছরের ইতিহাস, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির এক অমূল্য নিদর্শন। প্রজন্মের পর প্রজন্মের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা মন্দির টি বহন করে চলছে।
শ্রী শ্রী কালাচাঁদ মন্দির শুধু ধর্মীয় চর্চার ক্ষেত্রেই নয়। সামাজিক, সংস্কৃতি ও ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
স্হানীয় সনাতন ধর্মের মানুষের কাছে মন্দির টি ধর্মীয়, সামাজিক ও সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়েছে।
অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টার 























